ঢাকা ০৭:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অবিলম্বে মার্কিন নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ প্রতারণা করে অর্থ আদায়, ৫১ হাজার সিমসহ ৫ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার সংসদে আর নৃত্যগীত হবে না, মানুষের উন্নয়নের কথা বলা হবে: সালাহউদ্দিন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে বাংলাদেশকে অনুরোধ আইসিসির, অনড় বিসিবি বিএনপি নেতার মৃত্যু, অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনা সদস্যকে প্রত্যাহার রাজধানীর তিন পয়েন্ট অবরোধের ঘোষণা সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের জনগণের বিশ্বাস অর্জনের দায়িত্ব রাজনীতিবিদদেরই : আমীর খসরু আটকের পর ডাবলুর মৃত্যু, সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপ চান বিএনপি মহাসচিব পে স্কেল বাস্তবায়ন পে কমিশনের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করছে :অর্থ উপদেষ্টা প্রবাসীদের সুসংবাদ দিলেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

রোগীর পেটে গজ রেখে সেলাই করে দিলো চিকিৎসক

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মাদারীপুরে কে আই ডিজিটাল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক চিকিৎসক রোগীর পেটে গজ রেখে সেলাই করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে মৃতুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন রুবি নামে ওই রোগী। এ ঘটনায় দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন মাদারীপুরে সচেতন নাগরিক সমাজ।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা গ্রামের সাগর খানের স্ত্রী রুবি আক্তারকে মাস তিনেক আগে কে আই ডিজিটাল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক শিমুল আক্তার সিজারিয়ান অপারেশন করেন। এ সময় একটি পুত্রসন্তান জন্ম দিলেও নবজাতক মারা যায়। চিকিসৎক শিমুল আক্তার তখন ভুলবসত পেটের মধ্যে গজ রেখে সেলাই করে দেন বলে জানা গেছে।

রুবি আক্তারের অবস্থা গুরুতর হলে ওই হাসপাতাল থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এরপর দীর্ঘ চিকিৎসার পরেও রোগির পেটের ব্যথা কমছিল না। উপায়ান্ত না দেখে গত ১০ আগষ্ট মাদারীপুরের চৌধুরী ক্লিনিকের চিকিৎসক দিলরুবা ফেরদৌসের কাছে চিকিৎসা নিতে আসলে বিভিন্ন পরীক্ষা নীরিক্ষার পরে পেটের মধ্যে গজ আছে এমন বিষয়টি ধরা পরে। ঘটনার পরে ক্ষতিগ্রস্ত রোগীকে কিছু টাকা পয়সা দিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিষয়টি মিমাংসা করে দেয়। এরপরে বিষয়টি কারো কাছে না জানাতেও চাপ প্রয়োগ করেছে প্রভাবশালীরা।

এ ব্যাপারে চৌধুরী ক্লিনিকের চিকিৎসক দিলরুবা ফেরদৌস বলেন, ‘পেটের মধ্যে কিছু একটা ছিলো, ওটা তো আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টেই আছে। ওই চিকিৎসক আমার কলিগ তাই আর বিস্তারিত কিছু বলতে চাই না।’

এ ব্যাপারে কে আই ডিজিটাল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুয়েল বেপারী বলেন, রোগীর স্বজনরা তো আপনাদের কাছে অভিযোগ করেনি। আমরা ওই রোগীর সমস্ত চিকিৎসার খরচ দিয়েছি। কাজ করলে ভুল হতেই পারে। সেই রোগী ফরিদপুরে চিকিৎসা নিয়েছে, আমাদের এখানেও চিকিৎসা করিয়েছি। কোথায় ভুল চিকিৎসা করছে, এটা তো নিশ্চিত নয় কেউ। আমরা ভুল চিকিৎসা করাইনি। তবুও রোগী অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় চিকিৎসার সব খরচ আমরা দিয়েছি।

তবে এ ব্যাপারে ডা. শিমুল আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে একাধিকবার ওই হাসপাতালে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মাদারীপুর সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ কুমার দাস বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আমরা তদন্ত করে দেখবো। তদন্তে যদি কে আই ডিজিটাল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ওই চিকিৎসক দোষী প্রমাণিত হয়, তাহলে সে যাতে ওখানে চিকিৎসা করতে না পারে সে ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নিবো।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩, অলৌকিকভাবে বেঁচে গেল শিশুটি

রোগীর পেটে গজ রেখে সেলাই করে দিলো চিকিৎসক

আপডেট সময় ০২:০৯:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মাদারীপুরে কে আই ডিজিটাল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক চিকিৎসক রোগীর পেটে গজ রেখে সেলাই করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে মৃতুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন রুবি নামে ওই রোগী। এ ঘটনায় দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন মাদারীপুরে সচেতন নাগরিক সমাজ।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা গ্রামের সাগর খানের স্ত্রী রুবি আক্তারকে মাস তিনেক আগে কে আই ডিজিটাল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক শিমুল আক্তার সিজারিয়ান অপারেশন করেন। এ সময় একটি পুত্রসন্তান জন্ম দিলেও নবজাতক মারা যায়। চিকিসৎক শিমুল আক্তার তখন ভুলবসত পেটের মধ্যে গজ রেখে সেলাই করে দেন বলে জানা গেছে।

রুবি আক্তারের অবস্থা গুরুতর হলে ওই হাসপাতাল থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এরপর দীর্ঘ চিকিৎসার পরেও রোগির পেটের ব্যথা কমছিল না। উপায়ান্ত না দেখে গত ১০ আগষ্ট মাদারীপুরের চৌধুরী ক্লিনিকের চিকিৎসক দিলরুবা ফেরদৌসের কাছে চিকিৎসা নিতে আসলে বিভিন্ন পরীক্ষা নীরিক্ষার পরে পেটের মধ্যে গজ আছে এমন বিষয়টি ধরা পরে। ঘটনার পরে ক্ষতিগ্রস্ত রোগীকে কিছু টাকা পয়সা দিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিষয়টি মিমাংসা করে দেয়। এরপরে বিষয়টি কারো কাছে না জানাতেও চাপ প্রয়োগ করেছে প্রভাবশালীরা।

এ ব্যাপারে চৌধুরী ক্লিনিকের চিকিৎসক দিলরুবা ফেরদৌস বলেন, ‘পেটের মধ্যে কিছু একটা ছিলো, ওটা তো আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টেই আছে। ওই চিকিৎসক আমার কলিগ তাই আর বিস্তারিত কিছু বলতে চাই না।’

এ ব্যাপারে কে আই ডিজিটাল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুয়েল বেপারী বলেন, রোগীর স্বজনরা তো আপনাদের কাছে অভিযোগ করেনি। আমরা ওই রোগীর সমস্ত চিকিৎসার খরচ দিয়েছি। কাজ করলে ভুল হতেই পারে। সেই রোগী ফরিদপুরে চিকিৎসা নিয়েছে, আমাদের এখানেও চিকিৎসা করিয়েছি। কোথায় ভুল চিকিৎসা করছে, এটা তো নিশ্চিত নয় কেউ। আমরা ভুল চিকিৎসা করাইনি। তবুও রোগী অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় চিকিৎসার সব খরচ আমরা দিয়েছি।

তবে এ ব্যাপারে ডা. শিমুল আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে একাধিকবার ওই হাসপাতালে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মাদারীপুর সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ কুমার দাস বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আমরা তদন্ত করে দেখবো। তদন্তে যদি কে আই ডিজিটাল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ওই চিকিৎসক দোষী প্রমাণিত হয়, তাহলে সে যাতে ওখানে চিকিৎসা করতে না পারে সে ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নিবো।’