ঢাকা ০২:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

দুর্গাপূজায় সাহায্যের হাত মুসলমানেরও

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজায় দেখা যাচ্ছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন। এই রাজধানীতেই উৎসবকে রঙিন করতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন মুসলমানরাও।

কোথাও স্থানে পূজা উদযাপন কমিটিতে আছেন মুসলমান সদস্য, কোথাও আর্থিক ও নিরাপত্তাজনিত সহযোগিতা করছেন অন্য ধর্মের লোকজন।

১৯৭৮ সাল থেকে নিয়মিত পূজা আয়োজন করে আসছে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাঁশবাড়ি পূজা উদযাপন কমিটি। কমিটিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি রয়েছেন একাধিক মুসলমান।

ঢাকাটাইমসকে এই তথ্য জানান বাঁশবাড়ি পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক জগদীশ চন্দ্র মণ্ডল। তিনি জানান, অসিৎ তালুকদারকে সভাপতি করে ৫০ সদস্যের পূজা উদযাপন কমিটিতে মুসলমানের সংখ্যা ১৩ জন, অর্থাৎ ২৫ শতাংশের বেশি। এরা যারা সরাসরি পূজা আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

জগদীশ বলেন, ‘আমরা এখানে সংখ্যায় অনেক কম। সুতরাং আমরা শুধু নিজেরা চাঁদা দিলে এত বড় আয়োজন করা সম্ভব হতো না। এখানে অনেকেই সহযোগিতা করছেন।’

কমিটির কোষাধ্যক্ষ বিমল কুমার মণ্ডল জানান, স্থানীয় বাড়ির মালিক রফিকুল ইসলাম তালুকদার (আজাদ) দীর্ঘদিন ধরে তাদের কমিটির সদস্য। প্রতি বছর পূজা আয়োজনে একটি বড় আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন তিনি।

মোহাম্মদপুর রায়েরবাজারের বাসিন্দা বিকাশ রায় ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমাদের এই উৎসব একটি সার্বজনীন উৎসব। এখানে সবার সহযোগিতা এবং আসা-যাওয়া থাকবে এটাই স্বাভাবিক। দেশের অনেক স্থানে শোনা যায় হিন্দুরা মুসলমানদের দ্বারা নির্যাতিত। তাদের প্রতিমা ভেঙে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু আমাদের এখানে এসব নেই। এখানে আমরা সবাই ভাই। আমরাও ঈদে তাদের বাড়ি যাই। তারাও পূজোতে আমাদের বাড়ি আসে, আনন্দ করে।’

এটি কেবল মোহাম্মদপুরের গল্প নয়। পুরান ঢাকার শাখারিবাজারের দুর্গা মন্দিরেও একই চিত্র। এখানেও বছরের পর বছর ধরেই স্থানীয় মুসলমানরা সহযোগিতা করে থাকে। তবে বিষয়টি একাশ করতে চায় না কোনো পক্ষই।

পূজা উদযাপন কমিটির একজন সদস্য ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমাদের এই সম্প্রীতির ঐহিত্য নতুন নয়। মুসলমানরা যেমন আমাদের পূজায় সহযোগিতা করেন, তেমনি আমরাও ঈদে সাধ্যমত তাদেরকে সহায়তা করি। এতে আমাদের মধ্যে যে সম্পর্ক সেটা আপনারা দূর থেকে উপলব্ধি করতে পারবেন না।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

দুর্গাপূজায় সাহায্যের হাত মুসলমানেরও

আপডেট সময় ১২:৫৪:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজায় দেখা যাচ্ছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন। এই রাজধানীতেই উৎসবকে রঙিন করতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন মুসলমানরাও।

কোথাও স্থানে পূজা উদযাপন কমিটিতে আছেন মুসলমান সদস্য, কোথাও আর্থিক ও নিরাপত্তাজনিত সহযোগিতা করছেন অন্য ধর্মের লোকজন।

১৯৭৮ সাল থেকে নিয়মিত পূজা আয়োজন করে আসছে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাঁশবাড়ি পূজা উদযাপন কমিটি। কমিটিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি রয়েছেন একাধিক মুসলমান।

ঢাকাটাইমসকে এই তথ্য জানান বাঁশবাড়ি পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক জগদীশ চন্দ্র মণ্ডল। তিনি জানান, অসিৎ তালুকদারকে সভাপতি করে ৫০ সদস্যের পূজা উদযাপন কমিটিতে মুসলমানের সংখ্যা ১৩ জন, অর্থাৎ ২৫ শতাংশের বেশি। এরা যারা সরাসরি পূজা আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

জগদীশ বলেন, ‘আমরা এখানে সংখ্যায় অনেক কম। সুতরাং আমরা শুধু নিজেরা চাঁদা দিলে এত বড় আয়োজন করা সম্ভব হতো না। এখানে অনেকেই সহযোগিতা করছেন।’

কমিটির কোষাধ্যক্ষ বিমল কুমার মণ্ডল জানান, স্থানীয় বাড়ির মালিক রফিকুল ইসলাম তালুকদার (আজাদ) দীর্ঘদিন ধরে তাদের কমিটির সদস্য। প্রতি বছর পূজা আয়োজনে একটি বড় আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন তিনি।

মোহাম্মদপুর রায়েরবাজারের বাসিন্দা বিকাশ রায় ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমাদের এই উৎসব একটি সার্বজনীন উৎসব। এখানে সবার সহযোগিতা এবং আসা-যাওয়া থাকবে এটাই স্বাভাবিক। দেশের অনেক স্থানে শোনা যায় হিন্দুরা মুসলমানদের দ্বারা নির্যাতিত। তাদের প্রতিমা ভেঙে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু আমাদের এখানে এসব নেই। এখানে আমরা সবাই ভাই। আমরাও ঈদে তাদের বাড়ি যাই। তারাও পূজোতে আমাদের বাড়ি আসে, আনন্দ করে।’

এটি কেবল মোহাম্মদপুরের গল্প নয়। পুরান ঢাকার শাখারিবাজারের দুর্গা মন্দিরেও একই চিত্র। এখানেও বছরের পর বছর ধরেই স্থানীয় মুসলমানরা সহযোগিতা করে থাকে। তবে বিষয়টি একাশ করতে চায় না কোনো পক্ষই।

পূজা উদযাপন কমিটির একজন সদস্য ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমাদের এই সম্প্রীতির ঐহিত্য নতুন নয়। মুসলমানরা যেমন আমাদের পূজায় সহযোগিতা করেন, তেমনি আমরাও ঈদে সাধ্যমত তাদেরকে সহায়তা করি। এতে আমাদের মধ্যে যে সম্পর্ক সেটা আপনারা দূর থেকে উপলব্ধি করতে পারবেন না।’