ঢাকা ০১:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

নামে বাশার, সিরিয়া চালাচ্ছে সেনা-পুলিশ

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সিরিয়ায় আগে ছিল জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের ভয়। এখন সেই স্থান নিয়েছে বাশার বাহিনী। রুশ ও ইরানি বাহিনীর সহযোগিতায় দেশের প্রায় ৮০ ভাগ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে সরকারি বাহিনী।

নিয়ন্ত্রিত এলাকায় তারা এখন লুটতরাজ চালাচ্ছে। ঘরে ফেরার বিনিময়ে জনগণের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করছে। অধিবাসীদের বেআইনিভাবে আটক করছে। আটকদের থানায়-বন্দিশিবিরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে অত্যাচার করছে।

অর্থ দিলেই তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। মোট কথা, দেশের প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ হলেও সিরিয়া চালাচ্ছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর)।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুনর্দখলের পর আল মায়াদিন শহর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার উদ্বাস্তুদের ফেলে যাওয়া অবশিষ্ট বাড়িঘর দখল করে নিয়েছে বাশার বাহিনী। যারা বাড়ি ফিরে আসছে তাদের কাছ থেকে জোর করে অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

অর্থ না দিলে সন্ত্রাসবাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে। অর্থের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। এভাবে রমরমা গ্রেফতার বাণিজ্য করে পকেট ভরছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ।

সংস্থাটি জানায়, সম্প্রতি ইরানি বাহিনীর সহযোগিতায় আল মায়াদিন শহর পুনর্দখলে নেয় বাশার বাহিনী। শহরটি দেইর-আল জর প্রদেশের পূর্বে ও ইউফ্রেটিস নদীর পশ্চিমে অবস্থিত। সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসার আগে বহুদিন ধরে আইএসের নিয়ন্ত্রণে ছিল শহরটি। আল মায়াদিন ও সংলগ্ন এলাকায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন অধিবাসীরা।

থাকার জায়গা নেই, বিদ্যুৎ নেই। খাবার নেই, ওষুধ নেই। ফলে বাধ্য হয়ে খাবার ও চিকিৎসার খোঁজে ৫০ কিমি. বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে দেইর-আল জর শহরে ছুটে যাচ্ছেন। অন্যদিকে সরকারি বাহিনীর বিভিন্ন নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। এদিকে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের নিকটবর্তী পূর্ব ঘৌটা ও সংলগ্ন এলাকায় মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

এসব চৌকিতে সেনাবাহিনীর সদস্যদের সরিয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বসানো হচ্ছে। চলাচলরত ব্যক্তি ও বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে জিজ্ঞাসবাদ করা হচ্ছে। নাগরিকদের মধ্যে লুকিয়ে সম্ভাব্য ‘ওয়ান্টেড’ বা বিদ্রোহী-জঙ্গিদের ধরতে অধিবাসীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর) বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

সিরিয়ার যুদ্ধে বিজয়ের পথে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ বাহিনী। হোমস, আলেপ্পো, দারা ও পূর্ব ঘৌটার পর এবার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত সর্বশেষ ঘাঁটি ইদলিব পুনর্দখলে অভিযান চালাচ্ছে সরকারি বাহিনী। একই সঙ্গে বিজিত এলকায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা অভিযান ও তল্লাশি করা হচ্ছে।

কয়েক মাসের রক্তক্ষয়ী লড়াই শেষে এপ্রিলে বিদ্রোহীদের তাড়িয়ে পূর্ব ঘৌটা শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাশার বাহিনী। শহরটিতে প্রায় ৪ লাখ মানুষের বাস। শহরের বিভিন্ন মোড়ে তল্লাশি চৌকি ও বন্দিশিবির স্থাপন করা হয়েছে।

এর মধ্যে আল-মালিহা ও এইন তেরাসহ আরও বেশ কিছু তল্লাশি চৌকিতে সরকারি বাহিনী রিপাবলিকান গার্ড ফোর্সসহ সরকারের বিভিন্ন শাখার গোয়েন্দা নিযুক্ত করা হয়েছে।

এখান থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সরকারবিরোধী ও বিদ্রোহীদের আটক করতে বাড়ি বাড়ি গিয়েও চালানো হচ্ছে তল্লাশি। অনেককেই আটক করা হচ্ছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দামেস্কের বিভিন্ন থানায়।

স্থানীয় বা আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী বা বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে কি না, সেসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে আটক ব্যক্তিদের। চলতি সপ্তাহে আটকের সংখ্যা ৩০০ জনে পৌঁছেছে। আটকের পর মুক্তি পাওয়া বেশ কয়েকজন মানবাধিকার সংস্থাটিকে এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর থেকে পূর্ব ঘৌটা ও সংলগ্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে সাঁড়াশি নিরাপত্তা অভিযান ও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

নামে বাশার, সিরিয়া চালাচ্ছে সেনা-পুলিশ

আপডেট সময় ০৪:২১:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সিরিয়ায় আগে ছিল জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের ভয়। এখন সেই স্থান নিয়েছে বাশার বাহিনী। রুশ ও ইরানি বাহিনীর সহযোগিতায় দেশের প্রায় ৮০ ভাগ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে সরকারি বাহিনী।

নিয়ন্ত্রিত এলাকায় তারা এখন লুটতরাজ চালাচ্ছে। ঘরে ফেরার বিনিময়ে জনগণের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করছে। অধিবাসীদের বেআইনিভাবে আটক করছে। আটকদের থানায়-বন্দিশিবিরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে অত্যাচার করছে।

অর্থ দিলেই তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। মোট কথা, দেশের প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ হলেও সিরিয়া চালাচ্ছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর)।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুনর্দখলের পর আল মায়াদিন শহর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার উদ্বাস্তুদের ফেলে যাওয়া অবশিষ্ট বাড়িঘর দখল করে নিয়েছে বাশার বাহিনী। যারা বাড়ি ফিরে আসছে তাদের কাছ থেকে জোর করে অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

অর্থ না দিলে সন্ত্রাসবাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে। অর্থের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। এভাবে রমরমা গ্রেফতার বাণিজ্য করে পকেট ভরছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ।

সংস্থাটি জানায়, সম্প্রতি ইরানি বাহিনীর সহযোগিতায় আল মায়াদিন শহর পুনর্দখলে নেয় বাশার বাহিনী। শহরটি দেইর-আল জর প্রদেশের পূর্বে ও ইউফ্রেটিস নদীর পশ্চিমে অবস্থিত। সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসার আগে বহুদিন ধরে আইএসের নিয়ন্ত্রণে ছিল শহরটি। আল মায়াদিন ও সংলগ্ন এলাকায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন অধিবাসীরা।

থাকার জায়গা নেই, বিদ্যুৎ নেই। খাবার নেই, ওষুধ নেই। ফলে বাধ্য হয়ে খাবার ও চিকিৎসার খোঁজে ৫০ কিমি. বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে দেইর-আল জর শহরে ছুটে যাচ্ছেন। অন্যদিকে সরকারি বাহিনীর বিভিন্ন নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। এদিকে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের নিকটবর্তী পূর্ব ঘৌটা ও সংলগ্ন এলাকায় মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

এসব চৌকিতে সেনাবাহিনীর সদস্যদের সরিয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বসানো হচ্ছে। চলাচলরত ব্যক্তি ও বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে জিজ্ঞাসবাদ করা হচ্ছে। নাগরিকদের মধ্যে লুকিয়ে সম্ভাব্য ‘ওয়ান্টেড’ বা বিদ্রোহী-জঙ্গিদের ধরতে অধিবাসীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর) বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

সিরিয়ার যুদ্ধে বিজয়ের পথে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ বাহিনী। হোমস, আলেপ্পো, দারা ও পূর্ব ঘৌটার পর এবার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত সর্বশেষ ঘাঁটি ইদলিব পুনর্দখলে অভিযান চালাচ্ছে সরকারি বাহিনী। একই সঙ্গে বিজিত এলকায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা অভিযান ও তল্লাশি করা হচ্ছে।

কয়েক মাসের রক্তক্ষয়ী লড়াই শেষে এপ্রিলে বিদ্রোহীদের তাড়িয়ে পূর্ব ঘৌটা শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাশার বাহিনী। শহরটিতে প্রায় ৪ লাখ মানুষের বাস। শহরের বিভিন্ন মোড়ে তল্লাশি চৌকি ও বন্দিশিবির স্থাপন করা হয়েছে।

এর মধ্যে আল-মালিহা ও এইন তেরাসহ আরও বেশ কিছু তল্লাশি চৌকিতে সরকারি বাহিনী রিপাবলিকান গার্ড ফোর্সসহ সরকারের বিভিন্ন শাখার গোয়েন্দা নিযুক্ত করা হয়েছে।

এখান থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সরকারবিরোধী ও বিদ্রোহীদের আটক করতে বাড়ি বাড়ি গিয়েও চালানো হচ্ছে তল্লাশি। অনেককেই আটক করা হচ্ছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দামেস্কের বিভিন্ন থানায়।

স্থানীয় বা আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী বা বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে কি না, সেসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে আটক ব্যক্তিদের। চলতি সপ্তাহে আটকের সংখ্যা ৩০০ জনে পৌঁছেছে। আটকের পর মুক্তি পাওয়া বেশ কয়েকজন মানবাধিকার সংস্থাটিকে এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর থেকে পূর্ব ঘৌটা ও সংলগ্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে সাঁড়াশি নিরাপত্তা অভিযান ও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।