ঢাকা ০৫:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার যথাযথ প্রয়োগ চায় এনসিপি কানাডায় এমপি মনোনয়ন পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি ১২ ফেব্রুয়ারির আগে শেরপুর-৩ আসনে তফসিল ঘোষণার সুযোগ নেই: ইসি মাছউদ রিপাবলিকানদের ভোটের নিয়ন্ত্রণ নিতে বললেন ট্রাম্প জয়ের ভার্চুয়াল বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া আ.লীগ সমর্থকদের ৪৮ শতাংশের পছন্দ বিএনপি: সিআরএফের জরিপ স্বৈরাচারের মতোই গুপ্তরা এখন নতুন জালিমে পরিণত হয়েছে : তারেক রহমান জুলাই সনদ রক্তের অক্ষরে শপথের স্বাক্ষর: আলী রীয়াজ মা-বোনদের কটু কথা নয়, সম্মান দিলেই বেহেশত পেতে পারি: মির্জা ফখরুল উত্তরবঙ্গকে আমরা কৃষিশিল্পের রাজধানীতে পরিণত করব : জামায়াত আমির

মহাজোটে কেন যেতে চায় যুক্তফ্রন্ট? জবাব দিলেন মাহী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গত ৮ নভেম্বর ইসির তফসিল ঘোষণার পর দেশে চলছে নির্বাচনী ডামাডোল। দেশে জোটবদ্ধ রাজনৈতিক দলের মধ্যে আসনবণ্টন ও দলীয় মনোনয়ন বিক্রিতে উৎসবমুখর পরিবেশ যেমন আছে, তেমনি তাদের শরিক দলগুলোদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি ও দলীয় প্রতীকে মনোনয়ন দেয়া-নেয়া নিয়ে চলছে কিছুটা অস্তিরতা।

এরই মধ্যে আবারও আলোচনায় এসেছে সাবেক প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট। আওয়ামী লীগ তাদের মহাজোটের পরিসর আরও বাড়াতে যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে দেন দরবার শুরু করেছে।

মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের ধানমণ্ডির কার্যালয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করেন বিকল্পধারার দুই নেতা মহাসচিব আবদুল মান্নান ও যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সঙ্গে জোটবদ্ধ হতে পারে বলে ওই বৈঠকে আভাস পাওয়া গেছে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মাহী বি চৌধুরী বলেন, আমরা নির্বাচনে আসছি সেটা শতভাগ নিশ্চিত। আর জোটগত নির্বাচনে আসা অসম্ভব নয়। এজন্য আলোচনা করতে আমরা কথা বলেছি। তবে আনুষ্ঠানিক আলোচনার আগে এর চেয়ে বেশি খুলে বলা যাবে না।

এর আগে রোববার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের বৈঠক শেষে ওবায়দুল কাদের মহাজোটের সঙ্গে যুক্তফ্রন্ট যুক্ত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

এত দিন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের বিপরীতে অবস্থান নিলেও এখন তাদের সঙ্গে কেন জোট বাঁধতে চাইছে যুক্তফ্রন্ট? এমন প্রশ্নে মাহী বি চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘আমরা সবসময় বলেছি, আমরা বিরুদ্ধবাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে… বিকল্পধারা তো জন্মের পর থেকে কখনোই বিএনপি বা আওয়ামী লীগ কারো বিরুদ্ধে রাজনীতি করে নাই।

তিনি বলেন, আমরা তো একসময় বিএনপি থেকে বেরিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলাম। পরে সেই বিএনপির সঙ্গেও তো আমরা এত দিন আলোচনা করেছি, যে আমাদের নীতির ওপর ভিত্তি করে বৃহত্তর ঐক্য গঠন করা যায় কিনা। সেটা হয়নি। কিন্তু আমরা আমাদের চেষ্টা থেকে সরে যাইনি।’

রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনে আওয়ামী লীগসহ মহাজোটে সম্পৃক্ত হওয়া ইচ্ছা পোষণ করেন মাহী।

এছাড়া দেশবিরোধী শক্তিকে রুখে দেয়ার পাশাপাশি গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং গণতন্ত্রবিরোধী সব ধরনের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে মহাজোটের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন বি চৌধুরীপুত্র মাহী।

মাহী বলেন, ‘সাংবিধানিক এই সরকার যেন হঠাৎ হোঁচট না খায়, এ জন্য আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনায় বসেছি। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা না হওয়ায় কোনো কিছুই নিশ্চিত নয়।’

তিনি বলেন, ‘মহাজোট সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা নিজেদের দাবি আদায়ে ইতিবাচক মনোভাব নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছি। দেশের যে দুটো প্রধান দল তাদের মাঝামাঝি থেকেই দাবি আদায়ের চেষ্টা করেছি আমরা।’

মহাজোট সম্প্রসারণের মধ্যে দিয়ে যদি শরিকদের একটি প্ল্যাটফর্মের মধ্যে নিয়ে আসা যায় তাহলে এতে বাংলাদেশের মানুষ উপকৃত হবে বলে উল্লেখ করেন মাহী বি চৌধুরী।

গণফোরাম সভাপতি ও বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সামনে যুক্তফ্রন্ট যে দাবি এবং লক্ষ্যগুলো রেখেছিল, এবার সেই একই বিষয়গুলো নিয়ে মহাজোটের সঙ্গে সুনির্দিষ্টভাবে আলোচনা করবেন বলে জানান মাহী।

মহাজোটের সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে প্রধান তিনটি বিষয়কে বিবেচনায় রাখার কথা জানান তিনি। সেগুলো হচ্ছে- গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অক্ষুণ্ণ রাখা, সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থাকে অক্ষুণ্ণ রাখা ও স্বেচ্ছাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করা।

এছাড়া আর কী কী বিষয়ে আলোচনা হতে পারে সেগুলো আজকের (বুধবার) দলীয় বৈঠকে চূড়ান্ত করার কথা জানান তিনি।

তবে মহাজোটের সঙ্গে নির্বাচনে আসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলেই আসন নিয়ে আলোচনা করবে বলে জানিয়েছে যুক্তফ্রন্ট।

এদিকে মহাজোটের সঙ্গে যুক্তফ্রন্টের জোটবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি বিফলে যাবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মাহী বি চৌধুরী। বলেন, ‘যখন আমরা কোনো কাজ শুরু করি তখন তো অকৃতকার্য হওয়ার মানসিকতা নিয়ে শুরু করি না। আমরা এখন পর্যন্ত আশাবাদী বলেই মহাজোট গঠনের বিষয়ে আমাদের প্রত্যাশা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে যখন আমরা জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া চালাচ্ছিলাম, তখন আমরা পুরো আশাবাদ ব্যক্ত করে আলোচনা চালিয়েছি। ঐক্যফ্রন্ট ভেঙে যেতে পারে এমন কোনো চিন্তা করিনি। কিন্তু ঐক্যফ্রন্ট ভেঙেছে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার যথাযথ প্রয়োগ চায় এনসিপি

মহাজোটে কেন যেতে চায় যুক্তফ্রন্ট? জবাব দিলেন মাহী

আপডেট সময় ০৮:১৩:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গত ৮ নভেম্বর ইসির তফসিল ঘোষণার পর দেশে চলছে নির্বাচনী ডামাডোল। দেশে জোটবদ্ধ রাজনৈতিক দলের মধ্যে আসনবণ্টন ও দলীয় মনোনয়ন বিক্রিতে উৎসবমুখর পরিবেশ যেমন আছে, তেমনি তাদের শরিক দলগুলোদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি ও দলীয় প্রতীকে মনোনয়ন দেয়া-নেয়া নিয়ে চলছে কিছুটা অস্তিরতা।

এরই মধ্যে আবারও আলোচনায় এসেছে সাবেক প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট। আওয়ামী লীগ তাদের মহাজোটের পরিসর আরও বাড়াতে যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে দেন দরবার শুরু করেছে।

মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের ধানমণ্ডির কার্যালয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করেন বিকল্পধারার দুই নেতা মহাসচিব আবদুল মান্নান ও যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সঙ্গে জোটবদ্ধ হতে পারে বলে ওই বৈঠকে আভাস পাওয়া গেছে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মাহী বি চৌধুরী বলেন, আমরা নির্বাচনে আসছি সেটা শতভাগ নিশ্চিত। আর জোটগত নির্বাচনে আসা অসম্ভব নয়। এজন্য আলোচনা করতে আমরা কথা বলেছি। তবে আনুষ্ঠানিক আলোচনার আগে এর চেয়ে বেশি খুলে বলা যাবে না।

এর আগে রোববার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের বৈঠক শেষে ওবায়দুল কাদের মহাজোটের সঙ্গে যুক্তফ্রন্ট যুক্ত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

এত দিন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের বিপরীতে অবস্থান নিলেও এখন তাদের সঙ্গে কেন জোট বাঁধতে চাইছে যুক্তফ্রন্ট? এমন প্রশ্নে মাহী বি চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘আমরা সবসময় বলেছি, আমরা বিরুদ্ধবাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে… বিকল্পধারা তো জন্মের পর থেকে কখনোই বিএনপি বা আওয়ামী লীগ কারো বিরুদ্ধে রাজনীতি করে নাই।

তিনি বলেন, আমরা তো একসময় বিএনপি থেকে বেরিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলাম। পরে সেই বিএনপির সঙ্গেও তো আমরা এত দিন আলোচনা করেছি, যে আমাদের নীতির ওপর ভিত্তি করে বৃহত্তর ঐক্য গঠন করা যায় কিনা। সেটা হয়নি। কিন্তু আমরা আমাদের চেষ্টা থেকে সরে যাইনি।’

রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনে আওয়ামী লীগসহ মহাজোটে সম্পৃক্ত হওয়া ইচ্ছা পোষণ করেন মাহী।

এছাড়া দেশবিরোধী শক্তিকে রুখে দেয়ার পাশাপাশি গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং গণতন্ত্রবিরোধী সব ধরনের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে মহাজোটের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন বি চৌধুরীপুত্র মাহী।

মাহী বলেন, ‘সাংবিধানিক এই সরকার যেন হঠাৎ হোঁচট না খায়, এ জন্য আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনায় বসেছি। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা না হওয়ায় কোনো কিছুই নিশ্চিত নয়।’

তিনি বলেন, ‘মহাজোট সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা নিজেদের দাবি আদায়ে ইতিবাচক মনোভাব নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছি। দেশের যে দুটো প্রধান দল তাদের মাঝামাঝি থেকেই দাবি আদায়ের চেষ্টা করেছি আমরা।’

মহাজোট সম্প্রসারণের মধ্যে দিয়ে যদি শরিকদের একটি প্ল্যাটফর্মের মধ্যে নিয়ে আসা যায় তাহলে এতে বাংলাদেশের মানুষ উপকৃত হবে বলে উল্লেখ করেন মাহী বি চৌধুরী।

গণফোরাম সভাপতি ও বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সামনে যুক্তফ্রন্ট যে দাবি এবং লক্ষ্যগুলো রেখেছিল, এবার সেই একই বিষয়গুলো নিয়ে মহাজোটের সঙ্গে সুনির্দিষ্টভাবে আলোচনা করবেন বলে জানান মাহী।

মহাজোটের সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে প্রধান তিনটি বিষয়কে বিবেচনায় রাখার কথা জানান তিনি। সেগুলো হচ্ছে- গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অক্ষুণ্ণ রাখা, সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থাকে অক্ষুণ্ণ রাখা ও স্বেচ্ছাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করা।

এছাড়া আর কী কী বিষয়ে আলোচনা হতে পারে সেগুলো আজকের (বুধবার) দলীয় বৈঠকে চূড়ান্ত করার কথা জানান তিনি।

তবে মহাজোটের সঙ্গে নির্বাচনে আসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলেই আসন নিয়ে আলোচনা করবে বলে জানিয়েছে যুক্তফ্রন্ট।

এদিকে মহাজোটের সঙ্গে যুক্তফ্রন্টের জোটবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি বিফলে যাবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মাহী বি চৌধুরী। বলেন, ‘যখন আমরা কোনো কাজ শুরু করি তখন তো অকৃতকার্য হওয়ার মানসিকতা নিয়ে শুরু করি না। আমরা এখন পর্যন্ত আশাবাদী বলেই মহাজোট গঠনের বিষয়ে আমাদের প্রত্যাশা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে যখন আমরা জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া চালাচ্ছিলাম, তখন আমরা পুরো আশাবাদ ব্যক্ত করে আলোচনা চালিয়েছি। ঐক্যফ্রন্ট ভেঙে যেতে পারে এমন কোনো চিন্তা করিনি। কিন্তু ঐক্যফ্রন্ট ভেঙেছে।’