ঢাকা ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সংবিধান সংশোধনের আগে বিএনপির সংশোধন দরকার: নাহিদ ইসলাম ঢাকাজুড়ে ‘ফুটবল জ্বর’, বড় পর্দার খোঁজে সমর্থকরা জুলাই চেতনা সবচেয়ে বেশি ধারণ করে বিএনপি: খায়রুল কবির খোকন ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ধানাই-পানাই মানব না’:শফিকুর রহমান তরুণদের মাদক নয়, খেলাধুলায় মনোযোগী হতে হবে: মির্জা ফখরুল পেরুতে ৫.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ৫ নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করাতে পারেন মামদানি শিয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দিয়ে জুলাইয়ের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি: চরমোনাই পীর ব্যালট বাক্স চুরি করতে এলে বিষখালি নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হবে: হাসনাত আবদুল্লাহ নির্ভুল পূর্বাভাসে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার আহ্বান

ডাক্তার দেখাতে গিয়ে এক পরিবারের ৪ জন ফিরলেন লাশ হয়ে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

অসুস্থ স্বজনকে ডাক্তার দেখিয়ে সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরবেন, এমনই আশা নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে রওনা দিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে সেই যাত্রাই হয়ে উঠলো তাদের জীবনের শেষ পথচলা।

ফরিদপুরের নগরকান্দায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মাদারীপুরের একই পরিবারের চারজনসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মাদারীপুর সদর উপজেলার বালিয়া গ্রামে এখন শুধুই কান্না আর আহাজারি।

রবিবার সকাল ১০টার দিকে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের নগরকান্দা উপজেলার শংকরপাশা এলাকায় ঢাকাগামী একটি বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামের আলমগীর মোল্লা (৫৫), তার স্ত্রী খুশি বেগম (৩৬), বড় ভাই জাহাঙ্গীর মোল্লা (৬৫), ভাবি বেলী বেগম (৪০) এবং অ্যাম্বুলেন্স চালক কাওসার মাতুব্বর।

স্বজনরা জানান, প্রায় দুই মাস আগে আলমগীর মোল্লা প্যারালাইজডে আক্রান্ত হন। চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরলেও সকালে হঠাৎ তার অবস্থার অবনতি হয়। এ কারণে চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ফরিদপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শেষ হয়ে যায় সবকিছু। শংকরপাশা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান পাঁচজন।

রবিবার বিকাল ৪টার দিকে নিহতদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে বালিয়া গ্রামে নেমে আসে হৃদয়বিদারক পরিবেশ। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। কেউ বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন, কেউ আবার হতবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলেন প্রিয়জনদের নিথর দেহের দিকে।

দুই সন্তান ও দুই পুত্রবধূকে হারিয়ে আহাজারি করছিলেন বৃদ্ধ পিতা হাজী ওয়াহেদ আলী মোল্লা। তিনি বলেন, ‘শেষ বয়সে আমি আমার দুই সন্তান ও দুই ছেলের বউকে হারালাম। এই শোক আমি কীভাবে সইবো? আমার এক ছেলে অসুস্থ ছিল, সেই অসুস্থ ছেলেকে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে পুরো পরিবারটাই হারিয়ে ফেললাম। ডাক্তার দেখিয়ে ওদের ফেরার কথা ছিল, কিন্তু ওরা ফিরল লাশ হয়ে।’

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। একটি পরিবারের এতগুলো প্রাণ একসঙ্গে ঝরে যাওয়া অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। আমরা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে প্রশাসন রয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এদিকে, এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্বজনরা বাসচালকের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়ক দ্রুত চার লেনে উন্নীত করার দাবি করেছেন তারা।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হেলালউদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডাক্তার দেখাতে গিয়ে এক পরিবারের ৪ জন ফিরলেন লাশ হয়ে

আপডেট সময় ০৭:৪৮:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

অসুস্থ স্বজনকে ডাক্তার দেখিয়ে সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরবেন, এমনই আশা নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে রওনা দিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে সেই যাত্রাই হয়ে উঠলো তাদের জীবনের শেষ পথচলা।

ফরিদপুরের নগরকান্দায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মাদারীপুরের একই পরিবারের চারজনসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মাদারীপুর সদর উপজেলার বালিয়া গ্রামে এখন শুধুই কান্না আর আহাজারি।

রবিবার সকাল ১০টার দিকে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের নগরকান্দা উপজেলার শংকরপাশা এলাকায় ঢাকাগামী একটি বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামের আলমগীর মোল্লা (৫৫), তার স্ত্রী খুশি বেগম (৩৬), বড় ভাই জাহাঙ্গীর মোল্লা (৬৫), ভাবি বেলী বেগম (৪০) এবং অ্যাম্বুলেন্স চালক কাওসার মাতুব্বর।

স্বজনরা জানান, প্রায় দুই মাস আগে আলমগীর মোল্লা প্যারালাইজডে আক্রান্ত হন। চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরলেও সকালে হঠাৎ তার অবস্থার অবনতি হয়। এ কারণে চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ফরিদপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শেষ হয়ে যায় সবকিছু। শংকরপাশা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান পাঁচজন।

রবিবার বিকাল ৪টার দিকে নিহতদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে বালিয়া গ্রামে নেমে আসে হৃদয়বিদারক পরিবেশ। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। কেউ বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন, কেউ আবার হতবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলেন প্রিয়জনদের নিথর দেহের দিকে।

দুই সন্তান ও দুই পুত্রবধূকে হারিয়ে আহাজারি করছিলেন বৃদ্ধ পিতা হাজী ওয়াহেদ আলী মোল্লা। তিনি বলেন, ‘শেষ বয়সে আমি আমার দুই সন্তান ও দুই ছেলের বউকে হারালাম। এই শোক আমি কীভাবে সইবো? আমার এক ছেলে অসুস্থ ছিল, সেই অসুস্থ ছেলেকে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে পুরো পরিবারটাই হারিয়ে ফেললাম। ডাক্তার দেখিয়ে ওদের ফেরার কথা ছিল, কিন্তু ওরা ফিরল লাশ হয়ে।’

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। একটি পরিবারের এতগুলো প্রাণ একসঙ্গে ঝরে যাওয়া অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। আমরা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে প্রশাসন রয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এদিকে, এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্বজনরা বাসচালকের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়ক দ্রুত চার লেনে উন্নীত করার দাবি করেছেন তারা।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হেলালউদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।