ঢাকা ০৯:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

যে কারণে রাম মন্দির ইস্যু সামনে আনছে বিজেপি

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির নির্মাণের ইস্যুটি আবারো সামনে আনছে দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ঘোষণা করেছেন যে অযোধ্যায় হিন্দু দেবতা রামের একটি বিশালাকার মূর্তি তৈরির পরিকল্পনায় এখন চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হচ্ছে। মন্দিরের ভেতরে স্থাপন করা সেই মূর্তিটিই ভবিষ্যতে অযোধ্যার কেন্দ্রীয় আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলেও তিনি ঘোষণা করেছেন।

এছাড়া ফৈজাবাদ শহরে নাম বদল করে অযোধ্যা রেখেছেন তিনি। একইসাথে ঘোষণা করেছেন রামচন্দ্রের নামে বিমানবন্দর হবে আর মেডিক্যাল কলেজ হবে রামচন্দ্রের পিতা দশরথের নামে। এমন ঘোষণার একদিন পর বুধবার তিনি ঘোষণা দেন- অযোধ্যায় রামমন্দির তৈরি হবে, যেখানে থাকবে রামের একটি বিশালাকার মূর্তি।

তবে এটি বিতর্কিত ভূমিতে না হয়ে নতুন কোনো জায়গায় হতে পারে বলেই আভাস দিয়েছেন তিনি। প্রায় তিনদশক আগে থেকে বাবরি মসজিদের চত্বরেই রাম মন্দির তৈরি করতে হবে, এই দাবী তুলে এসেছে বিজেপি এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো।

এ বিষয়টি এখন দেশটির সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। মনে করা হয়েছিল হয়ত দ্রুত সেই মামলার শুনানি শুরু করে দেবে শীর্ষ আদালত, কিন্তু জানুয়ারির আগে তার সম্ভাবনা নাকচ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই বিজেপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো একদিকে, অন্যদিক সাধু-সন্তরা নতুন করে অযোধ্যায় রাম মন্দিরের ইস্যুটাকে সামনে নিয়ে আসছেন।

কেন রামমন্দির ইস্যুকে এখন নতুন করে সামনে নিয়ে আসতে চাইছে বিজেপি এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো? এমন প্রশ্নের জবাবে ওপার বাংলার এক সাংবাদিক জানান, ‘গত লোকসভা নির্বাচনের আগে নরেন্দ্র মোদি নিজেকে ভারতের একজন ত্রাতা হিসাবে তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু চারবছর পরে দেখা যাচ্ছে বলার মতো সেরকম কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তার হাতে নেই। সেজন্যই এতদিন পরে রামমন্দির ইস্যুকে তারা তুলে নিয়ে আসছে। যাতে সাধু-সন্ত, আরএসএস, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ- সকলের যৌথ প্রচেষ্টায় হিন্দু ভোট একত্র করা যায়।‘

গত সাধারণ নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপির প্রচারের মূল স্লোগান ছিল উন্নয়ন। ক্ষমতায় আসার পরেও দীর্ঘ চার বছরের বেশী সময় ধরে মোদী এবং তার সরকারের মন্ত্রীরাও সেই উন্নয়নের কথাই বলে গেছেন। কিন্তু এতদিন পরে উন্নয়নের স্লোগান ছেড়ে কেন আবার সেই মন্দিরের ইস্যু তুলে আনছে বিজেপি- তার ব্যাখ্যা দিয়ে দিল্লির সিনিয়র সাংবাদিক গৌতম লাহিড়ী বলেন, ‘মূল উদ্দেশ্য লোকসভার ভোট। মোদি যুবকদের কর্মসংস্থানের ওপরে খুব জোর দিয়েছিলেন, কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে পরিস্থিতি ভাল নয়। সেজন্যই পুরনো, পরিচিত এবং পরীক্ষিত পথে হিন্দু ভাবাবেগকে কাজে লাগিয়ে ভোটের বৈতরণী পেরুতে চাইছেন।’

কলকাতার চারুচন্দ্র কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক বিমল শঙ্কর নন্দ অবশ্য মনে করেন অযোধ্যা এবং রামমন্দির বহুদিন ধরেই বিজেপির মূল ইস্যু। সেই ইস্যু থেকে সরে এলে যেমন নির্বাচনী ফলাফলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, তেমনই এটা বিরোধী দলগুলি যেভাবে জাতপাতের রাজনীতি করছে নানা রাজ্যে, তারই পাল্টা হিসাবে ধর্মীয় রাজনীতির কৌশল বিজেপির। কিছুটা পিছনের সারিতে চলে যাওয়ার পরও যে ফের রামমন্দির ইস্যু প্রচারে নিয়ে আসা হচ্ছে নির্বাচনের দিকে নজর রেখে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে দ্বিমত নেই।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

যে কারণে রাম মন্দির ইস্যু সামনে আনছে বিজেপি

আপডেট সময় ১২:৩০:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ নভেম্বর ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির নির্মাণের ইস্যুটি আবারো সামনে আনছে দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ঘোষণা করেছেন যে অযোধ্যায় হিন্দু দেবতা রামের একটি বিশালাকার মূর্তি তৈরির পরিকল্পনায় এখন চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হচ্ছে। মন্দিরের ভেতরে স্থাপন করা সেই মূর্তিটিই ভবিষ্যতে অযোধ্যার কেন্দ্রীয় আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলেও তিনি ঘোষণা করেছেন।

এছাড়া ফৈজাবাদ শহরে নাম বদল করে অযোধ্যা রেখেছেন তিনি। একইসাথে ঘোষণা করেছেন রামচন্দ্রের নামে বিমানবন্দর হবে আর মেডিক্যাল কলেজ হবে রামচন্দ্রের পিতা দশরথের নামে। এমন ঘোষণার একদিন পর বুধবার তিনি ঘোষণা দেন- অযোধ্যায় রামমন্দির তৈরি হবে, যেখানে থাকবে রামের একটি বিশালাকার মূর্তি।

তবে এটি বিতর্কিত ভূমিতে না হয়ে নতুন কোনো জায়গায় হতে পারে বলেই আভাস দিয়েছেন তিনি। প্রায় তিনদশক আগে থেকে বাবরি মসজিদের চত্বরেই রাম মন্দির তৈরি করতে হবে, এই দাবী তুলে এসেছে বিজেপি এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো।

এ বিষয়টি এখন দেশটির সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। মনে করা হয়েছিল হয়ত দ্রুত সেই মামলার শুনানি শুরু করে দেবে শীর্ষ আদালত, কিন্তু জানুয়ারির আগে তার সম্ভাবনা নাকচ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই বিজেপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো একদিকে, অন্যদিক সাধু-সন্তরা নতুন করে অযোধ্যায় রাম মন্দিরের ইস্যুটাকে সামনে নিয়ে আসছেন।

কেন রামমন্দির ইস্যুকে এখন নতুন করে সামনে নিয়ে আসতে চাইছে বিজেপি এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো? এমন প্রশ্নের জবাবে ওপার বাংলার এক সাংবাদিক জানান, ‘গত লোকসভা নির্বাচনের আগে নরেন্দ্র মোদি নিজেকে ভারতের একজন ত্রাতা হিসাবে তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু চারবছর পরে দেখা যাচ্ছে বলার মতো সেরকম কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তার হাতে নেই। সেজন্যই এতদিন পরে রামমন্দির ইস্যুকে তারা তুলে নিয়ে আসছে। যাতে সাধু-সন্ত, আরএসএস, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ- সকলের যৌথ প্রচেষ্টায় হিন্দু ভোট একত্র করা যায়।‘

গত সাধারণ নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপির প্রচারের মূল স্লোগান ছিল উন্নয়ন। ক্ষমতায় আসার পরেও দীর্ঘ চার বছরের বেশী সময় ধরে মোদী এবং তার সরকারের মন্ত্রীরাও সেই উন্নয়নের কথাই বলে গেছেন। কিন্তু এতদিন পরে উন্নয়নের স্লোগান ছেড়ে কেন আবার সেই মন্দিরের ইস্যু তুলে আনছে বিজেপি- তার ব্যাখ্যা দিয়ে দিল্লির সিনিয়র সাংবাদিক গৌতম লাহিড়ী বলেন, ‘মূল উদ্দেশ্য লোকসভার ভোট। মোদি যুবকদের কর্মসংস্থানের ওপরে খুব জোর দিয়েছিলেন, কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে পরিস্থিতি ভাল নয়। সেজন্যই পুরনো, পরিচিত এবং পরীক্ষিত পথে হিন্দু ভাবাবেগকে কাজে লাগিয়ে ভোটের বৈতরণী পেরুতে চাইছেন।’

কলকাতার চারুচন্দ্র কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক বিমল শঙ্কর নন্দ অবশ্য মনে করেন অযোধ্যা এবং রামমন্দির বহুদিন ধরেই বিজেপির মূল ইস্যু। সেই ইস্যু থেকে সরে এলে যেমন নির্বাচনী ফলাফলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, তেমনই এটা বিরোধী দলগুলি যেভাবে জাতপাতের রাজনীতি করছে নানা রাজ্যে, তারই পাল্টা হিসাবে ধর্মীয় রাজনীতির কৌশল বিজেপির। কিছুটা পিছনের সারিতে চলে যাওয়ার পরও যে ফের রামমন্দির ইস্যু প্রচারে নিয়ে আসা হচ্ছে নির্বাচনের দিকে নজর রেখে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে দ্বিমত নেই।