ঢাকা ০৩:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

দাবি পূরণ না হলে ঘরে ফিরবে না ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালের দাবিতে মহাসমাবেশ করেছে মুক্তিযোদ্ধা ও প্রজন্মদের সমন্বিত সংগঠন ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’। সমাবেশ শেষে তারা ১১ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে ৩০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর নিকট সংগঠনের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি পেশ করা হবে বলে কর্মসূচি থেকে জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘মুক্তিযুদ্ধ চত্বরে’ আয়োজিত মহাসমাবেশে এই ঘোষণা দেন মঞ্চের নেতাকর্মীরা।

দিনব্যাপী সমাবেশে বক্তব্য দেন- ঢাকার বাইরে থেকে আসা বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা মক্তিযুদ্ধ কমান্ডাররা।

বিকালে সমাবেশে সংহতি জানিয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ‘যারা মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছিল, শহীদ মিনার ভেঙেছিল, তারা কোনোদিন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে হতে পারে না। আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধীদের পক্ষ নিয়েছেন কে? ড.কামাল এবং তার সাথে গুটি কয়েকজন। যারা জনবিচ্ছিন্ন। ড. কামাল হোসেন একজন বিশিষ্ট আইনজ্ঞ। তিনি নাকি তারেক রহমানের এবং বিএনপির সঙ্গে কথা বলেননি। তিনি তাদের জন্য নাকি আন্দোলন করেননি। অথচ আমরা দেখলাম, তার পেছনে তারেকের ছবি। বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়ার মুক্তি চান। আপনি একজন আইনজ্ঞ, আপনাকে যদি জিজ্ঞেস করি, এই দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার সঠিক বিচার হয়েছে কী? যদি না হয়ে থাকে, তাহলে আপনি কেন তাদের পক্ষে কথা বলেননি। আপনি কেন কোর্টে দাঁড়ালেন না? আমি মনে করি, কামাল হোসেন, আ স ম রব এবং মান্না খুনিদের পক্ষে যোগ দিয়েছেন। সুতরাং পরিষ্কার বুঝতে হবে, কামাল হোসেন কিন্তু স্বাধীনতাযুদ্ধ করেননি। তিনি ছিলেন পাকিস্তানে, শ্বশুর বাড়িতে। তখন বঙ্গবন্ধু তাকে নিয়ে এসেছিলেন এবং একজন ব্যারিস্টারকে বঙ্গবন্ধু আইনমন্ত্রী করেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘কামাল হোসেন অনেক নির্বাচন করেছেন, কিন্তু একবারও জিততে পারেননি। জনগণ তাকে ভোট দেননি। আমি যদি জিজ্ঞেস করি, ড. কামাল হোসেনকে, যখন বিএনপি শ্রমিক ও মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে, তখন কী গণতন্ত্র নষ্ট হয় নাই? তখন বাংলাদেশের পরিবেশ নষ্ট হয় নাই? তার জন্য আপনি কথা বলেন না কেন? তার জন্য আপনাকে জবাবদিহিতা করতে হবে। আমরা আবার মাঠে নামব এই জোটের বিরুদ্ধে, আমরা মাঠে নামব রাজাকারদের বিরুদ্ধে।’

মন্ত্রী আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে সামনে জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনে লড়াই করতে হবে। সেই লড়াই হবে রাজাকার এবং স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে।’

সমাবেশে ১১ দফা দাবি পেশ করেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের আহবায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন। তিনি বলেন, ‘সবার পরামর্শ নিয়ে সারাদেশে আনুষ্ঠানিক আন্দোলনের পদযাত্রা শুরু হলো। যতদিন পর্যন্ত দাবি আদায় না হবে, ততদিন পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাব না।’

সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন- মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) হেলাল মোর্শেদ খান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মঞ্চের সদস্য সচিব ওসমান আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এমদাদ হোসেন মতিন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহবায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সদস্য সচিব আল মামুন প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

দাবি পূরণ না হলে ঘরে ফিরবে না ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’

আপডেট সময় ০১:২৫:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালের দাবিতে মহাসমাবেশ করেছে মুক্তিযোদ্ধা ও প্রজন্মদের সমন্বিত সংগঠন ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’। সমাবেশ শেষে তারা ১১ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে ৩০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর নিকট সংগঠনের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি পেশ করা হবে বলে কর্মসূচি থেকে জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘মুক্তিযুদ্ধ চত্বরে’ আয়োজিত মহাসমাবেশে এই ঘোষণা দেন মঞ্চের নেতাকর্মীরা।

দিনব্যাপী সমাবেশে বক্তব্য দেন- ঢাকার বাইরে থেকে আসা বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা মক্তিযুদ্ধ কমান্ডাররা।

বিকালে সমাবেশে সংহতি জানিয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ‘যারা মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছিল, শহীদ মিনার ভেঙেছিল, তারা কোনোদিন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে হতে পারে না। আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধীদের পক্ষ নিয়েছেন কে? ড.কামাল এবং তার সাথে গুটি কয়েকজন। যারা জনবিচ্ছিন্ন। ড. কামাল হোসেন একজন বিশিষ্ট আইনজ্ঞ। তিনি নাকি তারেক রহমানের এবং বিএনপির সঙ্গে কথা বলেননি। তিনি তাদের জন্য নাকি আন্দোলন করেননি। অথচ আমরা দেখলাম, তার পেছনে তারেকের ছবি। বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়ার মুক্তি চান। আপনি একজন আইনজ্ঞ, আপনাকে যদি জিজ্ঞেস করি, এই দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার সঠিক বিচার হয়েছে কী? যদি না হয়ে থাকে, তাহলে আপনি কেন তাদের পক্ষে কথা বলেননি। আপনি কেন কোর্টে দাঁড়ালেন না? আমি মনে করি, কামাল হোসেন, আ স ম রব এবং মান্না খুনিদের পক্ষে যোগ দিয়েছেন। সুতরাং পরিষ্কার বুঝতে হবে, কামাল হোসেন কিন্তু স্বাধীনতাযুদ্ধ করেননি। তিনি ছিলেন পাকিস্তানে, শ্বশুর বাড়িতে। তখন বঙ্গবন্ধু তাকে নিয়ে এসেছিলেন এবং একজন ব্যারিস্টারকে বঙ্গবন্ধু আইনমন্ত্রী করেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘কামাল হোসেন অনেক নির্বাচন করেছেন, কিন্তু একবারও জিততে পারেননি। জনগণ তাকে ভোট দেননি। আমি যদি জিজ্ঞেস করি, ড. কামাল হোসেনকে, যখন বিএনপি শ্রমিক ও মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে, তখন কী গণতন্ত্র নষ্ট হয় নাই? তখন বাংলাদেশের পরিবেশ নষ্ট হয় নাই? তার জন্য আপনি কথা বলেন না কেন? তার জন্য আপনাকে জবাবদিহিতা করতে হবে। আমরা আবার মাঠে নামব এই জোটের বিরুদ্ধে, আমরা মাঠে নামব রাজাকারদের বিরুদ্ধে।’

মন্ত্রী আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে সামনে জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনে লড়াই করতে হবে। সেই লড়াই হবে রাজাকার এবং স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে।’

সমাবেশে ১১ দফা দাবি পেশ করেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের আহবায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন। তিনি বলেন, ‘সবার পরামর্শ নিয়ে সারাদেশে আনুষ্ঠানিক আন্দোলনের পদযাত্রা শুরু হলো। যতদিন পর্যন্ত দাবি আদায় না হবে, ততদিন পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাব না।’

সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন- মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) হেলাল মোর্শেদ খান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মঞ্চের সদস্য সচিব ওসমান আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এমদাদ হোসেন মতিন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহবায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সদস্য সচিব আল মামুন প্রমুখ।