ঢাকা ০২:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

পোকাবাহিনী ছেড়ে জীবাণু অস্ত্র ছড়াবে যুক্তরাষ্ট্র

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

গোপনে প্রাণঘাতী জীবাণু অস্ত্র তৈরি করছে যুক্তরাষ্ট্র। শত্রু দের ঘায়েল করতে কৃষি শস্যে ছড়িয়ে দেয়া হবে ভাইরাসবাহী এসব অস্ত্র। কোনো মানুষ নয়, এমনকি রোবটও নয়- খোদ পোকামাকড়-কীটপতঙ্গরাই এসব অস্ত্র বহন করবে। ক্ষুদ্রাকৃতির শক্তিশালী এসব জীবাণু অস্ত্র ছড়াতে কৃত্রিম ‘পোকাবাহিনী’ও গড়ছে যুক্তরাষ্ট্র।

দেশ ও মিত্র দেশের বহু ল্যাবে নতুন সূক্ষ্ম এ অস্ত্র নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন। এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জীববিজ্ঞানীরা এ অস্ত্রের ভয়াবহতা নিয়ে অভিযোগ তুলছেন। কারণ এতে কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়বে নানান অপ্রতিরোধ্য রোগ আর মহামারী।

বৃহস্পতিবার জার্নাল সায়েন্সে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ ব্যাপারে হুশিয়ারি দিয়েছেন ইউরোপের পাঁচ জীববিজ্ঞানী।

দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ফসলের জিনগত পরিবর্তনের লক্ষ্যে পেন্টাগনের গবেষকরা ভাইরাস বা জীবাণুবাহী পোকামাকড় তৈরির চেষ্টায় গবেষণা প্রকল্প চালাচ্ছেন। সরকারি অর্থায়নে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ডিফেন্স অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রজেক্টস এজেন্সি (ডারপা) গোপনে এ গবেষণা পরিচালনা করছে।

২০১৬ সালে ভার্জিনিয়া রাজ্যের আর্লিংটনে চালু হওয়া এ প্রকল্পের নাম ‘পোকাবাহিনী’। জীবনবিধ্বংসী এ প্রকল্পে ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার বরাদ্দ করেছে ডারপা।

ডারপার ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, খরা বা পোকামাড়কের কারণে ফসলের ক্ষতি রুখতে পোকার ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করছে পেন্টাগন। তাদের দাবি, ল্যাবে জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে (জিএম) কৃত্তিমভাবে পোকা উৎপাদন করা হবে। নির্দিষ্ট ভাইরাস বা জীবাণু বহন করবে পোকাগুলো, যা খুব দ্রুতই কৃষিখামারে ছড়িয়ে দেয়া যাবে।

এমনকি কোনো শত্র“দেশের জৈব অস্ত্রের আক্রমণকেও প্রতিহত করবে এসব পোকা। এ প্রকল্পের আওতায় জাবপোকা, সাদা মাছি ও লিপহোপার পোকা- এ তিন ধরনের ‘পোকাবাহিনী’ গড়ছে যুক্তরাষ্ট্র।

জীববিজ্ঞানীরা যুক্তরাষ্ট্রের পুরো প্রকল্প নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রশ্ন, ফসলের ক্ষতি প্রতিরোধ করতে কৃষি বিভাগ রয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিভাগ কেন ফসলের ক্ষতি নিয়ে এত উদ্বিগ্ন? জার্নাল সায়েন্সের নিবন্ধে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জার্মানির ‘ম্যাক্স প্লাঙ্ক ইন্সটিটিউট ফর ইভল্যুশনারি বায়োলজি’র জিনবিজ্ঞানী রবার্ট রিভস ও ফ্রান্সের ‘ইন্সটিটিউট অব রিসার্চ ফর ডেভেলপমেন্ট’র বিবর্তনবিষয়ক জীববিজ্ঞানী কিস্টোফ বোয়েটসহ পাঁচ গবেষক। নিবন্ধে তারা বলেছেন, ‘পেন্টাগনের ওই প্রকল্প আন্তর্জাতিক জৈব অস্ত্র নীতিমালার লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়তে পারে।

পেন্টাগনের ও প্রকল্প সফল হলে কিছু বিদ্বেষপূর্ণ মানুষ এ কৌশলকে ফসলের প্রত্যেকটা প্রজাতিতে রোগজীবাণু ছড়াতে ব্যবহার করবে। এতে সমস্ত কৃষিব্যবস্থাই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এমনকি মানুষের জীবনের ঝুঁকিও বেড়ে যাবে।’

১৯৭২ সালে বায়োলজিক্যাল অস্ত্র সম্মেলনে স্বাক্ষরিত আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুসারে, কোনো দেশ এ ধরনের জৈব অস্ত্র উৎপাদন বা সঞ্চিত করতে পারে না। চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়াসহ বিশ্বের ১৮৪ দেশ স্বাক্ষর করেছিল।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাশিয়ার মেজর জেনারেল ইগর কিরিলভ যুক্তরাষ্ট্রের জৈব অস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে হুশিয়ারি দিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ তুলে বলেন, জর্জিয়ার ল্যাবে জীবাণু অস্ত্র নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রাণঘাতী এ অস্ত্র নিয়ে ইউক্রেন, আজারবাইজান, উজবেকিস্তানসহ অন্যান্য মিত্র দেশেও গবেষণা করছে বিশ্বের পশ্চিমা এ পরাশক্তি। দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের জীবাণু অস্ত্রবাহী পোকাবাহিনী শুধু ফসলের পাতা-কাণ্ডেই নয়, মশা-মাছির মতো মানুষের শরীরেও হুল ফুটিয়ে দেবে নিমেষে। কৃত্রিম পোকাবাহিনীর এমন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য দেখে, জীববিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এসব জৈব অস্ত্র সামরিক কাজেও ব্যবহার হতে পারে। শত্র“দের ওপর হামলা চালাতে এরা হতে পারে ‘নীরব যোদ্ধা’। জার্মানির ফ্রেইবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইন বিভাগের অধ্যাপক সিলজা ভোয়েঙ্কি বলেন, এটির গবেষণা সফল হলে এর ব্যবহার মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়বে।

সরকার তখন এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে না। ওয়াশিংটন পোস্টকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ফসলের ক্ষেত্রে পেন্টাগন পোকার ব্যবহার কেন করতে চায়? ফসলের রোগবালাই নির্মূলে তারা স্প্রে পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারে। অবশ্যই পোকার মাধ্যমে রোগ-জীবাণু ছড়ানোর এ কৌশল একটি ধ্রুপদী জৈব অস্ত্র।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

পোকাবাহিনী ছেড়ে জীবাণু অস্ত্র ছড়াবে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় ০১:২১:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

গোপনে প্রাণঘাতী জীবাণু অস্ত্র তৈরি করছে যুক্তরাষ্ট্র। শত্রু দের ঘায়েল করতে কৃষি শস্যে ছড়িয়ে দেয়া হবে ভাইরাসবাহী এসব অস্ত্র। কোনো মানুষ নয়, এমনকি রোবটও নয়- খোদ পোকামাকড়-কীটপতঙ্গরাই এসব অস্ত্র বহন করবে। ক্ষুদ্রাকৃতির শক্তিশালী এসব জীবাণু অস্ত্র ছড়াতে কৃত্রিম ‘পোকাবাহিনী’ও গড়ছে যুক্তরাষ্ট্র।

দেশ ও মিত্র দেশের বহু ল্যাবে নতুন সূক্ষ্ম এ অস্ত্র নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন। এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জীববিজ্ঞানীরা এ অস্ত্রের ভয়াবহতা নিয়ে অভিযোগ তুলছেন। কারণ এতে কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়বে নানান অপ্রতিরোধ্য রোগ আর মহামারী।

বৃহস্পতিবার জার্নাল সায়েন্সে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ ব্যাপারে হুশিয়ারি দিয়েছেন ইউরোপের পাঁচ জীববিজ্ঞানী।

দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ফসলের জিনগত পরিবর্তনের লক্ষ্যে পেন্টাগনের গবেষকরা ভাইরাস বা জীবাণুবাহী পোকামাকড় তৈরির চেষ্টায় গবেষণা প্রকল্প চালাচ্ছেন। সরকারি অর্থায়নে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ডিফেন্স অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রজেক্টস এজেন্সি (ডারপা) গোপনে এ গবেষণা পরিচালনা করছে।

২০১৬ সালে ভার্জিনিয়া রাজ্যের আর্লিংটনে চালু হওয়া এ প্রকল্পের নাম ‘পোকাবাহিনী’। জীবনবিধ্বংসী এ প্রকল্পে ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার বরাদ্দ করেছে ডারপা।

ডারপার ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, খরা বা পোকামাড়কের কারণে ফসলের ক্ষতি রুখতে পোকার ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করছে পেন্টাগন। তাদের দাবি, ল্যাবে জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে (জিএম) কৃত্তিমভাবে পোকা উৎপাদন করা হবে। নির্দিষ্ট ভাইরাস বা জীবাণু বহন করবে পোকাগুলো, যা খুব দ্রুতই কৃষিখামারে ছড়িয়ে দেয়া যাবে।

এমনকি কোনো শত্র“দেশের জৈব অস্ত্রের আক্রমণকেও প্রতিহত করবে এসব পোকা। এ প্রকল্পের আওতায় জাবপোকা, সাদা মাছি ও লিপহোপার পোকা- এ তিন ধরনের ‘পোকাবাহিনী’ গড়ছে যুক্তরাষ্ট্র।

জীববিজ্ঞানীরা যুক্তরাষ্ট্রের পুরো প্রকল্প নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রশ্ন, ফসলের ক্ষতি প্রতিরোধ করতে কৃষি বিভাগ রয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিভাগ কেন ফসলের ক্ষতি নিয়ে এত উদ্বিগ্ন? জার্নাল সায়েন্সের নিবন্ধে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জার্মানির ‘ম্যাক্স প্লাঙ্ক ইন্সটিটিউট ফর ইভল্যুশনারি বায়োলজি’র জিনবিজ্ঞানী রবার্ট রিভস ও ফ্রান্সের ‘ইন্সটিটিউট অব রিসার্চ ফর ডেভেলপমেন্ট’র বিবর্তনবিষয়ক জীববিজ্ঞানী কিস্টোফ বোয়েটসহ পাঁচ গবেষক। নিবন্ধে তারা বলেছেন, ‘পেন্টাগনের ওই প্রকল্প আন্তর্জাতিক জৈব অস্ত্র নীতিমালার লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়তে পারে।

পেন্টাগনের ও প্রকল্প সফল হলে কিছু বিদ্বেষপূর্ণ মানুষ এ কৌশলকে ফসলের প্রত্যেকটা প্রজাতিতে রোগজীবাণু ছড়াতে ব্যবহার করবে। এতে সমস্ত কৃষিব্যবস্থাই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এমনকি মানুষের জীবনের ঝুঁকিও বেড়ে যাবে।’

১৯৭২ সালে বায়োলজিক্যাল অস্ত্র সম্মেলনে স্বাক্ষরিত আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুসারে, কোনো দেশ এ ধরনের জৈব অস্ত্র উৎপাদন বা সঞ্চিত করতে পারে না। চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়াসহ বিশ্বের ১৮৪ দেশ স্বাক্ষর করেছিল।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাশিয়ার মেজর জেনারেল ইগর কিরিলভ যুক্তরাষ্ট্রের জৈব অস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে হুশিয়ারি দিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ তুলে বলেন, জর্জিয়ার ল্যাবে জীবাণু অস্ত্র নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রাণঘাতী এ অস্ত্র নিয়ে ইউক্রেন, আজারবাইজান, উজবেকিস্তানসহ অন্যান্য মিত্র দেশেও গবেষণা করছে বিশ্বের পশ্চিমা এ পরাশক্তি। দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের জীবাণু অস্ত্রবাহী পোকাবাহিনী শুধু ফসলের পাতা-কাণ্ডেই নয়, মশা-মাছির মতো মানুষের শরীরেও হুল ফুটিয়ে দেবে নিমেষে। কৃত্রিম পোকাবাহিনীর এমন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য দেখে, জীববিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এসব জৈব অস্ত্র সামরিক কাজেও ব্যবহার হতে পারে। শত্র“দের ওপর হামলা চালাতে এরা হতে পারে ‘নীরব যোদ্ধা’। জার্মানির ফ্রেইবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইন বিভাগের অধ্যাপক সিলজা ভোয়েঙ্কি বলেন, এটির গবেষণা সফল হলে এর ব্যবহার মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়বে।

সরকার তখন এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে না। ওয়াশিংটন পোস্টকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ফসলের ক্ষেত্রে পেন্টাগন পোকার ব্যবহার কেন করতে চায়? ফসলের রোগবালাই নির্মূলে তারা স্প্রে পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারে। অবশ্যই পোকার মাধ্যমে রোগ-জীবাণু ছড়ানোর এ কৌশল একটি ধ্রুপদী জৈব অস্ত্র।’