ঢাকা ০২:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা না করার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সকল বৈচিত্র্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য মুক্ত বুদ্ধিচর্চা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জুলাই আন্দোলনকে কটাক্ষ:অভিনেত্রী শাওন, মাহিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ আওয়ামী লীগ দেশে আর কোনোদিন রাজনীতি করতে পারবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই স্মৃতি স্মারক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী কৃষি কার্ডের কারণে মধ্যস্বত্বভোগীরা সুবিধা নিতে পারবে না : কৃষিমন্ত্রী ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি, ব্যারিস্টার ফুয়াদকে আইনি নোটিশ শিক্ষকতার চেয়ে মহান পেশা আর কিছু হতে পারে না: মির্জা ফখরুল ঐতিহাসিক জয় ফিলিস্তিনকে উৎসর্গ করল মিসর, গাজায় আনন্দের ঢেউ ইমাম খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় স্পিকারের শ্রদ্ধা

ড. কামাল হোসেন রাজাকার: বিচারপতি মানিক

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেনকে রাজাকার বলেছেন সুপ্রিমকোর্টের সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। তিনি বলেছেন, ‘সোজা কথা, কামাল হোসেন একজন রাজাকার।’

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এ আলোচনায় বিচারপতি মানিক এ মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম আয়োজিত ‘সাম্প্রদায়িকতার সেকাল-একাল, আমাদের কথা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপির সঙ্গে ড. কামাল হোসেনের জোট গড়ার প্রসঙ্গ টেনে বিচারপতি মানিক বলেন, ‘কামাল হোসেন মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের সঙ্গে আঁতাত করছেন। যারা গ্রেনেড মেরে মানুষ হত্যা করেছে, তাদের সঙ্গে আজ আঁতাত করেছেন তিনি।’

তিনি বলেন, ‘আমি আশ্চর্য হইনি এ জন্য যে কামাল হোসেন নিজেও তো তাদেরই একজন। সেদিন একজন (বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মাদ ফরাসউদ্দিন) বলেছেন, পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যায় কামাল হোসেন জড়িত ছিল এই মর্মে অ্যাভিডেন্স পাওয়া যাচ্ছে, কথাটা উনি কিন্তু ভুল বলেননি, উনি সেই সময় বঙ্গবন্ধুর খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন।’

মিট্টা খা নামে এক পাকিস্তানি জেনারেলের লেখা থেকে উদ্ধৃত করে বিচারপতি মানিক বলেন, ‘মিট্টা খা ২০০৮ সালে ডিফেন্স জার্নাল নামে একটি ম্যাগাজিনে লিখেছেন,৭১-এর ২৮ মার্চ কামাল সাহেব মিট্টা খাকে ফোন করে বলল, সবাই তো চলে গেছে ভারতে, আমি যেতে চাই না, আমি মুক্তিযুদ্ধ-টুদ্ধ করব না, কিন্তু আমাকে ওই মুক্তিযোদ্ধারা মেরে ফেলবে, আমাকে দয়া করে রক্ষা করুন। মিট্টা খান তাকে ডিভিশনাল হেডকোয়ার্টারে নিয়ে আশ্রয় দিয়েছেলেন, প্রোটেকশন করেছিলেন এবং ২৯ মার্চ কামাল সাহেবকে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।’

মানিক বলেন, ‘তিনি আরও লিখেছেন- পাকিস্তানে চলে যাওয়ার পর উনি প্রতি মাসে কামাল সাহেবের সঙ্গে দেখা করতেন। কামাল সাহেব তখন তার শ্বশুর এবং তার সম্পর্কে শ্বশুর এ কে বদি আল্লাহবক্স-খোদাবক্স, খুব নামকরা উকিল ছিলেন, তার সঙ্গে প্র্যাকটিস করতেন।’

গত আগস্টে অর্থনীতি সমিতির এক অনুষ্ঠানে সাবেক গভর্নর ফরাসউদ্দিনের বক্তব্য উদ্ধৃতি করে বিচারপতি মানিক বলেন, ‘ফরাসউদ্দিন সাহেব বলেছেন সেদিন, কামাল হোসেনকে ওখানে (পাকিস্তানে) রাখা হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে সাক্ষী দেয়ার জন্য। কারণ তারা বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসি দেয়ার জন্য সব ঠিকঠাক করে রেখেছিল। আর এই ফাঁসি দেয়ার জন্য সাক্ষী দরকার ছিল। তাই কামাল হোসেনকে সাক্ষীর জন্য রেখেছিল।’

মানিক বলেন, ‘আইএসআই অত্যন্ত করিৎকর্মা একটি গোয়েন্দা সংস্থা, যখন আবার বঙ্গবন্ধুকে ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হলো তখন আবার কামাল সাহেবকে সেই প্লেনে উঠিয়ে দিয়েছে। এই হলো কামাল হোসেনের ইতিহাস, উনি একজন রাজাকার।’

অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের আলোচনা সভায় জিয়াউর রহমানেরও সমালোচনা করেন সাবেক বিচারপতি মানিক। বলেন, ‘কথাটা কিন্তু আমি অনেকের কাছ থেকে শুনেছি, উনি তো মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণই করেননি।… এটা আজকে স্পষ্ট, বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল নকশা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। ‘

আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জিনাত হুদা, সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ইয়াহিয়া জামান ও সাংবাদিক জাফর ওয়াজেদ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা না করার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ড. কামাল হোসেন রাজাকার: বিচারপতি মানিক

আপডেট সময় ০৬:২৫:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ নভেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেনকে রাজাকার বলেছেন সুপ্রিমকোর্টের সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। তিনি বলেছেন, ‘সোজা কথা, কামাল হোসেন একজন রাজাকার।’

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এ আলোচনায় বিচারপতি মানিক এ মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম আয়োজিত ‘সাম্প্রদায়িকতার সেকাল-একাল, আমাদের কথা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপির সঙ্গে ড. কামাল হোসেনের জোট গড়ার প্রসঙ্গ টেনে বিচারপতি মানিক বলেন, ‘কামাল হোসেন মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের সঙ্গে আঁতাত করছেন। যারা গ্রেনেড মেরে মানুষ হত্যা করেছে, তাদের সঙ্গে আজ আঁতাত করেছেন তিনি।’

তিনি বলেন, ‘আমি আশ্চর্য হইনি এ জন্য যে কামাল হোসেন নিজেও তো তাদেরই একজন। সেদিন একজন (বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মাদ ফরাসউদ্দিন) বলেছেন, পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যায় কামাল হোসেন জড়িত ছিল এই মর্মে অ্যাভিডেন্স পাওয়া যাচ্ছে, কথাটা উনি কিন্তু ভুল বলেননি, উনি সেই সময় বঙ্গবন্ধুর খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন।’

মিট্টা খা নামে এক পাকিস্তানি জেনারেলের লেখা থেকে উদ্ধৃত করে বিচারপতি মানিক বলেন, ‘মিট্টা খা ২০০৮ সালে ডিফেন্স জার্নাল নামে একটি ম্যাগাজিনে লিখেছেন,৭১-এর ২৮ মার্চ কামাল সাহেব মিট্টা খাকে ফোন করে বলল, সবাই তো চলে গেছে ভারতে, আমি যেতে চাই না, আমি মুক্তিযুদ্ধ-টুদ্ধ করব না, কিন্তু আমাকে ওই মুক্তিযোদ্ধারা মেরে ফেলবে, আমাকে দয়া করে রক্ষা করুন। মিট্টা খান তাকে ডিভিশনাল হেডকোয়ার্টারে নিয়ে আশ্রয় দিয়েছেলেন, প্রোটেকশন করেছিলেন এবং ২৯ মার্চ কামাল সাহেবকে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।’

মানিক বলেন, ‘তিনি আরও লিখেছেন- পাকিস্তানে চলে যাওয়ার পর উনি প্রতি মাসে কামাল সাহেবের সঙ্গে দেখা করতেন। কামাল সাহেব তখন তার শ্বশুর এবং তার সম্পর্কে শ্বশুর এ কে বদি আল্লাহবক্স-খোদাবক্স, খুব নামকরা উকিল ছিলেন, তার সঙ্গে প্র্যাকটিস করতেন।’

গত আগস্টে অর্থনীতি সমিতির এক অনুষ্ঠানে সাবেক গভর্নর ফরাসউদ্দিনের বক্তব্য উদ্ধৃতি করে বিচারপতি মানিক বলেন, ‘ফরাসউদ্দিন সাহেব বলেছেন সেদিন, কামাল হোসেনকে ওখানে (পাকিস্তানে) রাখা হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে সাক্ষী দেয়ার জন্য। কারণ তারা বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসি দেয়ার জন্য সব ঠিকঠাক করে রেখেছিল। আর এই ফাঁসি দেয়ার জন্য সাক্ষী দরকার ছিল। তাই কামাল হোসেনকে সাক্ষীর জন্য রেখেছিল।’

মানিক বলেন, ‘আইএসআই অত্যন্ত করিৎকর্মা একটি গোয়েন্দা সংস্থা, যখন আবার বঙ্গবন্ধুকে ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হলো তখন আবার কামাল সাহেবকে সেই প্লেনে উঠিয়ে দিয়েছে। এই হলো কামাল হোসেনের ইতিহাস, উনি একজন রাজাকার।’

অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের আলোচনা সভায় জিয়াউর রহমানেরও সমালোচনা করেন সাবেক বিচারপতি মানিক। বলেন, ‘কথাটা কিন্তু আমি অনেকের কাছ থেকে শুনেছি, উনি তো মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণই করেননি।… এটা আজকে স্পষ্ট, বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল নকশা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। ‘

আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জিনাত হুদা, সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ইয়াহিয়া জামান ও সাংবাদিক জাফর ওয়াজেদ।