ঢাকা ০৫:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

করোনা রোগীকে সেবা দেওয়া চিকিৎসককে তালাবদ্ধ করে রাখার হুমকি!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনা চিকিৎসা দিয়ে বিপাকে পড়েছেন মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের কার্ডিওলোজি চিকিৎসক এম এ রশীদ। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে অমানবিক আচরণ সহ্য করতে হচ্ছে তাঁকে।

জানা গেছে, গত ২২ এপ্রিল মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে মুজিবনগর উপজেলার ভবরপাড়া গ্রামের ইদ্রিস আলী (৩৬) নামের এক ব্যক্তি মারা যায়। মৃত্যু’র পূর্বে তার চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন কার্ডিওলোজি চিকিৎসক এম এ রশীদ। পরে মৃত ব্যক্তির করোনা টেস্ট পজেটিভ আসার পর থেকে তিনি ও তার পরিবার পৃথকভাবে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। দু’বার নমুনা পরীক্ষা করে ফলাফল নেগেটিভ আসলেও তিনি চুয়াডাঙ্গা শহরের যে বাসায় আছেন সেখানকার কয়েকজন অমানবিক আচরণ করছেন তার পরিবারের সঙ্গে। এছাড়া চিকিৎসক পরিবারের উপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তাদেরকে তালাবদ্ধ করে রাখার হুমকি দেয়া হয়েছে ।

মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের কার্ডিওলোজি চিকিৎসক এম এ রশীদ বলেন, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরের পুলিশ সুপারের আন্তরিক সহযোগিতায় বর্তমানে সমস্যা সমাধান হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মো: জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি যেন কোন প্রকার বিড়ম্বনায় না পড়েন সেজন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এর আগে কার্ডিওলোজি চিকিৎসক এম এ রশীদ ফেসবুকে লিখেছিলেন, মানব সেবার ব্রত নিয়ে চিকিৎসা পেশায় এসেছি। শুধু করোনা নয় যেকোনো রুগীদের চিকিৎসায় আমি ভয় পাই না। আজ নবম দিন হল কোয়ারেন্টাইনে আছি । একটি ফ্ল্যাটে একা বন্দি অবস্থায় দিন কাটছে। প্রিয় সন্তানের মুখ দেখি না। খুব আদর করতে ইচ্ছা করে, কাছে টানতে পারি না। কতদিন হল সূর্যের আলো দেখি না । ঝুম ঝুম বৃষ্টির আওয়াজ কানে আসে, জানালা খোলার সাহস হয় না। কারণ আমি নিজে যেমন আমার শরীর নিয়ে ভাবি, আমার দ্বারা অন্য কেউ যেন আক্রান্ত না হয় সেটা নিয়েও ভাবি। যদিও আমার করোনা টেস্টে ফলাফল নেগেটিভ। এরই মাঝে আমার প্রতিবেশীদের কাছ থেকে অমানবিক আচরণ আমাকে ভীষণ কষ্ট দিয়েছে। ফ্ল্যাটের সব ভাড়াটিয়া মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমাকে নাকি তালা দিয়ে রাখা হবে। আমিতো চুরি, ডাকাতি, খুন, রাহাজানি করি নাই। মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আজ কোয়ারেন্টাইনে আছি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

করোনা রোগীকে সেবা দেওয়া চিকিৎসককে তালাবদ্ধ করে রাখার হুমকি!

আপডেট সময় ০২:১৪:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনা চিকিৎসা দিয়ে বিপাকে পড়েছেন মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের কার্ডিওলোজি চিকিৎসক এম এ রশীদ। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে অমানবিক আচরণ সহ্য করতে হচ্ছে তাঁকে।

জানা গেছে, গত ২২ এপ্রিল মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে মুজিবনগর উপজেলার ভবরপাড়া গ্রামের ইদ্রিস আলী (৩৬) নামের এক ব্যক্তি মারা যায়। মৃত্যু’র পূর্বে তার চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন কার্ডিওলোজি চিকিৎসক এম এ রশীদ। পরে মৃত ব্যক্তির করোনা টেস্ট পজেটিভ আসার পর থেকে তিনি ও তার পরিবার পৃথকভাবে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। দু’বার নমুনা পরীক্ষা করে ফলাফল নেগেটিভ আসলেও তিনি চুয়াডাঙ্গা শহরের যে বাসায় আছেন সেখানকার কয়েকজন অমানবিক আচরণ করছেন তার পরিবারের সঙ্গে। এছাড়া চিকিৎসক পরিবারের উপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তাদেরকে তালাবদ্ধ করে রাখার হুমকি দেয়া হয়েছে ।

মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের কার্ডিওলোজি চিকিৎসক এম এ রশীদ বলেন, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরের পুলিশ সুপারের আন্তরিক সহযোগিতায় বর্তমানে সমস্যা সমাধান হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মো: জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি যেন কোন প্রকার বিড়ম্বনায় না পড়েন সেজন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এর আগে কার্ডিওলোজি চিকিৎসক এম এ রশীদ ফেসবুকে লিখেছিলেন, মানব সেবার ব্রত নিয়ে চিকিৎসা পেশায় এসেছি। শুধু করোনা নয় যেকোনো রুগীদের চিকিৎসায় আমি ভয় পাই না। আজ নবম দিন হল কোয়ারেন্টাইনে আছি । একটি ফ্ল্যাটে একা বন্দি অবস্থায় দিন কাটছে। প্রিয় সন্তানের মুখ দেখি না। খুব আদর করতে ইচ্ছা করে, কাছে টানতে পারি না। কতদিন হল সূর্যের আলো দেখি না । ঝুম ঝুম বৃষ্টির আওয়াজ কানে আসে, জানালা খোলার সাহস হয় না। কারণ আমি নিজে যেমন আমার শরীর নিয়ে ভাবি, আমার দ্বারা অন্য কেউ যেন আক্রান্ত না হয় সেটা নিয়েও ভাবি। যদিও আমার করোনা টেস্টে ফলাফল নেগেটিভ। এরই মাঝে আমার প্রতিবেশীদের কাছ থেকে অমানবিক আচরণ আমাকে ভীষণ কষ্ট দিয়েছে। ফ্ল্যাটের সব ভাড়াটিয়া মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমাকে নাকি তালা দিয়ে রাখা হবে। আমিতো চুরি, ডাকাতি, খুন, রাহাজানি করি নাই। মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আজ কোয়ারেন্টাইনে আছি।