ঢাকা ০৮:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডিএসসিসির ‘ক্লিন কেয়ার’ ডিজিটাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম উদ্বোধন অর্থনীতির গতি বাড়াতে বীমা খাতকে আইনি কাঠামোয় আনার তাগিদ তথ্যমন্ত্রীর একটি গর্বের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী গণভোট না মানলে রাজনীতি সংঘাতের দিকে যেতে পারে: ১১ দলীয় ঐক্যের হুঁশিয়ারি স্কুল ফিডিংয়ে অনিয়মের অভিযোগ দ্রুত তদন্তের নির্দেশ গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তিনজনকে যাবজ্জীবন দল হিসেবে অপরাধের সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা মিলেছে: চিফ প্রসিকিউটর যাচাই-বাছাই করে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করা হচ্ছে : আইনমন্ত্রী জোর করে নয়, জনগণের ম্যান্ডেটে ক্ষমতায় এসেছে সরকার: রিজভী বিনিয়োগ সম্প্রসারণ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী ও মার্কিন রাষ্ট্রদূতের আলোচনা

ভেন্টিলেটর-সিসিইউ স্থাপনে ১৪শ কোটি টাকার জরুরি প্রকল্প

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিশ্বব্যাপী ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯)। এরই মধ্যে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে দুই লাখ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতেও করোনা ভাইরাস ছড়াচ্ছে দ্রুত। বাংলাদেশেও আক্রান্ত প্রায় ছয় হাজার। করোনা মোকাবিলায় তাই জরুরিভিত্তিতে ১৪শ কোটি ব্যয়ে ভেন্টিলেটর ও সিসিইউ স্থাপন, আইসোলেশন সেন্টারসহ বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

‘কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড ইমার্জেন্সি অ্যাসিসট্যান্স প্রকল্পে’র আওতায় এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। জরুরি হওয়ায় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা ছাড়াই প্রকল্পটি অনুমোদন পেতে যাচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সাড়ে তিন হাজার ডাক্তার ও নার্সকে আধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের তালিকায় আছেন স্টাফরাও। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভেন্টিলেটর স্থাপন করা হবে যে সব হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ১৭টি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ১৭টি আইসোলেশন সেন্টার ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটসহ ১৯টি ল্যাবরেটরি আপগ্রেড করা হবে।

প্রকল্পের মোট ব্যয় ১ হাজার ৪শ কোটি টাকা। এরমধ্যে ১০ কোটি ডলার দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। প্রতি ডলার সমান ৮৬ টাকা ধরে বাংলাদেশিয় মুদ্রায় ৮৬০ কোটি টাকা। বাকি অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে দেওয়া হবে। প্রকল্পটি জরুরিভিত্তিতে প্রস্তুত করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ইতোমধ্যেই প্রকল্পের সারসংক্ষেপ বিশেষ ব্যবস্থা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) পরিকল্পনা কমিশনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পটির ওপর পিইসি (প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি) সভা অনুষ্ঠিত হবে। পিইসি সভার ওপর পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান স্বাক্ষরিত প্রকল্পের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রজেক্ট প্রস্তাব) পাঠানো হবে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতির জন্য।

দেশের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা ছাড়াই প্রকল্পটি অনুমোদন পেতে যাচ্ছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্পের মাধ্যমে হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় পিপিই (পারসোনাল প্রোটেকটিভ ইক্যুইপমেন্ট), সার্জিক্যাল ব্যাগ, করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য অক্সিজেন দেওয়ার সরঞ্জাম কেনা হবে। জরুরি সহায়তায় সরকার বিভিন্ন সুরক্ষা সামগ্রী কিনতে পারবে। যার মধ্যে রয়েছে বিশেষ সুরক্ষা পোশাক, এন-৯৫ মাস্ক, সুরক্ষা চশমা, অ্যাপ্রোন, থার্মোমিটার, বায়োহ্যাজার্ড (সংক্রামক বর্জ্য ফেলার) ব্যাগ ইত্যাদি। স্বাস্থ্য অধিদফতর এই তালিকা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তৈরি করেছে। এই ইক্যুইপমেন্ট করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে।

পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) আবুল কালাম আজাদ এ বিষয়ে বলেন, বিশেষ ব্যবস্থায় জরুরিভিত্তিতে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি প্রস্তুত করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বুধবার জরুরি পিইসি সভার পরেই পরিকল্পনামন্ত্রী হয়ে প্রকল্পের ডিপিপি প্রধানমন্ত্রীর অফিসে পাঠানো হবে। হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যাক আইসোলেশন ও ভেন্টিলেটর স্থাপন করা হবে প্রকল্পের আওতায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিএসসিসির ‘ক্লিন কেয়ার’ ডিজিটাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম উদ্বোধন

ভেন্টিলেটর-সিসিইউ স্থাপনে ১৪শ কোটি টাকার জরুরি প্রকল্প

আপডেট সময় ০৮:১১:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিশ্বব্যাপী ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯)। এরই মধ্যে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে দুই লাখ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতেও করোনা ভাইরাস ছড়াচ্ছে দ্রুত। বাংলাদেশেও আক্রান্ত প্রায় ছয় হাজার। করোনা মোকাবিলায় তাই জরুরিভিত্তিতে ১৪শ কোটি ব্যয়ে ভেন্টিলেটর ও সিসিইউ স্থাপন, আইসোলেশন সেন্টারসহ বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

‘কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড ইমার্জেন্সি অ্যাসিসট্যান্স প্রকল্পে’র আওতায় এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। জরুরি হওয়ায় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা ছাড়াই প্রকল্পটি অনুমোদন পেতে যাচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সাড়ে তিন হাজার ডাক্তার ও নার্সকে আধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের তালিকায় আছেন স্টাফরাও। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভেন্টিলেটর স্থাপন করা হবে যে সব হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ১৭টি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ১৭টি আইসোলেশন সেন্টার ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটসহ ১৯টি ল্যাবরেটরি আপগ্রেড করা হবে।

প্রকল্পের মোট ব্যয় ১ হাজার ৪শ কোটি টাকা। এরমধ্যে ১০ কোটি ডলার দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। প্রতি ডলার সমান ৮৬ টাকা ধরে বাংলাদেশিয় মুদ্রায় ৮৬০ কোটি টাকা। বাকি অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে দেওয়া হবে। প্রকল্পটি জরুরিভিত্তিতে প্রস্তুত করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ইতোমধ্যেই প্রকল্পের সারসংক্ষেপ বিশেষ ব্যবস্থা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) পরিকল্পনা কমিশনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পটির ওপর পিইসি (প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি) সভা অনুষ্ঠিত হবে। পিইসি সভার ওপর পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান স্বাক্ষরিত প্রকল্পের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রজেক্ট প্রস্তাব) পাঠানো হবে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতির জন্য।

দেশের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা ছাড়াই প্রকল্পটি অনুমোদন পেতে যাচ্ছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্পের মাধ্যমে হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় পিপিই (পারসোনাল প্রোটেকটিভ ইক্যুইপমেন্ট), সার্জিক্যাল ব্যাগ, করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য অক্সিজেন দেওয়ার সরঞ্জাম কেনা হবে। জরুরি সহায়তায় সরকার বিভিন্ন সুরক্ষা সামগ্রী কিনতে পারবে। যার মধ্যে রয়েছে বিশেষ সুরক্ষা পোশাক, এন-৯৫ মাস্ক, সুরক্ষা চশমা, অ্যাপ্রোন, থার্মোমিটার, বায়োহ্যাজার্ড (সংক্রামক বর্জ্য ফেলার) ব্যাগ ইত্যাদি। স্বাস্থ্য অধিদফতর এই তালিকা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তৈরি করেছে। এই ইক্যুইপমেন্ট করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে।

পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) আবুল কালাম আজাদ এ বিষয়ে বলেন, বিশেষ ব্যবস্থায় জরুরিভিত্তিতে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি প্রস্তুত করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বুধবার জরুরি পিইসি সভার পরেই পরিকল্পনামন্ত্রী হয়ে প্রকল্পের ডিপিপি প্রধানমন্ত্রীর অফিসে পাঠানো হবে। হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যাক আইসোলেশন ও ভেন্টিলেটর স্থাপন করা হবে প্রকল্পের আওতায়।