ঢাকা ১২:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানব রচিত আইন এ বাংলায় চলতে দেওয়া হবে না: চরমোনাইর পীর বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ঐক্য, সম্প্রীতি ও নতুন প্রত্যয়ের আহ্বান রাষ্ট্রপতির আগামী বছরের মধ্যে গোটা রাখাইন দখলের ঘোষণা আরাকান আর্মির অবরোধ ভাঙতে চাইলে ইরানের ‘অ্যাটাক শিপ’ ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে দেশ নতুন সাংবিধানিক সংকটে পড়বে:শিশির মনির সরকারের কাঁধে শেখ হাসিনার ভূত চেপেছে: মামুনুল হক খোলা চিঠিতে ‘বিদায়ের বার্তা’ দিলেন মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্য পুলিশ কমিশন গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কারাগার থেকেই বার কাউন্সিল নির্বাচনে অংশ নিতে চান ব্যারিস্টার সুমন সংসদীয় সার্বভৌমত্বের নামে ‘সংসদীয় স্বৈরতন্ত্র’ কায়েম হচ্ছে: সারোয়ার তুষার

বন্যার পানি কমার সাথে সাথে জলবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে

ফেনী ও নোয়াখালীতে হাসপাতালগুলো বন্যার পানি কমার সাথে সাথে আক্রান্ত এলাকায় জলবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ায় রোগীদের ঢেউ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুক্রবার দুপুরে মেঝে, বারান্দা ও সিঁড়িতে রোগীরা শুয়ে ছিল। ৫০ শয্যার সরকারি এ হাসপাতালের রোগীর সংখ্যা সন্ধ্যা নাগাদ ৯৬ জনে দাঁড়ায়।

ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, যার একই সংখ্যক শয্যা রয়েছে, সেখানে শনিবার সকালে ১২৬ জন রোগী ছিল।

মাঠিগঞ্জ গ্রামের ১১ বছর বয়সী মেয়ে নুসরাত জাহান বুধবার রাত থেকে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছিল।

“আমার বাড়িতে পানি ঢোকার পর আমরা এক প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলাম,” তার মা লায়লা আখতার বলেন।

“সেখানে পরিষ্কার পানি ছিল না, তাই মেয়েটি ট্যাংকে জমা থাকা পানি পান করেছিল। তখন থেকে সে বমি করছে এবং ডায়রিয়ায় ভুগছে,” বলেন লায়লা।

“আমরা যখন এখানে আসি, তখন হাসপাতাল রোগীতে পূর্ণ ছিল। এক ওয়ার্ড বয় তার জন্য মেঝেতে একটি গদি দিয়ে একটি জায়গা ঠিক করে দেয়।”

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের মধ্যে, বন্যাকবলিত এলাকার ৮০ শতাংশ রোগী জলবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে, বলেছেন মেডিকেল অফিসার ডা. অর্ণব মালিক।

নোয়াখালীতে বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে ডায়রিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ড, যেখানে মাত্র ১৬ জনের জায়গা আছে, সেখানে গতকাল সন্ধ্যায় ২৮০ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছিল।

“আমাদের বাড়ি এবং টিউবওয়েল প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে পানিতে ডুবে ছিল, তাই আমরা বাধ্য হয়ে বন্যার পানি পান করেছিলাম। এখন আমার সন্তান ডায়রিয়ায় ভুগছে,” বলেন জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার বাবুনগর গ্রামের সাজেদা আখতার নূর। তার চার মাসের শিশু বৃহস্পতিবার থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিল বলে তিনি গতকাল দ্য ডেইলি স্টারকে জানান।

অনেক রোগী হাসপাতালে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ করেছেন।

“শুক্রবার সকালে আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোন ডাক্তার আমাকে দেখতে আসেননি,” নোয়াখালী সদর উপজেলার হেরাঙ্গিরপোল এলাকার ২৫ বছর বয়সী আয়েশা আখতার এই সংবাদপত্রকে শুক্রবার সন্ধ্যায় বলেন।

তবে হাসপাতালের রেজিস্ট্রার মো. ইমরান হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শুক্রবার সারাদিন একজন ডাক্তার রোগীদের সেবা দিয়েছেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১১টি বন্যাকবলিত জেলায় ৫১৯টি মেডিকেল টিম কাজ করছিল।

গতকাল পর্যন্ত ৯টি জেলায় চলমান বন্যায় ৬ জন নারী ও ১২ জন শিশুসহ মোট ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, এবং ১১টি জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ছিল ৫৪.৫৭ লাখের বেশি, মন্ত্রণালয় গতকাল জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃতদের মধ্যে ফেনীতে ২৩ জন, কুমিল্লায় ১৪ জন, নোয়াখালীতে ৯ জন, চট্টগ্রামে ৬ জন, কক্সবাজারে ৩ জন এবং মৌলভীবাজার, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং খাগড়াছড়িতে একজন করে মারা গেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৭ লাখ মানুষ এখনও পানিবন্দি ছিল।

সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র গতকাল পূর্বাভাস দিয়েছে যে দেশের সব প্রধান নদীর পানি বিপদসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে।

শুক্রবার ইউনিসেফ বলেছে, পূর্বাঞ্চলীয় বাংলাদেশে ২০ লাখেরও বেশি শিশু ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে কারণ বন্যা বাড়ি, স্কুল এবং গ্রামগুলোতে তীব্র আঘাত করেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বেলুনের ভেতরেই চলছে নির্মাণকাজ, ধুলা-শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে চীনের নতুন প্রযুক্তি

বন্যার পানি কমার সাথে সাথে জলবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে

আপডেট সময় ০১:৩৫:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪

ফেনী ও নোয়াখালীতে হাসপাতালগুলো বন্যার পানি কমার সাথে সাথে আক্রান্ত এলাকায় জলবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ায় রোগীদের ঢেউ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুক্রবার দুপুরে মেঝে, বারান্দা ও সিঁড়িতে রোগীরা শুয়ে ছিল। ৫০ শয্যার সরকারি এ হাসপাতালের রোগীর সংখ্যা সন্ধ্যা নাগাদ ৯৬ জনে দাঁড়ায়।

ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, যার একই সংখ্যক শয্যা রয়েছে, সেখানে শনিবার সকালে ১২৬ জন রোগী ছিল।

মাঠিগঞ্জ গ্রামের ১১ বছর বয়সী মেয়ে নুসরাত জাহান বুধবার রাত থেকে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছিল।

“আমার বাড়িতে পানি ঢোকার পর আমরা এক প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলাম,” তার মা লায়লা আখতার বলেন।

“সেখানে পরিষ্কার পানি ছিল না, তাই মেয়েটি ট্যাংকে জমা থাকা পানি পান করেছিল। তখন থেকে সে বমি করছে এবং ডায়রিয়ায় ভুগছে,” বলেন লায়লা।

“আমরা যখন এখানে আসি, তখন হাসপাতাল রোগীতে পূর্ণ ছিল। এক ওয়ার্ড বয় তার জন্য মেঝেতে একটি গদি দিয়ে একটি জায়গা ঠিক করে দেয়।”

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের মধ্যে, বন্যাকবলিত এলাকার ৮০ শতাংশ রোগী জলবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে, বলেছেন মেডিকেল অফিসার ডা. অর্ণব মালিক।

নোয়াখালীতে বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে ডায়রিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ড, যেখানে মাত্র ১৬ জনের জায়গা আছে, সেখানে গতকাল সন্ধ্যায় ২৮০ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছিল।

“আমাদের বাড়ি এবং টিউবওয়েল প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে পানিতে ডুবে ছিল, তাই আমরা বাধ্য হয়ে বন্যার পানি পান করেছিলাম। এখন আমার সন্তান ডায়রিয়ায় ভুগছে,” বলেন জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার বাবুনগর গ্রামের সাজেদা আখতার নূর। তার চার মাসের শিশু বৃহস্পতিবার থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিল বলে তিনি গতকাল দ্য ডেইলি স্টারকে জানান।

অনেক রোগী হাসপাতালে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ করেছেন।

“শুক্রবার সকালে আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোন ডাক্তার আমাকে দেখতে আসেননি,” নোয়াখালী সদর উপজেলার হেরাঙ্গিরপোল এলাকার ২৫ বছর বয়সী আয়েশা আখতার এই সংবাদপত্রকে শুক্রবার সন্ধ্যায় বলেন।

তবে হাসপাতালের রেজিস্ট্রার মো. ইমরান হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শুক্রবার সারাদিন একজন ডাক্তার রোগীদের সেবা দিয়েছেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১১টি বন্যাকবলিত জেলায় ৫১৯টি মেডিকেল টিম কাজ করছিল।

গতকাল পর্যন্ত ৯টি জেলায় চলমান বন্যায় ৬ জন নারী ও ১২ জন শিশুসহ মোট ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, এবং ১১টি জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ছিল ৫৪.৫৭ লাখের বেশি, মন্ত্রণালয় গতকাল জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃতদের মধ্যে ফেনীতে ২৩ জন, কুমিল্লায় ১৪ জন, নোয়াখালীতে ৯ জন, চট্টগ্রামে ৬ জন, কক্সবাজারে ৩ জন এবং মৌলভীবাজার, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং খাগড়াছড়িতে একজন করে মারা গেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৭ লাখ মানুষ এখনও পানিবন্দি ছিল।

সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র গতকাল পূর্বাভাস দিয়েছে যে দেশের সব প্রধান নদীর পানি বিপদসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে।

শুক্রবার ইউনিসেফ বলেছে, পূর্বাঞ্চলীয় বাংলাদেশে ২০ লাখেরও বেশি শিশু ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে কারণ বন্যা বাড়ি, স্কুল এবং গ্রামগুলোতে তীব্র আঘাত করেছে।