ঢাকা ১০:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

গাজীপুরে কর্মস্থলে যোগ দিতে এখনও আসছেন শ্রমিকরা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যেই গাজীপুরে কাজ করছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সকাল থেকে দলে দলে কাজে যোগ দিয়েছেন তারা। কারখানার ভেতরে শ্রমিকদের হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সামাজিক নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে কারখানা কর্তৃপক্ষ নিয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। তবে কারখানা খোলার খবরে এখনও গ্রামের বাড়ি থেকে আসছেন শ্রমিকরা।

করোনাভাইরাসের হটস্পট ঘোষণার পরও থেমে নেই লোক সমাগম। এখনও শ্রমিকরা ট্রাকে, ভ্যান বা রিকশাসহ বিভিন্ন উপায়ে গ্রামের বাড়ি থেকে আসছেন। তাদের এক সঙ্গে গাদাগাদি করে আসা এবং কারখানায় এক সঙ্গে কাজ করায় করোনা ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা দিয়ে গেল রাত এবং ভোরে দলে দলে শ্রমিকরা গ্রামের বাড়ি থেকে গাজীপুরে কর্মস্থলে ফিরেছেন। একই ট্রাকে শত শত নারী পুরুষ এক সঙ্গে দাঁড়িয়ে বসে আসতে দেখা গেছে। তাদের মধ্যে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়ার ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। অনেকেই ফিরছেন ছোট ছোট ছেলেমেয়ে ও পরিবার নিয়ে।

শ্রমিকদের অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গণপরিবহন না থাকায় ট্রাক, পিকআপ, অটোরিকশা করে ভেঙে ভেঙে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে কর্মস্থলে এসেছেন। দীর্ঘ পথে নানা ভোগান্তিসহ বাড়তি ভাড়ার মাসুল গুনতে হয়েছে তাদের।

কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা বলছেন, কারখানায় স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও গণপরিবহন না থাকায় তাদের ভোগান্তি বেড়েছে। এখন পেটের দায়ে কারখানার ভেতরে কাজ করতে গেলেও বাইরের পরিবেশে স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্ভব হচ্ছে না। গণপরিবহনের অভাবে রিকশা, ভ্যানে গাদাগাদি করে কারখানায় আসতে হচ্ছে। এজন্য শ্রমিকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সীমিত পরিসরে গণপরিবহন চালুর দাবি তাদের।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশ সুপার সিদ্দিকুর রহমান জানান, গাজীপুরে দুই হাজার ৭২টি কারখানার মধ্যে আজ ১ হাজার ৮১৪টি কারখানার কর্তৃপক্ষ তাদের শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করেছে। এখনো শ্রমিকদের বেতন বকেয়া রেখেছে ২৫৮টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এছাড়া বর্তমানে বিজিএমইএ’র ৩০৩টি কারখানাসহ মোট ৫৫৪টি কারখানা খোলা রয়েছে। এই শিল্পাঞ্চলে সর্বমোট বন্ধ রয়েছে এক হাজার ৫১৮টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। কারখানায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে ধাপে ধাপে খোলা হচ্ছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, কারখানায় শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট থানার ওসিদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া শিল্প পুলিশ বিষয়টি তদারকি করছে। মালিকপক্ষ যেন শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে কাজ করায় সেই বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

এদিকে, লকডাউন অমান্য করে হাট বাজারে লোকজনের ভিড় দেখা গেছে। করোনার হটস্পট হিসেবে গাজীপুর তৃতীয় অবস্থান থাকলেও সাধারণ মানুষ মানছে না স্বাস্থ্যবিধি।

সিভিল সার্জন অফিসের হিসাব মতে, জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তিনজন। আইইডিসিআরে নুমনা পাঠানো হয় ৮৯ জনের। মোট আক্রান্ত ৩২৮ জন, নমুনা পরীক্ষা হয়েছে দুই হাজার ৩৮৭ জনের। আক্রান্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যবিভাগের কর্মী এবং পুলিশ সদস্য রয়েছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

গাজীপুরে কর্মস্থলে যোগ দিতে এখনও আসছেন শ্রমিকরা

আপডেট সময় ১০:২৩:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যেই গাজীপুরে কাজ করছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সকাল থেকে দলে দলে কাজে যোগ দিয়েছেন তারা। কারখানার ভেতরে শ্রমিকদের হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সামাজিক নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে কারখানা কর্তৃপক্ষ নিয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। তবে কারখানা খোলার খবরে এখনও গ্রামের বাড়ি থেকে আসছেন শ্রমিকরা।

করোনাভাইরাসের হটস্পট ঘোষণার পরও থেমে নেই লোক সমাগম। এখনও শ্রমিকরা ট্রাকে, ভ্যান বা রিকশাসহ বিভিন্ন উপায়ে গ্রামের বাড়ি থেকে আসছেন। তাদের এক সঙ্গে গাদাগাদি করে আসা এবং কারখানায় এক সঙ্গে কাজ করায় করোনা ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা দিয়ে গেল রাত এবং ভোরে দলে দলে শ্রমিকরা গ্রামের বাড়ি থেকে গাজীপুরে কর্মস্থলে ফিরেছেন। একই ট্রাকে শত শত নারী পুরুষ এক সঙ্গে দাঁড়িয়ে বসে আসতে দেখা গেছে। তাদের মধ্যে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়ার ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। অনেকেই ফিরছেন ছোট ছোট ছেলেমেয়ে ও পরিবার নিয়ে।

শ্রমিকদের অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গণপরিবহন না থাকায় ট্রাক, পিকআপ, অটোরিকশা করে ভেঙে ভেঙে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে কর্মস্থলে এসেছেন। দীর্ঘ পথে নানা ভোগান্তিসহ বাড়তি ভাড়ার মাসুল গুনতে হয়েছে তাদের।

কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা বলছেন, কারখানায় স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও গণপরিবহন না থাকায় তাদের ভোগান্তি বেড়েছে। এখন পেটের দায়ে কারখানার ভেতরে কাজ করতে গেলেও বাইরের পরিবেশে স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্ভব হচ্ছে না। গণপরিবহনের অভাবে রিকশা, ভ্যানে গাদাগাদি করে কারখানায় আসতে হচ্ছে। এজন্য শ্রমিকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সীমিত পরিসরে গণপরিবহন চালুর দাবি তাদের।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশ সুপার সিদ্দিকুর রহমান জানান, গাজীপুরে দুই হাজার ৭২টি কারখানার মধ্যে আজ ১ হাজার ৮১৪টি কারখানার কর্তৃপক্ষ তাদের শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করেছে। এখনো শ্রমিকদের বেতন বকেয়া রেখেছে ২৫৮টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এছাড়া বর্তমানে বিজিএমইএ’র ৩০৩টি কারখানাসহ মোট ৫৫৪টি কারখানা খোলা রয়েছে। এই শিল্পাঞ্চলে সর্বমোট বন্ধ রয়েছে এক হাজার ৫১৮টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। কারখানায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে ধাপে ধাপে খোলা হচ্ছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, কারখানায় শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট থানার ওসিদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া শিল্প পুলিশ বিষয়টি তদারকি করছে। মালিকপক্ষ যেন শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে কাজ করায় সেই বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

এদিকে, লকডাউন অমান্য করে হাট বাজারে লোকজনের ভিড় দেখা গেছে। করোনার হটস্পট হিসেবে গাজীপুর তৃতীয় অবস্থান থাকলেও সাধারণ মানুষ মানছে না স্বাস্থ্যবিধি।

সিভিল সার্জন অফিসের হিসাব মতে, জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তিনজন। আইইডিসিআরে নুমনা পাঠানো হয় ৮৯ জনের। মোট আক্রান্ত ৩২৮ জন, নমুনা পরীক্ষা হয়েছে দুই হাজার ৩৮৭ জনের। আক্রান্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যবিভাগের কর্মী এবং পুলিশ সদস্য রয়েছেন।