ঢাকা ১২:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারি দপ্তর ও উন্নয়ন প্রকল্পে দলীয় সিন্ডিকেট চলবে না: আইনমন্ত্রী ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্যই হাসিনা দেশে ফিরবেন: নাহিদ ইসলাম নাহিদ-আসিফ-পাটওয়ারীকে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিলেন নুর জনগণের জীবনমান উন্নয়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী বন্যার দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিমন্ত্রী অমিতকে দায়িত্ব দিল সরকার কালেমা লেখা পতাকায় জঙ্গি নাটক তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে সরকারকে সতর্ক থাকার পরামর্শ ফয়জুল করিমের খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ইরানের ১৩ উপজেলায় নতুন হাসপাতাল অনুমোদন মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়াই সরকারের অঙ্গীকার : মাহদী আমিন

নিরব প্রাণঘাতী মাদক ‘সুপারি’

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

আপনি কি জানেন এই সুপারিতে প্রতিবছর হাজার-হাজার মানুষের মৃত্যুর কারণ? এর কার্যক্ষমতা এতটাই বেশি যে নিকোটিন, অ্যালকোহল এবং ক্যাফেইনের পাশাপাশি একেও মতিবিভ্রমকারী মাদক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

যদিও নারী এবং শিশুসহ অনেকেই এটি ব্যবহার করেন, তবে কর্মক্ষম পুরুষদের মাঝেই সুপারির ব্যবহার বেশি। গাড়ি চালানো, মাছ ধরা কিংবা নির্মাণকাজের মতো কর্মকাণ্ডে দীর্ঘসময় জেগে থাকার জন্য তারা সুপারি চিবিয়ে থাকেন। তবে এই সুপারিতে অভ্যস্তদের উচ্চমাত্রায় মুখের ক্যান্সারের আক্রান্তের ঝুঁকি থাকে। এমনকি প্রথমবার সুপারি ব্যবহার করার কয়েক দশক পরেও কোন কোণ ক্ষেত্রে মুখে ক্যান্সার হতে পারে।

প্রায় এশিয়াজুড়েই পাওয়া যায় সুপারি। কাঁচা কিংবা শুকনো সব ভাবেই এটি খাওয়া যায়। চাঙ্গা করার ক্ষেত্রে এই সুপারি প্রায় ছয় কাপ কফির সমান কার্যকর। বিশ্বের মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় এক-দশমাংশ এই সুপারি খান। কোথাও এটিকে দেখা হয় ভালোবাসার প্রতীক এবং বদহজম ও বন্ধ্যাত্বের মতো সমস্যার প্রতিকার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

এশিয়ার যে কয়টি এলাকায় সুপারি খুব বেশি জনপ্রিয় তার মধ্যে অন্যতম একটি দেশ তাইওয়ান। সেখানে সুপারিকে বলা হয় ‘তাইওয়ানের চুইংগাম’। দেশটির সরকার এখন কয়েক শতকের পুরনো এই অভ্যাসটি কমিয়ে আনতে চেষ্টা করছে এবং প্রতিবছর হাজার-হাজার জীবন ঝরে পড়া থেকে রক্ষার জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এর ফলে ২০১৩ সালে দেশটিতে সুপারি ব্যবহারকারী পুরুষের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক কমেছে বলে তথ্য দিয়েছে দেশটির গণ্যমাধ্যম।

তাইওয়ানের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের ওয়াল স্পেশালাইসড হান লিয়াং-জুন বলেন, ‘অর্ধেক মানুষ এখনো জানেই না যে সুপারি মুখের ক্যান্সারের জন্য অন্যতম কারণ।’

এশিয়ার অনেক অঞ্চলে সুপারি স্থানীয় সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি কাঁচা, শুকনা কিংবা পানপাতা দিয়ে মুড়িয়ে খিলি বানিয়ে খাওয়া হয়।। যদিও পানের খিলি বিভিন্ন দেশে বিভিন্নভাবে বানানো হয়। তবে সাধারণতঃ চুন, পানপাতা, এলাচি বা দারচিনির মতো মশলা এবং তামাকের সাথে মিশিয়ে এই খিলি তৈরি করা হয়।

আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থা এসব উপাদানের মধ্যে এলাচ এবং দারচিনি ছাড়া বাকি সব উপাদানকে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। চুনকে বিশেষ একটি সমস্যা হিসেবে দেখা হয়, কারণ এটি ব্যবহারের ফলে মুখের ভেতর ছোট-ছোট অনেক ক্ষত তৈরি হতে পারে। ক্যান্সার সৃষ্টিকারী অনেক উপাদান এসব ক্ষতের মাধ্যমে চামড়ার ভেতরে প্রবেশ করতে পারে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি দপ্তর ও উন্নয়ন প্রকল্পে দলীয় সিন্ডিকেট চলবে না: আইনমন্ত্রী

নিরব প্রাণঘাতী মাদক ‘সুপারি’

আপডেট সময় ১১:০২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

আপনি কি জানেন এই সুপারিতে প্রতিবছর হাজার-হাজার মানুষের মৃত্যুর কারণ? এর কার্যক্ষমতা এতটাই বেশি যে নিকোটিন, অ্যালকোহল এবং ক্যাফেইনের পাশাপাশি একেও মতিবিভ্রমকারী মাদক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

যদিও নারী এবং শিশুসহ অনেকেই এটি ব্যবহার করেন, তবে কর্মক্ষম পুরুষদের মাঝেই সুপারির ব্যবহার বেশি। গাড়ি চালানো, মাছ ধরা কিংবা নির্মাণকাজের মতো কর্মকাণ্ডে দীর্ঘসময় জেগে থাকার জন্য তারা সুপারি চিবিয়ে থাকেন। তবে এই সুপারিতে অভ্যস্তদের উচ্চমাত্রায় মুখের ক্যান্সারের আক্রান্তের ঝুঁকি থাকে। এমনকি প্রথমবার সুপারি ব্যবহার করার কয়েক দশক পরেও কোন কোণ ক্ষেত্রে মুখে ক্যান্সার হতে পারে।

প্রায় এশিয়াজুড়েই পাওয়া যায় সুপারি। কাঁচা কিংবা শুকনো সব ভাবেই এটি খাওয়া যায়। চাঙ্গা করার ক্ষেত্রে এই সুপারি প্রায় ছয় কাপ কফির সমান কার্যকর। বিশ্বের মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় এক-দশমাংশ এই সুপারি খান। কোথাও এটিকে দেখা হয় ভালোবাসার প্রতীক এবং বদহজম ও বন্ধ্যাত্বের মতো সমস্যার প্রতিকার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

এশিয়ার যে কয়টি এলাকায় সুপারি খুব বেশি জনপ্রিয় তার মধ্যে অন্যতম একটি দেশ তাইওয়ান। সেখানে সুপারিকে বলা হয় ‘তাইওয়ানের চুইংগাম’। দেশটির সরকার এখন কয়েক শতকের পুরনো এই অভ্যাসটি কমিয়ে আনতে চেষ্টা করছে এবং প্রতিবছর হাজার-হাজার জীবন ঝরে পড়া থেকে রক্ষার জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এর ফলে ২০১৩ সালে দেশটিতে সুপারি ব্যবহারকারী পুরুষের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক কমেছে বলে তথ্য দিয়েছে দেশটির গণ্যমাধ্যম।

তাইওয়ানের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের ওয়াল স্পেশালাইসড হান লিয়াং-জুন বলেন, ‘অর্ধেক মানুষ এখনো জানেই না যে সুপারি মুখের ক্যান্সারের জন্য অন্যতম কারণ।’

এশিয়ার অনেক অঞ্চলে সুপারি স্থানীয় সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি কাঁচা, শুকনা কিংবা পানপাতা দিয়ে মুড়িয়ে খিলি বানিয়ে খাওয়া হয়।। যদিও পানের খিলি বিভিন্ন দেশে বিভিন্নভাবে বানানো হয়। তবে সাধারণতঃ চুন, পানপাতা, এলাচি বা দারচিনির মতো মশলা এবং তামাকের সাথে মিশিয়ে এই খিলি তৈরি করা হয়।

আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থা এসব উপাদানের মধ্যে এলাচ এবং দারচিনি ছাড়া বাকি সব উপাদানকে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। চুনকে বিশেষ একটি সমস্যা হিসেবে দেখা হয়, কারণ এটি ব্যবহারের ফলে মুখের ভেতর ছোট-ছোট অনেক ক্ষত তৈরি হতে পারে। ক্যান্সার সৃষ্টিকারী অনেক উপাদান এসব ক্ষতের মাধ্যমে চামড়ার ভেতরে প্রবেশ করতে পারে।