ঢাকা ১২:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বপ্ন ছিল বলিউড, তরুণীর ফাঁদে পড়ে শেষ পরিণতি মৃত্যু

আকাশ বিনোদন ডেস্ক :

বলিউডে প্রযোজক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মুম্বাইয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন দিল্লির তরুণ ব্যবসায়ী করণ কক্কড়। কিন্তু সেই স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত তাকে নিয়ে যায় মৃত্যুর মুখে।

ভারতীয় পুলিশের ভাষ্য, একটি সিনেমার বৈঠকের কথা বলে তাকে ডেকে নেওয়া হয় একটি ভাড়া করা ফ্ল্যাটে। সেখানে তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ টুকরো টুকরো করে দূরবর্তী পাহাড়ি এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়।২০১২ সালের এই আলোচিত হত্যাকাণ্ড আবারও আলোচনায় এসেছে বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ঘিরে।

দিল্লিতে একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন ২৮ বছর বয়সী করণ কক্কড়। তার লক্ষ্য ছিল বলিউডে চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবে কাজ করা। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তিনি মুম্বাইয়ের আন্ধেরির ওবেরয় স্প্রিংসে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। পাশাপাশি চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে একটি ব্যবহৃত বিএমডব্লিউ গাড়িও কিনেছিলেন।

পরে তদন্তকারীদের ধারণা, তার আর্থিক সামর্থ্যই তাকে অপরাধীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছিল।

পুলিশের অভিযোগ, তরুণ মডেল সিমরান সুদের সঙ্গে পরিচয়ের পর করণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। সিমরান তাকে চলচ্চিত্র জগতের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। সেই বিশ্বাস থেকে করণ একটি বৈঠকে যোগ দিতে রাজি হন।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, নির্ধারিত বৈঠকের পরিবর্তে তাকে একটি ভাড়া করা ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন গ্যাংস্টার বিজয় পালান্ডে ও তার সহযোগীরা।

পুলিশের অভিযোগ, ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়ার পর করণকে আটকে রাখা হয়। তার এটিএম ও ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে অর্থ তুলে নেওয়া হয় এবং ক্রেডিট কার্ড দিয়েও কেনাকাটা করা হয়।

তদন্তে আরও অভিযোগ করা হয়, পরে করণকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন অবস্থায় গলা কেটে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ টুকরো টুকরো করে তার নিজের বিএমডব্লিউ গাড়িতে করে মহারাষ্ট্রের কুম্ভারলি ঘাট এলাকায় নিয়ে গিয়ে ফেলে দেওয়া হয়।

করণ নিখোঁজ হওয়ার পর তার ভাই হানিশ কক্কড় মুম্বাইয়ে এসে খোঁজ শুরু করেন। তিনি একটি শপিং মলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন। সেখানে করণের এটিএম কার্ড ব্যবহার করতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয় বিজয় পালান্ডে ও ধনঞ্জয় শিন্ডেকে। সেই তথ্য পুলিশকে দেওয়া হলেও শুরুতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

পরিস্থিতি বদলে যায় দিল্লির আরেক ব্যবসায়ী অরুণ টিক্কু হত্যাকাণ্ডে বিজয় পালান্ডে গ্রেপ্তার হওয়ার পর। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কুম্ভারলি ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে মানুষের কঙ্কাল উদ্ধার করে। পরে ডিএনএ পরীক্ষায় সেটি করণ কক্কড়ের মরদেহ বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা ধারালো অস্ত্র, করণের ব্যবহৃত কিছু ব্যক্তিগত সামগ্রী এবং ব্যাংক লেনদেন-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যও উদ্ধার করেন।

এই মামলায় গ্যাংস্টার বিজয় পালান্ডে, ধনঞ্জয় শিন্ডে ও মনোজ গাজকোশকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করা সিমরান সুদ প্রায় তিন বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান।

এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও করণ কক্কড় হত্যাকাণ্ডকে মুম্বাইয়ের অন্যতম আলোচিত ও নৃশংস অপরাধ হিসেবে মনে করা হয়। তবে মামলার অভিযোগগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত আইনি অবস্থান সংশ্লিষ্ট আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বপ্ন ছিল বলিউড, তরুণীর ফাঁদে পড়ে শেষ পরিণতি মৃত্যু

আপডেট সময় ০৭:২০:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

আকাশ বিনোদন ডেস্ক :

বলিউডে প্রযোজক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মুম্বাইয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন দিল্লির তরুণ ব্যবসায়ী করণ কক্কড়। কিন্তু সেই স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত তাকে নিয়ে যায় মৃত্যুর মুখে।

ভারতীয় পুলিশের ভাষ্য, একটি সিনেমার বৈঠকের কথা বলে তাকে ডেকে নেওয়া হয় একটি ভাড়া করা ফ্ল্যাটে। সেখানে তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ টুকরো টুকরো করে দূরবর্তী পাহাড়ি এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়।২০১২ সালের এই আলোচিত হত্যাকাণ্ড আবারও আলোচনায় এসেছে বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ঘিরে।

দিল্লিতে একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন ২৮ বছর বয়সী করণ কক্কড়। তার লক্ষ্য ছিল বলিউডে চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবে কাজ করা। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তিনি মুম্বাইয়ের আন্ধেরির ওবেরয় স্প্রিংসে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। পাশাপাশি চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে একটি ব্যবহৃত বিএমডব্লিউ গাড়িও কিনেছিলেন।

পরে তদন্তকারীদের ধারণা, তার আর্থিক সামর্থ্যই তাকে অপরাধীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছিল।

পুলিশের অভিযোগ, তরুণ মডেল সিমরান সুদের সঙ্গে পরিচয়ের পর করণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। সিমরান তাকে চলচ্চিত্র জগতের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। সেই বিশ্বাস থেকে করণ একটি বৈঠকে যোগ দিতে রাজি হন।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, নির্ধারিত বৈঠকের পরিবর্তে তাকে একটি ভাড়া করা ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন গ্যাংস্টার বিজয় পালান্ডে ও তার সহযোগীরা।

পুলিশের অভিযোগ, ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়ার পর করণকে আটকে রাখা হয়। তার এটিএম ও ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে অর্থ তুলে নেওয়া হয় এবং ক্রেডিট কার্ড দিয়েও কেনাকাটা করা হয়।

তদন্তে আরও অভিযোগ করা হয়, পরে করণকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন অবস্থায় গলা কেটে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ টুকরো টুকরো করে তার নিজের বিএমডব্লিউ গাড়িতে করে মহারাষ্ট্রের কুম্ভারলি ঘাট এলাকায় নিয়ে গিয়ে ফেলে দেওয়া হয়।

করণ নিখোঁজ হওয়ার পর তার ভাই হানিশ কক্কড় মুম্বাইয়ে এসে খোঁজ শুরু করেন। তিনি একটি শপিং মলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন। সেখানে করণের এটিএম কার্ড ব্যবহার করতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয় বিজয় পালান্ডে ও ধনঞ্জয় শিন্ডেকে। সেই তথ্য পুলিশকে দেওয়া হলেও শুরুতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

পরিস্থিতি বদলে যায় দিল্লির আরেক ব্যবসায়ী অরুণ টিক্কু হত্যাকাণ্ডে বিজয় পালান্ডে গ্রেপ্তার হওয়ার পর। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কুম্ভারলি ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে মানুষের কঙ্কাল উদ্ধার করে। পরে ডিএনএ পরীক্ষায় সেটি করণ কক্কড়ের মরদেহ বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা ধারালো অস্ত্র, করণের ব্যবহৃত কিছু ব্যক্তিগত সামগ্রী এবং ব্যাংক লেনদেন-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যও উদ্ধার করেন।

এই মামলায় গ্যাংস্টার বিজয় পালান্ডে, ধনঞ্জয় শিন্ডে ও মনোজ গাজকোশকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করা সিমরান সুদ প্রায় তিন বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান।

এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও করণ কক্কড় হত্যাকাণ্ডকে মুম্বাইয়ের অন্যতম আলোচিত ও নৃশংস অপরাধ হিসেবে মনে করা হয়। তবে মামলার অভিযোগগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত আইনি অবস্থান সংশ্লিষ্ট আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।