ঢাকা ১২:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নারীদের অধিকার সমুন্নত রাখতে কাজ করবে বিএনপি: ইশরাক হোসেন খালেদা জিয়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে হিমালয়ের মত দাঁড়িয়েছিলেন: রিজভী নির্বাচিত হলে ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগের প্রতিশ্রুতি আমিনুল হকের জাতীয়তাবাদী শক্তি ও ভোটাররা সঙ্গে থাকলে তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া সময়ের ব্যাপার: পার্থ বেহেশতের লোভ দেখিয়ে একটি দল ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছে: মেজর হাফিজ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বর্তমান সরকারের গণভোটের আয়োজন দেশদ্রোহিতা: জি এম কাদের বিশ্বকাপ খেলবে পাকিস্তান, বয়কট করবে ভারত ম্যাচ হাদি হত্যার দায় স্বীকার, জবানবন্দি রুবেলের পুরুষই নারীর পরিচালক, এটা মেনে নিয়েই আমরা রাজনীতিতে এসেছি: জামায়াত নেত্রী

দেশ উন্নত হওয়ায় এত যানজট, হতাশার কিছু নেই: জাফর ইকবাল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন, এই যানজট দেখে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। দেশ উন্নত হওয়ার কারণে এত যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই দেশের ট্রাফিক সেক্টরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে তোমাদের দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে এবং নিজেদের মধ্যে ট্রাফিক আইন মেনে চলার আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে।

সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে জাফর ইকবাল বলেন, ট্রাফিক আইন কীভাবে মানতে হয়- সেটা পাঠ্যবইয়ে অংশ করা উচিত। যাতে শিক্ষার্থীরা ছোট থেকে ট্রাফিক আইন শিখতে পারে।

অধ্যাপক জাফর ইকবাল আমেরিকাতে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, আমি সেখানে ১৫ বছর গাড়ি চালিয়েছি। কিন্তু এদেশে গাড়ি চালানোর সাহস হয়নি। এখানে যেভাবে গাড়ি চলে, মনে হয় না আমি গাড়ি চালাতে পারব।

তিনি বলেন, আমেরিকাতে একবার গাড়ি চালাচ্ছিলাম- কিন্তু ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো মানুষ-গাড়ি নেই। তারপরেও রাস্তায় লাল বাতি জ্বলল, আমি থেমে গেলাম। কী বোকা আমি?

প্রত্যেক দিন পত্রপত্রিকার কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায় উল্লেখ করে জাফর ইকবাল বলেন, প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাচ্ছে। একটু সতর্ক হলে ঘটনাগুলো এড়ানো সম্ভব। আমাদের বাসচালকদের হওয়ার কথা ছিল পাইলট। কিন্তু পাইলট না হয়ে বাসচালক হওয়ায় বাসটাকে উড়িয়ে নিয়ে যেতে চান। ওই লোকটা তাড়াহুড়া করে কোথায় যাচ্ছে, গন্তব্যে নাকি একেবারে আল্লাহর কাছে?

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে বাহবা দিয়ে স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, তোমরা দেখিয়ে দিয়েছ, অ্যাম্বুলেন্স-রিকশার জন্য আলাদা লেন রয়েছে। বাংলাদেশের ১ কোটি মানুষ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রয়েছে, তারা কেউ আইন ভঙ্গ করে না। কিন্তু বাংলাদেশে কেন করে? প্রত্যেকের মধ্যে সমানভাবে আইনের প্রয়োগ করতে হবে। আইন অমান্য করে কেউ যেন পার না পায়। এখানে যারা উপস্থিত আছে তারা যদি আইন মানে এবং আরও ১০ জন বন্ধুকে আইন মানতে বাধ্য করে। তারা যদি আরও ১০ জনের দায়িত্ব নেয়, তাহলে ৬ মাসের মধ্যে বাংলাদেশ পরিবর্তন হয়ে যাবে।

ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদ বলেন, আমরা একইসঙ্গে সবকিছু পরিবর্তন করতে পারব না। সবার আগে নিজেকে পরিবর্তন হতে হবে। ট্রাফিক আইন না মানার কারণে প্রতিদিন দুর্ঘটনা হচ্ছে। এক্ষেত্রে তরুণ সমাজকে দায়িত্ব নিয়ে সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে।

চলচ্চিত্র অভিনেতা আহমেদ শরীফ বলেন, সপ্তাহে অন্তত একটা দিন আমরা সেলিব্রিটিরা নির্দিষ্ট এলাকায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে ট্রাফিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাতে পারি কিনা বিষয়টি ভেবে দেখবেন। সবাই মিলে একটা দিন চেষ্টা করলে আশা করি সব ঠিক হয়ে যাবে।

বক্তব্য শেষে ডিএমপি কমিশনারের নেতৃত্বে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি ট্রাফিক সচেতনতামূলক র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন থেকে শুরু হয়ে সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সেখানে এসে শেষ হয়।

এ সময় ট্রাফিক সচেতনতামূলক সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মীর রেজাউল আলম, যুগ্ম কমিশনার মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, অধ্যাপক মুহতামিম, চিত্রনায়ক ফারুক, জাতীয় দলের ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদ, চলচ্চিত্র শিল্প সমিতির সহসভাপতি চিত্রনায়ক রিয়াজ, চিত্রশিল্পী নাদের চৌধুরী, চলচ্চিত্র শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান, অভিনেতা আহম্মেদ শরিফ, শ্রমিক নেতা এনায়েত উল্লাহ, ফারুক তালুকদার সোহেল প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নারীদের অধিকার সমুন্নত রাখতে কাজ করবে বিএনপি: ইশরাক হোসেন

দেশ উন্নত হওয়ায় এত যানজট, হতাশার কিছু নেই: জাফর ইকবাল

আপডেট সময় ০৯:৫২:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন, এই যানজট দেখে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। দেশ উন্নত হওয়ার কারণে এত যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই দেশের ট্রাফিক সেক্টরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে তোমাদের দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে এবং নিজেদের মধ্যে ট্রাফিক আইন মেনে চলার আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে।

সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে জাফর ইকবাল বলেন, ট্রাফিক আইন কীভাবে মানতে হয়- সেটা পাঠ্যবইয়ে অংশ করা উচিত। যাতে শিক্ষার্থীরা ছোট থেকে ট্রাফিক আইন শিখতে পারে।

অধ্যাপক জাফর ইকবাল আমেরিকাতে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, আমি সেখানে ১৫ বছর গাড়ি চালিয়েছি। কিন্তু এদেশে গাড়ি চালানোর সাহস হয়নি। এখানে যেভাবে গাড়ি চলে, মনে হয় না আমি গাড়ি চালাতে পারব।

তিনি বলেন, আমেরিকাতে একবার গাড়ি চালাচ্ছিলাম- কিন্তু ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো মানুষ-গাড়ি নেই। তারপরেও রাস্তায় লাল বাতি জ্বলল, আমি থেমে গেলাম। কী বোকা আমি?

প্রত্যেক দিন পত্রপত্রিকার কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায় উল্লেখ করে জাফর ইকবাল বলেন, প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাচ্ছে। একটু সতর্ক হলে ঘটনাগুলো এড়ানো সম্ভব। আমাদের বাসচালকদের হওয়ার কথা ছিল পাইলট। কিন্তু পাইলট না হয়ে বাসচালক হওয়ায় বাসটাকে উড়িয়ে নিয়ে যেতে চান। ওই লোকটা তাড়াহুড়া করে কোথায় যাচ্ছে, গন্তব্যে নাকি একেবারে আল্লাহর কাছে?

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে বাহবা দিয়ে স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, তোমরা দেখিয়ে দিয়েছ, অ্যাম্বুলেন্স-রিকশার জন্য আলাদা লেন রয়েছে। বাংলাদেশের ১ কোটি মানুষ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রয়েছে, তারা কেউ আইন ভঙ্গ করে না। কিন্তু বাংলাদেশে কেন করে? প্রত্যেকের মধ্যে সমানভাবে আইনের প্রয়োগ করতে হবে। আইন অমান্য করে কেউ যেন পার না পায়। এখানে যারা উপস্থিত আছে তারা যদি আইন মানে এবং আরও ১০ জন বন্ধুকে আইন মানতে বাধ্য করে। তারা যদি আরও ১০ জনের দায়িত্ব নেয়, তাহলে ৬ মাসের মধ্যে বাংলাদেশ পরিবর্তন হয়ে যাবে।

ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদ বলেন, আমরা একইসঙ্গে সবকিছু পরিবর্তন করতে পারব না। সবার আগে নিজেকে পরিবর্তন হতে হবে। ট্রাফিক আইন না মানার কারণে প্রতিদিন দুর্ঘটনা হচ্ছে। এক্ষেত্রে তরুণ সমাজকে দায়িত্ব নিয়ে সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে।

চলচ্চিত্র অভিনেতা আহমেদ শরীফ বলেন, সপ্তাহে অন্তত একটা দিন আমরা সেলিব্রিটিরা নির্দিষ্ট এলাকায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে ট্রাফিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাতে পারি কিনা বিষয়টি ভেবে দেখবেন। সবাই মিলে একটা দিন চেষ্টা করলে আশা করি সব ঠিক হয়ে যাবে।

বক্তব্য শেষে ডিএমপি কমিশনারের নেতৃত্বে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটি ট্রাফিক সচেতনতামূলক র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন থেকে শুরু হয়ে সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সেখানে এসে শেষ হয়।

এ সময় ট্রাফিক সচেতনতামূলক সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মীর রেজাউল আলম, যুগ্ম কমিশনার মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, অধ্যাপক মুহতামিম, চিত্রনায়ক ফারুক, জাতীয় দলের ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদ, চলচ্চিত্র শিল্প সমিতির সহসভাপতি চিত্রনায়ক রিয়াজ, চিত্রশিল্পী নাদের চৌধুরী, চলচ্চিত্র শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান, অভিনেতা আহম্মেদ শরিফ, শ্রমিক নেতা এনায়েত উল্লাহ, ফারুক তালুকদার সোহেল প্রমুখ।