ঢাকা ০৯:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ডেসটিনির কর্ণধাররা জামিনে গেলে খুঁজে পাওয়া যাবে না

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও এমডি জামিনে একবার কারাগারের বাইরে গেলে তারা এক টাকাও জমা দেবেন না। এমনকি একবার জামিন পেলে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

সোমবার ডেসটিনির দুই কর্ণধারের জামিন আবেদনের শুনানিতে ডেসটিনির পক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ এমন মন্তব্য করেন।

এ সময় আদালতে ডেসটিনির পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ।

আদালত তখন বলেন, ডেসটিনির বিরুদ্ধে ৩ হাজার কোটি টাকা অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এই মামলায় ডেসটিনির চেয়ারম্যান ও এমডির জামিনের পর একবার কারাগারের বাইরে গেলে তারা এক টাকাও জমা দেবে না। টাকা দেওয়া তো দূরে থাক তারা আরো অর্থ বাইরে পাচার করবেন।

আদালত আরো বলেন, আপনিতো (রোকন উদ্দিন মাহমুদ) এর আগে হলমার্কের জেসমিনকে টাকা দেওয়ার শর্তে জামিন নিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই টাকা তো দেননি। পরে আবেদন দিয়ে ওই আদেশও প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। সেটা আমাদের জানা আছে।

তখন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘আমি (তার মক্কেলের কথা বলেছেন) তো জেলে আছি। গাছ তো রয়েছে গাছের জায়গায়। সেটা ছাগলে খেয়েছে, না মারা গেছে তা তো জানি না। আমাকে দুই মাসের জামিন দিন।’

এ পর্যায়ে আদালত রোকন উদ্দিন মাহমুদের মক্কেলককে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি একবার জামিনে বেরিয়ে গেলে আপনাকে আর পাওয়া যাবে না।

এ সময় আদালত জানতে চান আপনার (আসামী) অ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে। জবাবে আইনজীবী বলেন, ১৪৭ কোটি টাকা আছে।
আদালত আরো বলেন, আপনারা শর্ত অনুযায়ী কিছু টাকা পরিশোধ করুন। আপনাদের সব সুবিধা দেব। এরপর আদালত ব্যাংক হিসাব দাখিলের নির্দেশ দিয়ে আগামী রোববার মামলার শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

এর আগে গত বছরের ১৩ নভেম্বর ডেসটিনি গ্রুপের গাছ লাগানো প্রকল্পের আওতায় থাকা ৩৫ লাখ গাছ ৬ সপ্তাহের মধ্যে বিক্রির নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।

ওই দিন আদালত আদেশে বলেছিলেন, ৩৫ লাখ গাছ বিক্রির ২৮০০ কোটি টাকা সরকারকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে দিতে হবে। টাকা পাওয়ার পর ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমিন ও ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইনকে আপিল বিভাগ জামিন দেবেন বলে আদেশে বলা হয়। তবে গাছ বিক্রি করে যদি ২৮০০ কোটি টাকা না হয় তাহলে কমপেক্ষ ২৫০০ কোটি টাকা সরকারকে দিলেই জামিন মিলবে ডেসটিনির চেয়ারম্যান ও এমডির। কিন্তু আদালতের শর্ত অনুযায়ী, টাকা জমা না দেওয়ায় এখনো জেলে রয়েছেন ডেসটিনির এমডি রফিকুল আমিন ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

ডেসটিনির কর্ণধাররা জামিনে গেলে খুঁজে পাওয়া যাবে না

আপডেট সময় ০৩:০৮:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ জুলাই ২০১৭

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও এমডি জামিনে একবার কারাগারের বাইরে গেলে তারা এক টাকাও জমা দেবেন না। এমনকি একবার জামিন পেলে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

সোমবার ডেসটিনির দুই কর্ণধারের জামিন আবেদনের শুনানিতে ডেসটিনির পক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ এমন মন্তব্য করেন।

এ সময় আদালতে ডেসটিনির পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ।

আদালত তখন বলেন, ডেসটিনির বিরুদ্ধে ৩ হাজার কোটি টাকা অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এই মামলায় ডেসটিনির চেয়ারম্যান ও এমডির জামিনের পর একবার কারাগারের বাইরে গেলে তারা এক টাকাও জমা দেবে না। টাকা দেওয়া তো দূরে থাক তারা আরো অর্থ বাইরে পাচার করবেন।

আদালত আরো বলেন, আপনিতো (রোকন উদ্দিন মাহমুদ) এর আগে হলমার্কের জেসমিনকে টাকা দেওয়ার শর্তে জামিন নিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই টাকা তো দেননি। পরে আবেদন দিয়ে ওই আদেশও প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। সেটা আমাদের জানা আছে।

তখন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘আমি (তার মক্কেলের কথা বলেছেন) তো জেলে আছি। গাছ তো রয়েছে গাছের জায়গায়। সেটা ছাগলে খেয়েছে, না মারা গেছে তা তো জানি না। আমাকে দুই মাসের জামিন দিন।’

এ পর্যায়ে আদালত রোকন উদ্দিন মাহমুদের মক্কেলককে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি একবার জামিনে বেরিয়ে গেলে আপনাকে আর পাওয়া যাবে না।

এ সময় আদালত জানতে চান আপনার (আসামী) অ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে। জবাবে আইনজীবী বলেন, ১৪৭ কোটি টাকা আছে।
আদালত আরো বলেন, আপনারা শর্ত অনুযায়ী কিছু টাকা পরিশোধ করুন। আপনাদের সব সুবিধা দেব। এরপর আদালত ব্যাংক হিসাব দাখিলের নির্দেশ দিয়ে আগামী রোববার মামলার শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

এর আগে গত বছরের ১৩ নভেম্বর ডেসটিনি গ্রুপের গাছ লাগানো প্রকল্পের আওতায় থাকা ৩৫ লাখ গাছ ৬ সপ্তাহের মধ্যে বিক্রির নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।

ওই দিন আদালত আদেশে বলেছিলেন, ৩৫ লাখ গাছ বিক্রির ২৮০০ কোটি টাকা সরকারকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে দিতে হবে। টাকা পাওয়ার পর ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমিন ও ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইনকে আপিল বিভাগ জামিন দেবেন বলে আদেশে বলা হয়। তবে গাছ বিক্রি করে যদি ২৮০০ কোটি টাকা না হয় তাহলে কমপেক্ষ ২৫০০ কোটি টাকা সরকারকে দিলেই জামিন মিলবে ডেসটিনির চেয়ারম্যান ও এমডির। কিন্তু আদালতের শর্ত অনুযায়ী, টাকা জমা না দেওয়ায় এখনো জেলে রয়েছেন ডেসটিনির এমডি রফিকুল আমিন ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন।