ঢাকা ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানে সিনেটর হিসেবে লড়বেন হিন্দু নারী

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

কিস্তানে প্রথমবারের মতো সিনেটর পদের জন্য লড়তে যাচ্ছেন সংখ্যালঘু দলিত হিন্দু নারী কৃষ্ণাকুমারী কোহলি। ৩৯ বছর বয়সী এই নারী সিন্ধু প্রদেশ থেকে সংখ্যালঘু সিনেটরের আসনে পিপিপি’র হয়ে নির্বাচনে লড়বে। ইতোমধ্যে তার সমস্ত কাগজপত্র গ্রহণ করেছে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন। আগামী তিন মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সিন্ধু প্রদেশের থার এলাকার বাসিন্দা কৃষ্ণাকুমারী সিনেটর হিসেবে জিতলে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট দেশটিতে তিনিই হবেন প্রথম কোনো হিন্দু নারী সিনেটর। এর আগে পিপিপি’র হয়ে ২০০৯ সালে পাকিস্তানের প্রথম দলিত সিনেটর হন খটুমল জীবন। একই দলের হয়ে ২০১৫ সালে ফের দলিত সিনেটর হয়েছিলেন গিয়ানচাঁদ নামে এক ব্যক্তি। তবে কৃষ্ণাকুমারীই প্রথম মহিলা যিনি দলিত হিন্দু নারী হিসেবে নির্বাচনে লড়তে যাচ্ছেন।

কোহলির সম্পর্কে পিপিপি’র এক মুখপাত্র বলেন, নির্বাচিত হলে কোহলি হবেন পাকিস্তানের সিনেটর হিসেবে প্রথম দলিত নারী। অমুসলিমদের নির্বাচনে সুযোগ দেয়ার ক্ষেত্রে পিপিপি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। তাদের সংখ্যা ছয়জন পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে পারে বলে জানিয়েছে পিপিপি’র মুখপাত্র। তিনি বলেন, পাকিস্তানের উচ্চ কক্ষে সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধি হিসেবে এত প্রার্থী পাঠানোর নজির নেই পাকিস্তানের কোনো রাজনৈতিক দলের।

সিন্ধু রাজ্যের থারের নাগারপার্কার জেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে ১৯৭৯ সালে কৃষ্ণকুমারী কোহলির জন্ম। গ্রেড থ্রির ছাত্রী থাকা অবস্থায় তার পরিবারের সবাইকে কুর্ণি ও উমারকোট জেলার এক জমিদারের ব্যক্তিগত জেলখানায় তিন বছর বন্দি থাকতে হয়।

কৃষ্ণাকুমারী ১৬ বছর বয়সে লালচাঁদ নামের এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন, যখন তিনি নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিলেন। পরে তিনি তার পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং সর্বশেষ ২০১৩ সালে তিনি সিন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে ¯œাতকোত্তর করেন।

তিনি ভাইয়ের সঙ্গে সমাজকর্মী হিসেবে পিপিপিতে যোগ দেন। তার ভাই স্থানীয় ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। কৃষ্ণাকুমারী থার ও তার আশেপাশের দলিত জনগোষ্ঠীর অধিকারের জন্য কাজ করেন। তার প্রপিতামহ রূপলু কোহলি ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী। ১৮৫৭ সালে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য তাকে ফাঁসিতে ঝুলতে হয়েছিল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পোস্টাল ভোটে অনিয়ম করলে প্রবাসীদের দেশে ফেরত আনার হুঁশিয়ারি ইসির

পাকিস্তানে সিনেটর হিসেবে লড়বেন হিন্দু নারী

আপডেট সময় ০৯:৩৮:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

কিস্তানে প্রথমবারের মতো সিনেটর পদের জন্য লড়তে যাচ্ছেন সংখ্যালঘু দলিত হিন্দু নারী কৃষ্ণাকুমারী কোহলি। ৩৯ বছর বয়সী এই নারী সিন্ধু প্রদেশ থেকে সংখ্যালঘু সিনেটরের আসনে পিপিপি’র হয়ে নির্বাচনে লড়বে। ইতোমধ্যে তার সমস্ত কাগজপত্র গ্রহণ করেছে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন। আগামী তিন মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সিন্ধু প্রদেশের থার এলাকার বাসিন্দা কৃষ্ণাকুমারী সিনেটর হিসেবে জিতলে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট দেশটিতে তিনিই হবেন প্রথম কোনো হিন্দু নারী সিনেটর। এর আগে পিপিপি’র হয়ে ২০০৯ সালে পাকিস্তানের প্রথম দলিত সিনেটর হন খটুমল জীবন। একই দলের হয়ে ২০১৫ সালে ফের দলিত সিনেটর হয়েছিলেন গিয়ানচাঁদ নামে এক ব্যক্তি। তবে কৃষ্ণাকুমারীই প্রথম মহিলা যিনি দলিত হিন্দু নারী হিসেবে নির্বাচনে লড়তে যাচ্ছেন।

কোহলির সম্পর্কে পিপিপি’র এক মুখপাত্র বলেন, নির্বাচিত হলে কোহলি হবেন পাকিস্তানের সিনেটর হিসেবে প্রথম দলিত নারী। অমুসলিমদের নির্বাচনে সুযোগ দেয়ার ক্ষেত্রে পিপিপি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। তাদের সংখ্যা ছয়জন পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে পারে বলে জানিয়েছে পিপিপি’র মুখপাত্র। তিনি বলেন, পাকিস্তানের উচ্চ কক্ষে সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধি হিসেবে এত প্রার্থী পাঠানোর নজির নেই পাকিস্তানের কোনো রাজনৈতিক দলের।

সিন্ধু রাজ্যের থারের নাগারপার্কার জেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে ১৯৭৯ সালে কৃষ্ণকুমারী কোহলির জন্ম। গ্রেড থ্রির ছাত্রী থাকা অবস্থায় তার পরিবারের সবাইকে কুর্ণি ও উমারকোট জেলার এক জমিদারের ব্যক্তিগত জেলখানায় তিন বছর বন্দি থাকতে হয়।

কৃষ্ণাকুমারী ১৬ বছর বয়সে লালচাঁদ নামের এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন, যখন তিনি নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিলেন। পরে তিনি তার পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং সর্বশেষ ২০১৩ সালে তিনি সিন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে ¯œাতকোত্তর করেন।

তিনি ভাইয়ের সঙ্গে সমাজকর্মী হিসেবে পিপিপিতে যোগ দেন। তার ভাই স্থানীয় ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। কৃষ্ণাকুমারী থার ও তার আশেপাশের দলিত জনগোষ্ঠীর অধিকারের জন্য কাজ করেন। তার প্রপিতামহ রূপলু কোহলি ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী। ১৮৫৭ সালে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য তাকে ফাঁসিতে ঝুলতে হয়েছিল।