ঢাকা ১২:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

গোপনে ঈদের কেনাকাটা করলে জরিমানা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ঝুঁকি এড়াতে রাজশাহী জেলা ও মহানগরের মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রশাসনের। কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে এখনো কিছু কিছু ব্যবসায়ী কৌশলে দোকান খুলছেন। তারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকছেন। ক্রেতা ধরে দোকান থেকে মালামাল এনে দিচ্ছেন।

এভাবে তাদের কাছ থেকে গোপনে যারা ঈদের কেনাকাটা করছেন তাদেরও ধরে ধরে জরিমানা করছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল নগরীর সাহেববাজার এলাকায় এভাবে বেশ কয়েজনককে জরিমানা করতে দেখা যায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত আমান আজিজকে। দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় তার অভিযান অব্যাহত ছিল। হাতে শপিং ব্যাগ দেখে সকালে সাহেববাজার এলাকায় এক তরুণের পথ আটকায় পুলিশ। এ সময় তার ব্যাগে পাওয়া যায় একটি নতুন প্যান্ট। ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত আমান ওই তরুণের কাছে জানতে চান কোন দোকান থেকে কিনে আনলেন। ওই তরুণ বলেন, স্যার, দোকানটা বন্ধ করে দিয়েছে। তিনি ঠিকানা জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। তাই তাকে ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

একই সময় সাহেববাজার এলাকায় দুই নারীকে হেঁটে যেতে দেখে তাদের আটকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত আমানের কাছে স্বীকার করেন তারা ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছেন। কিন্তু এটি তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার বলে মন্তব্য করেন। তখন ম্যাজিস্ট্রেট তাদের ৩০০ করে ৬০০ টাকা জরিমানা করেন।

এছাড়া সাহেববাজার ওভারব্রিজ সংলগ্ন একটি কাপড়ের দোকান থেকে পোশাক বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক ব্যবসায়ীকে এক হাজার টাকা জরিমানা করেন। এভাবে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। তবে সকালে নিউমার্কেটের ভিতর থেকে ব্যবসায়ীদের মালামাল এনে দিতে দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা নিউমার্কেটের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। কেউ সেদিকে গেলে জানতে চাইছেন কী লাগবে। এরপর দোকান থেকে এনে দিচ্ছেন।

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধে আগেই সারা দেশের মার্কেট-দোকানপাট বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু গত ১০ মে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খোলার সিদ্ধান্ত আসে।

এরপর সামাজিক দূরত্ব না মেনেই ব্যবসা করছিলেন রাজশাহীর দোকানিরা। এ অবস্থায় গত সোমবার জেলা আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় ওষুধ, জরুরি সেবা, খাবার ও কাঁচাবাজার ছাড়া রাজশাহীর সব দোকানপাট বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর মঙ্গলবার থেকে নগরীতে অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরাও মাঠে আছেন। বিনাপ্রয়োজনে ঘোরাফেরা করলে জরিমানার পাশাপাশি রাস্তায় ১৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত দাঁড় করিয়ে রেখে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

গোপনে ঈদের কেনাকাটা করলে জরিমানা

আপডেট সময় ০১:০১:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ঝুঁকি এড়াতে রাজশাহী জেলা ও মহানগরের মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রশাসনের। কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে এখনো কিছু কিছু ব্যবসায়ী কৌশলে দোকান খুলছেন। তারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকছেন। ক্রেতা ধরে দোকান থেকে মালামাল এনে দিচ্ছেন।

এভাবে তাদের কাছ থেকে গোপনে যারা ঈদের কেনাকাটা করছেন তাদেরও ধরে ধরে জরিমানা করছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল নগরীর সাহেববাজার এলাকায় এভাবে বেশ কয়েজনককে জরিমানা করতে দেখা যায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত আমান আজিজকে। দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় তার অভিযান অব্যাহত ছিল। হাতে শপিং ব্যাগ দেখে সকালে সাহেববাজার এলাকায় এক তরুণের পথ আটকায় পুলিশ। এ সময় তার ব্যাগে পাওয়া যায় একটি নতুন প্যান্ট। ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত আমান ওই তরুণের কাছে জানতে চান কোন দোকান থেকে কিনে আনলেন। ওই তরুণ বলেন, স্যার, দোকানটা বন্ধ করে দিয়েছে। তিনি ঠিকানা জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। তাই তাকে ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

একই সময় সাহেববাজার এলাকায় দুই নারীকে হেঁটে যেতে দেখে তাদের আটকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত আমানের কাছে স্বীকার করেন তারা ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছেন। কিন্তু এটি তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার বলে মন্তব্য করেন। তখন ম্যাজিস্ট্রেট তাদের ৩০০ করে ৬০০ টাকা জরিমানা করেন।

এছাড়া সাহেববাজার ওভারব্রিজ সংলগ্ন একটি কাপড়ের দোকান থেকে পোশাক বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক ব্যবসায়ীকে এক হাজার টাকা জরিমানা করেন। এভাবে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। তবে সকালে নিউমার্কেটের ভিতর থেকে ব্যবসায়ীদের মালামাল এনে দিতে দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা নিউমার্কেটের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। কেউ সেদিকে গেলে জানতে চাইছেন কী লাগবে। এরপর দোকান থেকে এনে দিচ্ছেন।

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধে আগেই সারা দেশের মার্কেট-দোকানপাট বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু গত ১০ মে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খোলার সিদ্ধান্ত আসে।

এরপর সামাজিক দূরত্ব না মেনেই ব্যবসা করছিলেন রাজশাহীর দোকানিরা। এ অবস্থায় গত সোমবার জেলা আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় ওষুধ, জরুরি সেবা, খাবার ও কাঁচাবাজার ছাড়া রাজশাহীর সব দোকানপাট বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর মঙ্গলবার থেকে নগরীতে অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরাও মাঠে আছেন। বিনাপ্রয়োজনে ঘোরাফেরা করলে জরিমানার পাশাপাশি রাস্তায় ১৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত দাঁড় করিয়ে রেখে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।