ঢাকা ০৬:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্যাসিবাদী কাঠামো বিলুপ্ত করতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’র বিকল্প নেই: আলী রীয়াজ পরের সরকারের জন্য অর্থনীতিতে ‘বড় চ্যালেঞ্জ’ রয়েছে: অর্থ উপদেষ্টা যারা নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হোক চায় না,তাদের পক্ষে এ দেশের নারী সমাজ থাকতে পারে না. : সালাহউদ্দিন কর্মজীবী নারীদের নিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের মন্তব্য কলঙ্কজনক: তারেক রহমান ২-০ গোলে ভারতকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ তফশিল ঘোষণার ৩৬ দিনের মধ্যে দলীয় ১৫ নেতাকর্মী নিহত: টিআইবি বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব দেশ পুনর্গঠন করা: তারেক রহমান নোয়াখালীতে বিএনপির নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগ পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতি, দুই মামলায় শেখ হাসিনার ১০, টিউলিপের ৪ বছরের কারাদণ্ড কুষ্টিয়ায় দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে আ’লীগ কর্মীকে দলে নিলেন বিএনপি প্রার্থী

গ্রেনেড হামলায় তারেক সম্পৃক্ত নয়: নজরুল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় তারেক রহমানের সম্পৃক্ততা ছিল না। মামলার প্রধান সাক্ষী মুফতি হান্নানকে রিমান্ডে নির্যাতন চালিয়ে তারেকের বিরুদ্ধে স্বীকারোক্তি নিয়ে তাকেও ফাঁসি দিয়ে মেরে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আফসার আহম্মদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি।বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান,সাবেক সংসদ সদস্য আফসার আহম্মদ সিদ্দিকীর ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে এ আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচন কমিশনকে বর্তমান সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আখ্যা দিয়ে নজরুল বলেন,
‘বিএনপি নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করা সরকার চায় না, নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করা সরকার চায়।’

‘আমরা আওয়ামী লীগকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবি না, বর্তমানে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের পেটোয়া পুলিশ প্রশাসন। এ সরকারের আমলে সামান্য ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না। তাহলে তাদের অধীনে কিভাবে জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে? এদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ,ভাষা আন্দোলন,এরশাদবিরোধী আন্দোলনে অনেক রক্ত ঝরিয়েছেন। তারা আর রক্ত দিতে চান না।’

খালেদা জিয়া সুস্থ হলে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে তারপর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার অনুরোধ জানান তিনি।

আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশ্যে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আজ তারা জাতীয় ঐক্য নিয়ে হাসেন,কামাল হোসেনকে নিয়ে হাসেন,আমেরিকার দালাল বলেন। কামাল হোসেন যখন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ছিলেন, তখন কি তিনি আমেরিকার দালাল ছিলেন না? তখন তো আপনারা তাকে ফেরেশতা ভাবতেন। আর এখন তিনি আপনাদের সাথে নেই, সেজন্য দালাল হয়ে গেছেন।’

সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রধান শিকার বিএনপি বলে দাবি করে নজরুল বলেন, বিএনপিকে রুখে দিতে পারলেই তাদের সারাজীবন ক্ষমতায় থাকা সহজ হয়ে যাবে। তখন এদেশে তাদের একদলীয় বাকশালের বিরোধিতা করার মত কেউ থাকবে না। এজন্য তারা মামলা-হামলা দিয়ে বিএনপিকে ধ্বংসের অশুভ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের এই প্রচেষ্টা সফল হতে দেবে না এদেশের জনগণ। কারণ, বিএনপির সাথে জনগণ আছে, থাকবে।’

বর্তমান সরকারকে স্বৈরাচারী দাবি করে সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন,‘সারা দেশের মানুষের অংশগ্রহণে সঠিক পরিকল্পনার কারণেই আমরা স্বৈরাচারী এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সফল হয়েছিলাম। এখনও স্বৈরাচারী সরকার দেশ ও দেশের মানুষকে শাসন করছে।জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনে জনগণ এই সরকারের পতনে আশান্বিত হয়েছে। সরকার ভয় পাচ্ছে বলেই এই ঐক্যকে নিয়ে বাজে কথা বলছে। এখন তৃণমূলেও ঐক্য তৈরি হয়েছে। বিএনপি এখন সুসংগঠিত। তাই আমরা কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে পারি।’

‘আমাদের দাবিগুলো সুস্পষ্ট। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ভোটের সময় নিরপেক্ষ সরকার হতে হবে। তাহলেই সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা পাবে সাধারণ জনগণ।’

আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, আফসার আহম্মদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সভাপতি জাহানারা সিদ্দিকী প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী কাঠামো বিলুপ্ত করতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’র বিকল্প নেই: আলী রীয়াজ

গ্রেনেড হামলায় তারেক সম্পৃক্ত নয়: নজরুল

আপডেট সময় ০৩:২৭:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় তারেক রহমানের সম্পৃক্ততা ছিল না। মামলার প্রধান সাক্ষী মুফতি হান্নানকে রিমান্ডে নির্যাতন চালিয়ে তারেকের বিরুদ্ধে স্বীকারোক্তি নিয়ে তাকেও ফাঁসি দিয়ে মেরে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আফসার আহম্মদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি।বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান,সাবেক সংসদ সদস্য আফসার আহম্মদ সিদ্দিকীর ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে এ আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচন কমিশনকে বর্তমান সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আখ্যা দিয়ে নজরুল বলেন,
‘বিএনপি নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করা সরকার চায় না, নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করা সরকার চায়।’

‘আমরা আওয়ামী লীগকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবি না, বর্তমানে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের পেটোয়া পুলিশ প্রশাসন। এ সরকারের আমলে সামান্য ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না। তাহলে তাদের অধীনে কিভাবে জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে? এদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ,ভাষা আন্দোলন,এরশাদবিরোধী আন্দোলনে অনেক রক্ত ঝরিয়েছেন। তারা আর রক্ত দিতে চান না।’

খালেদা জিয়া সুস্থ হলে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে তারপর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার অনুরোধ জানান তিনি।

আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশ্যে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আজ তারা জাতীয় ঐক্য নিয়ে হাসেন,কামাল হোসেনকে নিয়ে হাসেন,আমেরিকার দালাল বলেন। কামাল হোসেন যখন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ছিলেন, তখন কি তিনি আমেরিকার দালাল ছিলেন না? তখন তো আপনারা তাকে ফেরেশতা ভাবতেন। আর এখন তিনি আপনাদের সাথে নেই, সেজন্য দালাল হয়ে গেছেন।’

সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রধান শিকার বিএনপি বলে দাবি করে নজরুল বলেন, বিএনপিকে রুখে দিতে পারলেই তাদের সারাজীবন ক্ষমতায় থাকা সহজ হয়ে যাবে। তখন এদেশে তাদের একদলীয় বাকশালের বিরোধিতা করার মত কেউ থাকবে না। এজন্য তারা মামলা-হামলা দিয়ে বিএনপিকে ধ্বংসের অশুভ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের এই প্রচেষ্টা সফল হতে দেবে না এদেশের জনগণ। কারণ, বিএনপির সাথে জনগণ আছে, থাকবে।’

বর্তমান সরকারকে স্বৈরাচারী দাবি করে সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন,‘সারা দেশের মানুষের অংশগ্রহণে সঠিক পরিকল্পনার কারণেই আমরা স্বৈরাচারী এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সফল হয়েছিলাম। এখনও স্বৈরাচারী সরকার দেশ ও দেশের মানুষকে শাসন করছে।জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনে জনগণ এই সরকারের পতনে আশান্বিত হয়েছে। সরকার ভয় পাচ্ছে বলেই এই ঐক্যকে নিয়ে বাজে কথা বলছে। এখন তৃণমূলেও ঐক্য তৈরি হয়েছে। বিএনপি এখন সুসংগঠিত। তাই আমরা কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে পারি।’

‘আমাদের দাবিগুলো সুস্পষ্ট। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ভোটের সময় নিরপেক্ষ সরকার হতে হবে। তাহলেই সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা পাবে সাধারণ জনগণ।’

আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, আফসার আহম্মদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সভাপতি জাহানারা সিদ্দিকী প্রমুখ।