ঢাকা ০১:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পদত্যাগের পরও সরকারি বাসায় থাকা নিয়ে যা জানালেন আসিফ মাহমুদ অবশেষে ৭০ হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যার কথা স্বীকার করল ইসরায়েল অসৎ কাজ থেকে বিরত থেকেছি, তাই আমার বুকের জোড় বেশি: মির্জা ফখরুল নির্বাচন ও গণভোটে কঠোর নিরাপত্তায়, সারাদেশে ৩৭ হাজারের বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে আর্থিক সংকটে পঙ্গু হতে চলেছে জাতিসংঘ, সতর্কবার্তা গুতেরেসের নওগাঁয় ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল ৫ জনের ১৭ বছ‌রের গুম-খুন-কান্না, রিমান্ড অত‌্যাচার সহ্য ক‌রে‌ছি: পার্থ একটি দল টাকা দিয়ে ভোট কিনছে : সেলিমা রহমান তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই: আবু সাঈদের বাবা ‘ঘুম থেকে উঠে মানুষ আল্লাহর নাম নেয়, একজন আছে জেগেই আমার নাম নেন’:মির্জা আব্বাস

নিজের নামে পদ্মাসেতু চান না শেখ হাসিনা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পদ্মা সেতু নিজের নামে করতে রাজি নন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি এই সেতু বঙ্গবন্ধু কন্যার নামে হবে জানালেও দলীয় বৈঠকে সাফ জানিয়ে দেন, তিনি রাজি নন।

সোমবার সকালে জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফিরে গণভবনে দলীয় নেতা-কর্মীদেরকে এ কথা জানান শেখ হাসিনা।

ওই বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী কার্যনির্বাহী পরিষদের একজন সদস্য ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে বলেছেন, পদ্মা সেতু করব বলছি, পদ্মা সেতুই হবে। কিন্তু সেতুর নাম শেখ হাসিনা সেতু হবে না। এটা পদ্মা সেতুই হবে।’

ওই নেতা আরও জানান, এই সেতু তার নামে হবে বলে বক্তব্যে খুশি হননি শেখ হাসিনা। এই কথা সামনে আনায় তিনি অসন্তোষও জানিয়েছেন।

জানতে চাইলে ওই বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের আরও একজন নেতা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আনঅফিসিয়ালভাবে কথা বলেছেন। আমাদের একজন নেতা বলেছিলেন, এই সেতু আপার নামে করা হোক। পরে নেত্রী অসন্তোষ জানিয়ে বলেছেন, ‘আমি নাম চাই না। মানুষের জন্য করেছি। বিশ্বব্যাংক অর্থ বরাদ্দ বাতিল করেছে। তারপরেও আমি এই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। তবে এই সেতুর নাম আমার নামে হবে না’।”

গত ২৯ সেপ্টেম্বর মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করতে গিয়ে পদ্মাসেতু শেখ হাসিনার নামে করার কথা জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মন্ত্রী সেদিন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বারবার বলেছেন পদ্মা নদীর নামে সেতুর নামকরণ করা হোক। কিন্তু সংসদ সদস্য এবং বাইরের জনমত হল আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নামেই এ সেতুর নামকরণ হোক। তাই বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জনমতের প্রতিফলন ঘটাতে চায়।’

‘বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু থেকে সরে যাওয়ার পর নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের সাহস দেখান বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার এ সাহসকে সম্মান জানাই। তার একক সাহসের সোনালি ফসল পদ্মা সেতু। তার একক অবদানের জন্য এই সেতু নির্মিত হচ্ছে। স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি, সাহায্য ছাড়াই সেতু নির্মাণ হবে। তাই ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এই পদ্মা সেতুর নামকরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি ‘শেখ হাসিনা-পদ্মা সেতু।’

এই সেতুর নির্মাণ নিয়ে শেখ হাসিনা শুরু থেকেই বলিষ্ঠ ভূমিকা নিয়েছেন। ২০১০ সালে এই সেতুতে দুর্নীতি চেষ্টার অভিযোগ ‍তুলে অর্থায়ন নিয়ে টালবাহানা করে বিশ্বব্যাংক। সে সময়েই প্রধানমন্ত্রী পুরো অভিযোগকে ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দেন।

পরে বিশ্বব্যাংককে বাদ দিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে সেতু করতে অটল অবস্থান নেন প্রধানমন্ত্রী। পরে কানাডার আদালতে দুর্নীতির সেই অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

এর মধ্যে ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী সেতুর মূল কাজের উদ্বোধন করেন। সে সময় ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়।

কিন্তু মাটির নিচের গঠনগত সমস্যায় সেতুর ১১টি পিলার নির্মাণে নকশা পাল্টাতে হচ্ছে। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে সেতু হচ্ছে না-এটা নিশ্চিত।

সেতুর সার্বিক কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৫৯ শতাংশ ও মূল সেতুর কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৭০ শতাংশ। ১৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্প এলাকায় এসে ৬০ শতাংশ কাজের উদ্বোধন করবেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পদত্যাগের পরও সরকারি বাসায় থাকা নিয়ে যা জানালেন আসিফ মাহমুদ

নিজের নামে পদ্মাসেতু চান না শেখ হাসিনা

আপডেট সময় ০৮:৩২:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পদ্মা সেতু নিজের নামে করতে রাজি নন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি এই সেতু বঙ্গবন্ধু কন্যার নামে হবে জানালেও দলীয় বৈঠকে সাফ জানিয়ে দেন, তিনি রাজি নন।

সোমবার সকালে জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফিরে গণভবনে দলীয় নেতা-কর্মীদেরকে এ কথা জানান শেখ হাসিনা।

ওই বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী কার্যনির্বাহী পরিষদের একজন সদস্য ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে বলেছেন, পদ্মা সেতু করব বলছি, পদ্মা সেতুই হবে। কিন্তু সেতুর নাম শেখ হাসিনা সেতু হবে না। এটা পদ্মা সেতুই হবে।’

ওই নেতা আরও জানান, এই সেতু তার নামে হবে বলে বক্তব্যে খুশি হননি শেখ হাসিনা। এই কথা সামনে আনায় তিনি অসন্তোষও জানিয়েছেন।

জানতে চাইলে ওই বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের আরও একজন নেতা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আনঅফিসিয়ালভাবে কথা বলেছেন। আমাদের একজন নেতা বলেছিলেন, এই সেতু আপার নামে করা হোক। পরে নেত্রী অসন্তোষ জানিয়ে বলেছেন, ‘আমি নাম চাই না। মানুষের জন্য করেছি। বিশ্বব্যাংক অর্থ বরাদ্দ বাতিল করেছে। তারপরেও আমি এই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। তবে এই সেতুর নাম আমার নামে হবে না’।”

গত ২৯ সেপ্টেম্বর মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করতে গিয়ে পদ্মাসেতু শেখ হাসিনার নামে করার কথা জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মন্ত্রী সেদিন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বারবার বলেছেন পদ্মা নদীর নামে সেতুর নামকরণ করা হোক। কিন্তু সংসদ সদস্য এবং বাইরের জনমত হল আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নামেই এ সেতুর নামকরণ হোক। তাই বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জনমতের প্রতিফলন ঘটাতে চায়।’

‘বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু থেকে সরে যাওয়ার পর নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের সাহস দেখান বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার এ সাহসকে সম্মান জানাই। তার একক সাহসের সোনালি ফসল পদ্মা সেতু। তার একক অবদানের জন্য এই সেতু নির্মিত হচ্ছে। স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি, সাহায্য ছাড়াই সেতু নির্মাণ হবে। তাই ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এই পদ্মা সেতুর নামকরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি ‘শেখ হাসিনা-পদ্মা সেতু।’

এই সেতুর নির্মাণ নিয়ে শেখ হাসিনা শুরু থেকেই বলিষ্ঠ ভূমিকা নিয়েছেন। ২০১০ সালে এই সেতুতে দুর্নীতি চেষ্টার অভিযোগ ‍তুলে অর্থায়ন নিয়ে টালবাহানা করে বিশ্বব্যাংক। সে সময়েই প্রধানমন্ত্রী পুরো অভিযোগকে ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দেন।

পরে বিশ্বব্যাংককে বাদ দিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে সেতু করতে অটল অবস্থান নেন প্রধানমন্ত্রী। পরে কানাডার আদালতে দুর্নীতির সেই অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

এর মধ্যে ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী সেতুর মূল কাজের উদ্বোধন করেন। সে সময় ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়।

কিন্তু মাটির নিচের গঠনগত সমস্যায় সেতুর ১১টি পিলার নির্মাণে নকশা পাল্টাতে হচ্ছে। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে সেতু হচ্ছে না-এটা নিশ্চিত।

সেতুর সার্বিক কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৫৯ শতাংশ ও মূল সেতুর কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৭০ শতাংশ। ১৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্প এলাকায় এসে ৬০ শতাংশ কাজের উদ্বোধন করবেন।