অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে হাইকোর্ট। তবে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা উপস্থিত না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আদালত।
আগামী তিন দিনের মধ্যে এই মামলার আপিল শুনানি শেষ করতে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের নির্দেশ দিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
বুধবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে খুরশীদ আলম খান শুনানি করেন। খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন বদরুদ্দোজা বাদল।
বুধবার বেলা ২টায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। এজন্য দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান নির্ধারিত সময়েই আদালতে উপস্থিত হন। তবে খালেদা জিয়ার পক্ষে সিনিয়র কোনো আইনজীবী যাননি। সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এজে মোহাম্মদ আলীর চেম্বারের একজন জুনিয়র আইনজীবী আদালতে উপস্থিত হয়ে আধাঘণ্টা সময় চান। আদালত সময় মঞ্জুর করেন। এরপর অন্যান্য মামলার শুনানি হয়। কিন্তু এক ঘণ্টা সময় চলে গেলেও সিনিয়র কেউ উপস্থিত না হওয়ায় খালেদা জিয়ার পক্ষে উপস্থিত জুনিয়র আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে আদালত বলেন, আধা ঘণ্টার কথা বলে একঘণ্টা হয়ে গেল। সিনিয়র কেউ এলেন না। এভাবে চললে কিন্তু মামলা ‘ক্লোজ’ কর দেব।
আদালত বলেন, শুধুই কি একা এজে মোহাম্মদ আলী? আরওতো অনেক সিনিয়র আইনজীবী আছেন এই মামলায়। তারা কোথায়?
এসময় খালেদা জিয়ার পক্ষে জুনিয়র আইনজীবী বলেন, মাই লর্ড। আরেকটু বিবেচনা করুন। সিনিয়র এসে যাবেন।
আদালত বলেন, এভাবেতো দুই মাস ধরে বিবেচনা করছি। আর কত? এভাবে চললে আদালত চালাতে পারবো না। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলা। তাতে সিনিয়ররা না থাকলে আদালত কী করতে পারে? আপনারা আদালতে আসছেন না। প্রতিদিনই এই অজুহাত, ওই অজুহাত দেখাচ্ছে।
এরপর আদালত বেশ কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকে। তখন বিকাল ৩টা ৪২ মিনিট। এসময় আদালতে উপস্থিত হন খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী বদরুদ্দোজা বাদল। তিনি আদালতে বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে একটি রিট হয়েছে। সিনিয়ররা সেখানে শুনানি করছেন। এটা আজই শুনানি শেষ হয়ে যাবে। তাই একটু বিবেচনা করুন।
এসময় আদালত বলেন, আপনারা আদালতকে সহযোগিতা করুন। তা না হলে আদালত আদালতের মতোই চলবে।
জবাবে বাদল বলেন, আমরা সহযোগিতা করছি। আরো করতে চাই। এই মামলায় এজে মোহাম্মদ আলী সিনিয়র। তিনি ছাড়া আর কেউ কথা বলতে চান না। এসময় আদালত দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর মতামত নিয়ে শুনানির জন্য সময় নির্ধারণ করেন।
এ পর্যায়ে খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য মৌখিক আবেদন জানান বাদল।
এসময় আদালত বলেন, জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আপনাকে পাওয়া গেছে। জামিনে থাকলেতো আপনাকেও পাওয়া যেত না। তাছাড়া জামিন বাড়িয়ে লাভ কী! জামিন নিয়েতো কাজ হয়নি। এটাতো কার্যকর হয়নি।
জবাবে বাদল বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে যা হচ্ছে তা শুনলে অবাক হয়ে যাবেন। জামিনযোগ্য মামলায় খালেদা জিয়াকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না। জামিন আবেদন দিনের পর দিন শুনানি না করে ফেলে রাখা হচ্ছে।
এসময় দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, জামিন বাড়ানোর দরকার নেই। মূল মামলায় যুক্তি উপস্থাপন করছেন না। আবার জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করছেন, এটা হতে পারে না। আগে মূল মামলার শুনানি হোক। আপিল বিভাগের নির্দেশনা রয়েছে। এনিয়ে খালেদা জিয়া ও দুদকের আইনজীবীদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়ে যায়।
এক পর্যায়ে আদালত বলেন, আপনাদের ঝগড়া করে লাভ কী! আদালত খালেদা জিয়ার আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে অসন্তোষ জানিয়ে বলেন, মূল মামলার শুনানি করবেন না? অথচ জামিন বাড়ানোর আবেদন করবেন, এটা হয় না।
আদালত বলেন, আপনারা সবাই আসুন। সকলে মিলে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির দৃষ্টান্ত স্থাপন করি। আদালত বলেন, সবক্ষেত্রেই দেখা যায়, জামিন হয়ে গেলে মূল মামলার শুনানি করার জন্য আর কাউকে পাওয়া যায় না।
দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে আদালত। এছাড়া আইনজীবীদের বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার, রবিবার ও সোমবারের মধ্যে তাদের আইনি যুক্তি শেষ করতে।
খুরশীদ বলেন, খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা সময় নিয়ে হাজির না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আদালত। আগামীকাল সকাল সাড়ে ১০টায় শুনানি শুরু হবে। তার আইনজীবীরা উপস্থিত না থাকলে আমি শুরু করবো।
গত ১৩ আগস্ট এই মামলায় শুনানি ২ অক্টোবর পর্যন্ত মুলতবি করেছিল আদালত। একই সঙ্গে তার জামিনের মেয়াদ ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছিল। এরপর আদালতের অবকাশকালীন ছুটি শুরু হলে দেড় মাস পর আজ আবার শুনানি শুরু হয়।
চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদণ্ডাদেশ দেন বিচারিক আদালত। রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তিনি এ মামলায় খালাস চেয়ে আপিল দায়ের করেন এবং জামিনের আবেদন করেন। গত ১২ মার্চ চার মাসের জামিন দেন আদালত, যা পরে আপিল বিভাগও বহাল রাখেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 





















