ঢাকা ০৬:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাপানে ৭.১ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প ট্রাম্পের স্ত্রীকে বিষ প্রয়োগে হত্যার পরিকল্পনা, নিশানায় ছেলেও স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তির বিকাশে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্ভুল অগ্রগতি প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশনা চাপে পড়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহার করবে শুভেন্দু সরকার ফ্যামিলি কার্ডে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্যমন্ত্রী আম্মারসহ শিবির নেতাদের হামলায় আহত ২ শিক্ষার্থী কারাগারে বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক যুক্ত হচ্ছে না: ডা. জাহেদ দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে পুড়ে ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু

ইতালিতে দুই চিকিৎসকসহ আরও ৬৮১ জনের মৃত্যু

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

করোনাভাইরাসে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে ইউরোপের দেশ ইতালি। মৃত্যুর সংখ্যা যেমন দিনদিন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। করোনাভাইরাস আতঙ্কে হতাশায় দিন কাটাচ্ছে ইতালির ছয় কোটি মানুষ। জনগণকে সুরক্ষা দিতে ইতালি সরকার করোনা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তা সত্ত্বেও করোনাভাইরাসে ইতালিতে মৃত্যুর মিছিল অব্যাহত আছে।

শনিবার দুই চিকিৎসকসহ প্রাণ হারিয়েছে ৬৮১ জন। এ নিয়ে মোট ৮০ চিকিৎসক করোনাভাইরাসে প্রাণ হারিয়েছে এবং ১১ হাজার ২৫২ জন চিকিৎসা কর্মী আক্রান্ত হয়েছে। শনিবার প্রধানমন্ত্রী জোসেপ্পে কন্তের সুরক্ষা বাহিনীর ৫২ বছরের একজন পুলিশ অফিসার করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। আজকের মৃত্যহার আগের কদিনের চেয়ে কম। শুক্রবার প্রাণ হারায় ৭৬৬ জন। বৃহস্পতিবার প্রাণ ৭৬০ জন। বুধবার প্রাণহানির সংখ্যা ছিল ৭২৭ জন। এ পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১৫ হাজার ৩৬২ জন। একদিনে নতুন আক্রান্ত চার হাজার ৫৮৫ জন। দেশটিতে গুরুতর অসুস্থ রোগীর সংখ্যা চার হাজার ৮০৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এক হাজার ২৩৮ জন । চিকিৎসাধীন ৮৮ হাজার ২৭৪ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এক লাখ ২৪ হাজার ৬৩২ জন বলে জানিয়েছেন নাগরিক সুরক্ষা সংস্থার প্রধান অ্যাঞ্জেলো বোরেল্লি।

তিনি বলেন, জনগণকে সুরক্ষা দিতে সরকার করোনা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে এ পর্যন্ত চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২০ হাজার ৯৯৬ জন।

ইতালির ২১ অঞ্চলের মধ্যে লোম্বারদিয়ায় করোনার সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত (মিলান, বেরগামো, ব্রেসিয়া, ক্রেমনাসহ) ১১টি প্রদেশ। আজ এ অঞ্চলে মারা গেছে ৩৪৫ জন। শুধু এ অঞ্চলেই মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে আট হাজার ৬৫৬ জনে দাঁড়িয়েছে। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪৯ হাজার ১১৮ জন। আজ মোট আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ৫৯৮ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১১০৮ জন।

প্রধানমন্ত্রী জোসেপ্পে কন্তে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে, জনগণের মনে সাহস জোগাতে প্রায় প্রতিদিনই সান্ত্বনা দিয়ে টেলিভিশনে ভাষণ দিচ্ছেন। কারো যেন মনোবল এখনই দুর্বল হয়ে না যায়। করোনা মোকাবিলায় জনগণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। জোসেপ্পে কন্তে দেশজুড়ে ‘জরুরি নয়’এমন সব ধরনের ব্যবসা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া বাড়ির বাইরে সবধরনের খেলাধুলা ও ব্যায়াম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভেন্ডিং মেশিনের ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সুপার মার্কেট, ফার্মেসি, পোস্ট অফিস ও ব্যাংক খোলা থাকবে এবং গণপরিবহনও সচল থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালি বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। তবে দেশের এই কঠিনতম সময় সহসাই কাটিয়ে উঠার আশ্বাস দেন তিনি। এদিকে লকডাউন ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

শনিবার মিলানের মেয়র জোসেপ্পে সালা বলেন, মিলানে এখনো প্রচুর লোক বাইরে চলাচল করছে। তিনি দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ করেন আরো বেশি কঠোর হতে এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে যারা বাইরে ঘোরাফেরা করছে, তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী জোসেপ্পে কন্তের আহবানে সাড়া দিয়ে দেশের এই দুর্দিনে ৭ হাজার ২২০ জন অবসরপ্রাপ্ত ডাক্তার, নার্স ও অ্যাম্বুলেন্স কর্মী স্বাস্থ্যসেবা দিতে করোনা আক্রান্তদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। শনিবার মিশরের স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে ইতালিতে এসেছেন। এছাড়াও করোনায় আক্রান্তদের সহযোগিতায় আলবেনিয়া, চীন, কিউবা এবং রাশিয়া থেকে আগত মেডিকেল টিম ইতালির বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রান্তদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘন্টায় ইউরোপের অন্যান্য দেশে প্রাণ হারানোর সংখ্যা স্পেন ৫৪৬ জন, জার্মান ৫৫ জন, ইংল্যান্ড ৭০৮ জন, সুইজারল্যান্ড ৫০ জন, বেলজিয়াম ১৪০ জন, হল্যান্ড ১৬৪ জন, অস্ট্রিয়া ২০ জন, পর্তুগাল ২০ জন, নরওয়ে ৩ জন, সুইডেন ১৫ জন, ডেনমার্ক ২২ জন, পোল্যান্ড ২, রোমানিয়া ৮, গ্রিস ৫, ফিনল্যান্ড ৫ জন, স্লোভেনিয়া ২ জন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

ইতালিতে দুই চিকিৎসকসহ আরও ৬৮১ জনের মৃত্যু

আপডেট সময় ১২:১৮:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

করোনাভাইরাসে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে ইউরোপের দেশ ইতালি। মৃত্যুর সংখ্যা যেমন দিনদিন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। করোনাভাইরাস আতঙ্কে হতাশায় দিন কাটাচ্ছে ইতালির ছয় কোটি মানুষ। জনগণকে সুরক্ষা দিতে ইতালি সরকার করোনা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তা সত্ত্বেও করোনাভাইরাসে ইতালিতে মৃত্যুর মিছিল অব্যাহত আছে।

শনিবার দুই চিকিৎসকসহ প্রাণ হারিয়েছে ৬৮১ জন। এ নিয়ে মোট ৮০ চিকিৎসক করোনাভাইরাসে প্রাণ হারিয়েছে এবং ১১ হাজার ২৫২ জন চিকিৎসা কর্মী আক্রান্ত হয়েছে। শনিবার প্রধানমন্ত্রী জোসেপ্পে কন্তের সুরক্ষা বাহিনীর ৫২ বছরের একজন পুলিশ অফিসার করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। আজকের মৃত্যহার আগের কদিনের চেয়ে কম। শুক্রবার প্রাণ হারায় ৭৬৬ জন। বৃহস্পতিবার প্রাণ ৭৬০ জন। বুধবার প্রাণহানির সংখ্যা ছিল ৭২৭ জন। এ পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১৫ হাজার ৩৬২ জন। একদিনে নতুন আক্রান্ত চার হাজার ৫৮৫ জন। দেশটিতে গুরুতর অসুস্থ রোগীর সংখ্যা চার হাজার ৮০৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এক হাজার ২৩৮ জন । চিকিৎসাধীন ৮৮ হাজার ২৭৪ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এক লাখ ২৪ হাজার ৬৩২ জন বলে জানিয়েছেন নাগরিক সুরক্ষা সংস্থার প্রধান অ্যাঞ্জেলো বোরেল্লি।

তিনি বলেন, জনগণকে সুরক্ষা দিতে সরকার করোনা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে এ পর্যন্ত চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২০ হাজার ৯৯৬ জন।

ইতালির ২১ অঞ্চলের মধ্যে লোম্বারদিয়ায় করোনার সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত (মিলান, বেরগামো, ব্রেসিয়া, ক্রেমনাসহ) ১১টি প্রদেশ। আজ এ অঞ্চলে মারা গেছে ৩৪৫ জন। শুধু এ অঞ্চলেই মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে আট হাজার ৬৫৬ জনে দাঁড়িয়েছে। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪৯ হাজার ১১৮ জন। আজ মোট আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ৫৯৮ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১১০৮ জন।

প্রধানমন্ত্রী জোসেপ্পে কন্তে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে, জনগণের মনে সাহস জোগাতে প্রায় প্রতিদিনই সান্ত্বনা দিয়ে টেলিভিশনে ভাষণ দিচ্ছেন। কারো যেন মনোবল এখনই দুর্বল হয়ে না যায়। করোনা মোকাবিলায় জনগণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। জোসেপ্পে কন্তে দেশজুড়ে ‘জরুরি নয়’এমন সব ধরনের ব্যবসা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া বাড়ির বাইরে সবধরনের খেলাধুলা ও ব্যায়াম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভেন্ডিং মেশিনের ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সুপার মার্কেট, ফার্মেসি, পোস্ট অফিস ও ব্যাংক খোলা থাকবে এবং গণপরিবহনও সচল থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালি বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। তবে দেশের এই কঠিনতম সময় সহসাই কাটিয়ে উঠার আশ্বাস দেন তিনি। এদিকে লকডাউন ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

শনিবার মিলানের মেয়র জোসেপ্পে সালা বলেন, মিলানে এখনো প্রচুর লোক বাইরে চলাচল করছে। তিনি দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ করেন আরো বেশি কঠোর হতে এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে যারা বাইরে ঘোরাফেরা করছে, তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী জোসেপ্পে কন্তের আহবানে সাড়া দিয়ে দেশের এই দুর্দিনে ৭ হাজার ২২০ জন অবসরপ্রাপ্ত ডাক্তার, নার্স ও অ্যাম্বুলেন্স কর্মী স্বাস্থ্যসেবা দিতে করোনা আক্রান্তদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। শনিবার মিশরের স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে ইতালিতে এসেছেন। এছাড়াও করোনায় আক্রান্তদের সহযোগিতায় আলবেনিয়া, চীন, কিউবা এবং রাশিয়া থেকে আগত মেডিকেল টিম ইতালির বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রান্তদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘন্টায় ইউরোপের অন্যান্য দেশে প্রাণ হারানোর সংখ্যা স্পেন ৫৪৬ জন, জার্মান ৫৫ জন, ইংল্যান্ড ৭০৮ জন, সুইজারল্যান্ড ৫০ জন, বেলজিয়াম ১৪০ জন, হল্যান্ড ১৬৪ জন, অস্ট্রিয়া ২০ জন, পর্তুগাল ২০ জন, নরওয়ে ৩ জন, সুইডেন ১৫ জন, ডেনমার্ক ২২ জন, পোল্যান্ড ২, রোমানিয়া ৮, গ্রিস ৫, ফিনল্যান্ড ৫ জন, স্লোভেনিয়া ২ জন।