ঢাকা ০২:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা না করার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সকল বৈচিত্র্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য মুক্ত বুদ্ধিচর্চা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জুলাই আন্দোলনকে কটাক্ষ:অভিনেত্রী শাওন, মাহিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ আওয়ামী লীগ দেশে আর কোনোদিন রাজনীতি করতে পারবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই স্মৃতি স্মারক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী কৃষি কার্ডের কারণে মধ্যস্বত্বভোগীরা সুবিধা নিতে পারবে না : কৃষিমন্ত্রী ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি, ব্যারিস্টার ফুয়াদকে আইনি নোটিশ শিক্ষকতার চেয়ে মহান পেশা আর কিছু হতে পারে না: মির্জা ফখরুল ঐতিহাসিক জয় ফিলিস্তিনকে উৎসর্গ করল মিসর, গাজায় আনন্দের ঢেউ ইমাম খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় স্পিকারের শ্রদ্ধা

ঐতিহাসিক জয় ফিলিস্তিনকে উৎসর্গ করল মিসর, গাজায় আনন্দের ঢেউ

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথমবারের মতো জয়ের স্বাদ পেয়েছে মিসর। বাংলাদেশ সময় শনিবার রাতে টাইব্রেকার রোমাঞ্চে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে ফারাওরা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাওয়া ঐতিহাসিক এই জয়টি ফিলিস্তিনের জনগণকে উৎসর্গ করেছেন মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তার এমন বার্তার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার ধ্বংসস্তূপেও বয়ে গেছে আনন্দের বন্যা।

শনিবার রাতে টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ১-১ সমতায় শেষ হয় অস্ট্রেলিয়া ও মিসরের মধ্যকার খেলা। পরে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে অজিদের ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেয় মিসর। কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করার লড়াইয়ে মিসরের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হোসাম হাসান বলেন, ‘আল্লাহ ফিলিস্তিনিদের বিজয় দান করুন এবং তাদের শহীদদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন। এই জয়কে আমি মিসরের জনগণ এবং ফিলিস্তিনের সেই সম্মানিত মানুষের উদ্দেশে উৎসর্গ করছি।’

মিসরের কোচের সেই বার্তা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। গাজার অনেক বাসিন্দা মিসরের ঐতিহাসিক জয়ে নিজেদের আনন্দ প্রকাশের পাশাপাশি জয় উৎসর্গ করায় দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

এদিকে ধ্বংসস্তূপ আর তাঁবুতে বন্দি হাজারো ফিলিস্তিনি বড় পর্দায় মিসরের খেলা উপভোগ করেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিসরের জয়ের খবর আসতেই গাজাজুড়ে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বোমা হামলায় বিধ্বস্ত ভবনের পাশেই অস্থায়ী পর্দায় খেলা দেখছেন গাজার শত শত মানুষ। গাজার ছোট ছোট শিশুদের মুখে আঁকা ছিল মিসরের পতাকা। একেকটি গোলের পর বাঁধভাঙা উল্লাস ফেটে পড়েন তারা।

গাজার বাসিন্দা তামের নাহেদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘এই প্রথম আমি এত আগ্রহ নিয়ে বিশ্বকাপ দেখছি। হাজারো মানুষ তাঁবু ও ধ্বংসস্তূপ থেকে বের হয়ে ম্যাচটি দেখতে জড়ো হয়েছিল। চারপাশের সব কষ্টের মাঝেও কয়েক মুহূর্তের জন্য মানুষ যেন জীবনকে উদযাপন করার সুযোগ পেল।’

এর আগে জয়ের পরই কোচ হোসাম হাসান মাঠে মিসরের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে মাঠে প্রবেশ করে উল্লাস করেন। এ সময় মিসরের খেলোয়াড়রা মাঠে সিজদায় অবনত হয়ে শুকরিয়া আদায় করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা না করার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ঐতিহাসিক জয় ফিলিস্তিনকে উৎসর্গ করল মিসর, গাজায় আনন্দের ঢেউ

আপডেট সময় ১২:০৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথমবারের মতো জয়ের স্বাদ পেয়েছে মিসর। বাংলাদেশ সময় শনিবার রাতে টাইব্রেকার রোমাঞ্চে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে ফারাওরা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাওয়া ঐতিহাসিক এই জয়টি ফিলিস্তিনের জনগণকে উৎসর্গ করেছেন মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তার এমন বার্তার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার ধ্বংসস্তূপেও বয়ে গেছে আনন্দের বন্যা।

শনিবার রাতে টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ১-১ সমতায় শেষ হয় অস্ট্রেলিয়া ও মিসরের মধ্যকার খেলা। পরে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে অজিদের ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেয় মিসর। কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করার লড়াইয়ে মিসরের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হোসাম হাসান বলেন, ‘আল্লাহ ফিলিস্তিনিদের বিজয় দান করুন এবং তাদের শহীদদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন। এই জয়কে আমি মিসরের জনগণ এবং ফিলিস্তিনের সেই সম্মানিত মানুষের উদ্দেশে উৎসর্গ করছি।’

মিসরের কোচের সেই বার্তা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। গাজার অনেক বাসিন্দা মিসরের ঐতিহাসিক জয়ে নিজেদের আনন্দ প্রকাশের পাশাপাশি জয় উৎসর্গ করায় দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

এদিকে ধ্বংসস্তূপ আর তাঁবুতে বন্দি হাজারো ফিলিস্তিনি বড় পর্দায় মিসরের খেলা উপভোগ করেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিসরের জয়ের খবর আসতেই গাজাজুড়ে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বোমা হামলায় বিধ্বস্ত ভবনের পাশেই অস্থায়ী পর্দায় খেলা দেখছেন গাজার শত শত মানুষ। গাজার ছোট ছোট শিশুদের মুখে আঁকা ছিল মিসরের পতাকা। একেকটি গোলের পর বাঁধভাঙা উল্লাস ফেটে পড়েন তারা।

গাজার বাসিন্দা তামের নাহেদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘এই প্রথম আমি এত আগ্রহ নিয়ে বিশ্বকাপ দেখছি। হাজারো মানুষ তাঁবু ও ধ্বংসস্তূপ থেকে বের হয়ে ম্যাচটি দেখতে জড়ো হয়েছিল। চারপাশের সব কষ্টের মাঝেও কয়েক মুহূর্তের জন্য মানুষ যেন জীবনকে উদযাপন করার সুযোগ পেল।’

এর আগে জয়ের পরই কোচ হোসাম হাসান মাঠে মিসরের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে মাঠে প্রবেশ করে উল্লাস করেন। এ সময় মিসরের খেলোয়াড়রা মাঠে সিজদায় অবনত হয়ে শুকরিয়া আদায় করেন।