ঢাকা ১১:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিশুরা নিজেদের গড়ে তুললে দেশ সঠিকভাবে গড়ে উঠবে: প্রধানমন্ত্রী ভারত সীমান্তে চীনের রণহুংকার, পাল্টা জবাবে এক দশক পিছিয়ে দিল্লি গ্যাস সংকট স্বাভাবিক হতে লাগবে আরও ১০–১৫ দিন: জ্বালানিমন্ত্রী গ্রন্থাগারে ঢুকে শিক্ষার্থীদের মারধর করলেন রাকসু ও শিবির নেতারা চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের নির্মাণ শুরু, আসবে ১.৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ গণমাধ্যমের জন্য নীতিমালা প্রণয়নে সম্পাদকদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চল শিল্প বিপ্লব ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের আন্দোলনের সফলতাকে নিজেদের বলে দাবি করেছে জামায়াতের বুদ্ধিজীবীরা: রাশেদ খাঁন ৩ শর্তে লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্-দ্বীন হাসপাতাল মানুষের আস্থার কেন্দ্র, চিকিৎসাসেবা হতে হবে রোগীবান্ধব: তথ্যমন্ত্রী

বাংলায় অসহায়দের পাশে অভিমানী মিঠুন

আকাশ বিনোদন ডেস্ক:

ভারতজুড়ে করোনা আতঙ্কে চলছে লকডাউন। সম্প্রতি এরই মধ্যে পিতৃহারা হয়েছেন বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জে জন্ম নেওয়া অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। বাবার অন্ত্যেষ্টিতে, পাশে থাকতে পারেনি ভারতের এই সফল অভিনেতা। কারণ লকডাউনের জন্য মিঠুন বর্তমানে বেঙ্গালুরুতে। ফলে তার বড় ছেলে মিমোই করেছিলেন দাদুর অন্ত্যেষ্টি।

কিন্তু চাইলে অনায়েসে বাবার শেষকৃত্যে যোগ দিতে পারতেন মিঠুন চক্রবর্তী। কারণ তিনি ছিলেন ভারতের সাবেক সংসদ সদস্য, ফলে ভিভিআইপি বন্দোবস্ত তার প্রাপ্য। আর সে কারণেই কর্ণাটক সরকার মিঠুনকে বলেছিলেন, তিনি চাইলে বিশেষ বিমানের বন্দোবস্ত করে দিতে পারবে অথবা কোনো গাড়ির ভিভিআইপি পাশ! তবে চলমান লকডাউনে মিঠুন রাজি হননি।

এই কিংবদন্তি বলেছিলেন, যেখানে সাধারণ থেকে শুরু করে গরীব মানুষ সংকটে। এই সংকটের সময় আমি এমন কোনো বাড়তি সুবিধা নিতে রাজি নই। অনেকেরই আমার মত ভিনরাজ্যে পরিবারে কেউ না কেউ মারা যাচ্ছেন। তারা যখন লকডাউনের নিয়ম মেনে চলছেন তাহলে আমি নিয়ম ভাঙবো কেন?

আর সে কারণেই তার বড় ছেলে মিমোই শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছিলেন।

আপাতত কর্ণাটকের রাজধানী ব্যাঙ্গালোরে বসবাস করলেও, লকডাউনে বিধ্বস্ত পশ্চিম বাংলাবাসীদের কথা কখনোই ভোলেনি মিঠুন। যে কারণে ওখানে বসেই পরিকল্পনামাফিক করোনা ত্রাণের কাজে সহযোগিতা করছেন তিনি।

২০১৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে রাজ্যসভার এমপি হয়েছিলেন মিঠুন। তারপর আড়াই বছরের একটু বেশি সময় তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন। এরপর পশ্চিমবঙ্গের নিরিখে সবচেয়ে বড় দুর্নীতি, বিশ হাজার কোটি রুপির আর্থিক কেলেঙ্কারি ‘সারদা কাণ্ড’-এ তার নাম জড়ানোর পর তিনি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন।

পাশাপাশি সারদার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে যে ২০ কোটি অর্থ উপার্জন করেছিলে তাও ফেরত দিয়ে দেন সরকারকে। এরপরই বঙ্গবাসীর থেকে অভিমানে অন্তরাল চলে যান মিঠুন। এরপর শেষ কলকাতায় এসেছিলেন ২০১৮ সালে। কলকাতায় শুটিং করেছিলেন সোহম আর শ্রাবন্তীর সঙ্গে ‘ডান্স বাংলা ডান্স’ রিয়েলিটি শো’তে।

এরপর তার এ বছর মার্চে কলকাতায় আরও একটা সিনেমার শুটিং শুরু হওয়ার কথা ছিল। সেই ছবি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন নিয়ে।

অভিনেত্রী শ্রাবন্তী বলেন, আমি শৈশবে থেকেই দাদার ভক্ত। দাদাকে খুব মিস করি। উনি এমনভাবে সবার সঙ্গে কথা বলেন, যেন উনি তাদের পরিবারেরই মানুষ। কলকাতাকে দাদা খুব ভালোবাসেন।

মিঠুনকে নিয়ে সোহমের কথা, যখনই মিঠুন আঙ্কেলের নামে কিছু অশুভ খবর শুনি, বুকটা ছ্যাঁত করে ওঠে। একবার শুনেছিলাম, তার শরীর খুব খারাপ। কোমরে এত ব্যথা যে বিছানা ছেড়ে উঠতে পারছেন না। কিছুদিন বাদে শুনলাম দেশের বাইরে চলে গিয়েছেন। তারপর শুনলাম ভারতে ফিরেছেন। ভালো-মন্দ যে কোনো খবর আমার কানে আসে। কিন্তু সরাসরি খবর নিতে পারি না কারণ মিঠুন আঙ্কেল মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না।

সেই অভিমানী মিঠুন ফের পশ্চিমবাংলায় অর্থসাহায্য চালু করলেন করোনা সংকটকালে। তার ত্রাণ অসহায়দের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে সমাজসেবী ‘ভারতী’ নামে একটি এনজিওর মাধ্যমে। যা পাঠানো হচ্ছে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে।

মিঠুন মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না। তাকে সবাই পাচ্ছেন কিভাবে? এমন প্রশ্ন সবার মধ্যেই ছিল। কিন্তু জানা যায়, অসহায়দের মধ্যে কেউ কেউ মিঠুনের স্ত্রী যোগিতা চক্রবর্তীর ফোন নাম্বার জোগাড় করে সেখানে অনুরোধ পাঠাচ্ছেন। সেই অনুরোধের উপর ভিত্তি করে উপযুক্ত মনে হলে মিঠুন অনলাইনে পেমেন্ট করে দিচ্ছেন। এনজিও পরিচালকদের সঙ্গে তার এখনোও কোনও বাক্য আলাপই হয়নি বলেও জানা যায়।

মিঠুন যে এই করোনাকালে সহযোগিতা করছে তা নয়। দীর্ঘ কুড়ি পঁচিশ বছর ধরে মিঠুন পশ্চিমবঙ্গে দুর্গতদের হয়ে কাজ করে আসছেন। হিসেব বলছে, কখনো নিজের থেকে, কখন সংগ্রহ করে, সব মিলিয়ে দুর্গতদের জন্য এখন পর্যন্ত ৫০ থেকে ৬০ কোটি রুপি সহযোগিতা করেছেন তিনি। কিন্তু চমকপ্রদ বিষয় হচ্ছে এখন পর্যন্ত পশ্চিমবাংলায় মিঠুনের না আছে কোন জমি, না আছে কোনো বাড়ি-গাড়ি।

কিন্তু এখনো পশ্চিমবঙ্গ থেকে কেউ সহযোগিতা চাইলে না করেন না মিঠুন। আর সে কারণে এ রাজ্যে মিঠুনের গোপন নাম ‘ফাদার তেরেসা’।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিশুরা নিজেদের গড়ে তুললে দেশ সঠিকভাবে গড়ে উঠবে: প্রধানমন্ত্রী

বাংলায় অসহায়দের পাশে অভিমানী মিঠুন

আপডেট সময় ০৯:২৬:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২০

আকাশ বিনোদন ডেস্ক:

ভারতজুড়ে করোনা আতঙ্কে চলছে লকডাউন। সম্প্রতি এরই মধ্যে পিতৃহারা হয়েছেন বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জে জন্ম নেওয়া অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। বাবার অন্ত্যেষ্টিতে, পাশে থাকতে পারেনি ভারতের এই সফল অভিনেতা। কারণ লকডাউনের জন্য মিঠুন বর্তমানে বেঙ্গালুরুতে। ফলে তার বড় ছেলে মিমোই করেছিলেন দাদুর অন্ত্যেষ্টি।

কিন্তু চাইলে অনায়েসে বাবার শেষকৃত্যে যোগ দিতে পারতেন মিঠুন চক্রবর্তী। কারণ তিনি ছিলেন ভারতের সাবেক সংসদ সদস্য, ফলে ভিভিআইপি বন্দোবস্ত তার প্রাপ্য। আর সে কারণেই কর্ণাটক সরকার মিঠুনকে বলেছিলেন, তিনি চাইলে বিশেষ বিমানের বন্দোবস্ত করে দিতে পারবে অথবা কোনো গাড়ির ভিভিআইপি পাশ! তবে চলমান লকডাউনে মিঠুন রাজি হননি।

এই কিংবদন্তি বলেছিলেন, যেখানে সাধারণ থেকে শুরু করে গরীব মানুষ সংকটে। এই সংকটের সময় আমি এমন কোনো বাড়তি সুবিধা নিতে রাজি নই। অনেকেরই আমার মত ভিনরাজ্যে পরিবারে কেউ না কেউ মারা যাচ্ছেন। তারা যখন লকডাউনের নিয়ম মেনে চলছেন তাহলে আমি নিয়ম ভাঙবো কেন?

আর সে কারণেই তার বড় ছেলে মিমোই শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছিলেন।

আপাতত কর্ণাটকের রাজধানী ব্যাঙ্গালোরে বসবাস করলেও, লকডাউনে বিধ্বস্ত পশ্চিম বাংলাবাসীদের কথা কখনোই ভোলেনি মিঠুন। যে কারণে ওখানে বসেই পরিকল্পনামাফিক করোনা ত্রাণের কাজে সহযোগিতা করছেন তিনি।

২০১৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে রাজ্যসভার এমপি হয়েছিলেন মিঠুন। তারপর আড়াই বছরের একটু বেশি সময় তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন। এরপর পশ্চিমবঙ্গের নিরিখে সবচেয়ে বড় দুর্নীতি, বিশ হাজার কোটি রুপির আর্থিক কেলেঙ্কারি ‘সারদা কাণ্ড’-এ তার নাম জড়ানোর পর তিনি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন।

পাশাপাশি সারদার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে যে ২০ কোটি অর্থ উপার্জন করেছিলে তাও ফেরত দিয়ে দেন সরকারকে। এরপরই বঙ্গবাসীর থেকে অভিমানে অন্তরাল চলে যান মিঠুন। এরপর শেষ কলকাতায় এসেছিলেন ২০১৮ সালে। কলকাতায় শুটিং করেছিলেন সোহম আর শ্রাবন্তীর সঙ্গে ‘ডান্স বাংলা ডান্স’ রিয়েলিটি শো’তে।

এরপর তার এ বছর মার্চে কলকাতায় আরও একটা সিনেমার শুটিং শুরু হওয়ার কথা ছিল। সেই ছবি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন নিয়ে।

অভিনেত্রী শ্রাবন্তী বলেন, আমি শৈশবে থেকেই দাদার ভক্ত। দাদাকে খুব মিস করি। উনি এমনভাবে সবার সঙ্গে কথা বলেন, যেন উনি তাদের পরিবারেরই মানুষ। কলকাতাকে দাদা খুব ভালোবাসেন।

মিঠুনকে নিয়ে সোহমের কথা, যখনই মিঠুন আঙ্কেলের নামে কিছু অশুভ খবর শুনি, বুকটা ছ্যাঁত করে ওঠে। একবার শুনেছিলাম, তার শরীর খুব খারাপ। কোমরে এত ব্যথা যে বিছানা ছেড়ে উঠতে পারছেন না। কিছুদিন বাদে শুনলাম দেশের বাইরে চলে গিয়েছেন। তারপর শুনলাম ভারতে ফিরেছেন। ভালো-মন্দ যে কোনো খবর আমার কানে আসে। কিন্তু সরাসরি খবর নিতে পারি না কারণ মিঠুন আঙ্কেল মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না।

সেই অভিমানী মিঠুন ফের পশ্চিমবাংলায় অর্থসাহায্য চালু করলেন করোনা সংকটকালে। তার ত্রাণ অসহায়দের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে সমাজসেবী ‘ভারতী’ নামে একটি এনজিওর মাধ্যমে। যা পাঠানো হচ্ছে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে।

মিঠুন মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না। তাকে সবাই পাচ্ছেন কিভাবে? এমন প্রশ্ন সবার মধ্যেই ছিল। কিন্তু জানা যায়, অসহায়দের মধ্যে কেউ কেউ মিঠুনের স্ত্রী যোগিতা চক্রবর্তীর ফোন নাম্বার জোগাড় করে সেখানে অনুরোধ পাঠাচ্ছেন। সেই অনুরোধের উপর ভিত্তি করে উপযুক্ত মনে হলে মিঠুন অনলাইনে পেমেন্ট করে দিচ্ছেন। এনজিও পরিচালকদের সঙ্গে তার এখনোও কোনও বাক্য আলাপই হয়নি বলেও জানা যায়।

মিঠুন যে এই করোনাকালে সহযোগিতা করছে তা নয়। দীর্ঘ কুড়ি পঁচিশ বছর ধরে মিঠুন পশ্চিমবঙ্গে দুর্গতদের হয়ে কাজ করে আসছেন। হিসেব বলছে, কখনো নিজের থেকে, কখন সংগ্রহ করে, সব মিলিয়ে দুর্গতদের জন্য এখন পর্যন্ত ৫০ থেকে ৬০ কোটি রুপি সহযোগিতা করেছেন তিনি। কিন্তু চমকপ্রদ বিষয় হচ্ছে এখন পর্যন্ত পশ্চিমবাংলায় মিঠুনের না আছে কোন জমি, না আছে কোনো বাড়ি-গাড়ি।

কিন্তু এখনো পশ্চিমবঙ্গ থেকে কেউ সহযোগিতা চাইলে না করেন না মিঠুন। আর সে কারণে এ রাজ্যে মিঠুনের গোপন নাম ‘ফাদার তেরেসা’।