ঢাকা ০৪:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষায় সহযোগিতা-মানোন্নয়ন নিয়ে আলোচনা বিসিবি নির্বাচনে ভোট দিলেন তামিম রামিসা হত্যার রায় তিন মাসের মধ্যে কার্যকর সম্ভব : আইনমন্ত্রী রামিসা হত্যা মামলার রায় বিচারিক প্রক্রিয়ায় মাইলফলক : অ্যাটর্নি জেনারেল ফের ইরান সফরে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর যুগান্তকারী পরিকল্পনা আছে: মাহদী আমিন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এবার আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা: প্রধানমন্ত্রী রায়ে সন্তুষ্ট রামিসার বাবা, দ্রুত কার্যকরের দাবি সোহেলকে ৫ লাখ, স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা, পাবেন রামিসার ওয়ারিশরা ব্যাংকখাতে সুশাসন নিশ্চিতে সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : তথ্যমন্ত্রী

বন্যায় ২০ জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত পৌনে ছয় লাখ মানুষ: ত্রাণমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দফা বন্যায় এ পর্যন্ত ২০ জেলার পাঁচ লাখ ৮৬ হাজার ৩৯০ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে তিন লাখ ৬৮ হাজার ৫৮৬ জনকে ৯৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সোমবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে বন্যার সবশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরতে করা সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, আমরা উজানের দেশ চীন, ভারত, নেপাল ও ভুটানের বন্যা পরিস্থিতি গভীর পর্যবেক্ষণে রাখছি। এসব দেশে বন্যা হলে স্বাভাবিকভাবেই ভাটির দেশ হিসেবে আমাদের উপর এর প্রভাব পড়বে। সে অনুযায়ী সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে।

মায়া জানান, সিলেট, সুনামগঞ্জ, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নেত্রকোণা, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিসহ ২০ জেলার ৩৫৬টি উপজেলার ৩৫৮টি ইউনিয়ন দ্বিতীয় দফার বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। দুর্গত হয়েছে ও হতে পারে এমন ৩৩টি জেলায় ইতিমধ্যে ১০ হাজার ৬৩০ মেট্রিক টন চাল এবং তিন কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

রোববার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) এবং মাঠ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করে তাদের কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদসহ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ও পূর্বাঞ্চলের আংশিক এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। রোববার একদিনের ব্যবধানে সর্বগ্রাসী বন্যা আরও ১০ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের ২৪ জেলার লাখ লাখ মানুষ এখন পানিবন্দি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবোর) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের ৯০টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ৭৭টিতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকার খবর পাওয়া গেছে। আর ২৫টি পয়েন্টে নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নদ-নদীর পানি বাড়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। হুমকির মুখে পড়েছে তিস্তা ব্যারাজ। ডালিয়া পয়েন্টে জারি করা হয়েছে রেড অ্যালার্ট।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষায় সহযোগিতা-মানোন্নয়ন নিয়ে আলোচনা

বন্যায় ২০ জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত পৌনে ছয় লাখ মানুষ: ত্রাণমন্ত্রী

আপডেট সময় ০২:০৯:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দফা বন্যায় এ পর্যন্ত ২০ জেলার পাঁচ লাখ ৮৬ হাজার ৩৯০ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে তিন লাখ ৬৮ হাজার ৫৮৬ জনকে ৯৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সোমবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে বন্যার সবশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরতে করা সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, আমরা উজানের দেশ চীন, ভারত, নেপাল ও ভুটানের বন্যা পরিস্থিতি গভীর পর্যবেক্ষণে রাখছি। এসব দেশে বন্যা হলে স্বাভাবিকভাবেই ভাটির দেশ হিসেবে আমাদের উপর এর প্রভাব পড়বে। সে অনুযায়ী সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে।

মায়া জানান, সিলেট, সুনামগঞ্জ, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নেত্রকোণা, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিসহ ২০ জেলার ৩৫৬টি উপজেলার ৩৫৮টি ইউনিয়ন দ্বিতীয় দফার বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। দুর্গত হয়েছে ও হতে পারে এমন ৩৩টি জেলায় ইতিমধ্যে ১০ হাজার ৬৩০ মেট্রিক টন চাল এবং তিন কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

রোববার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) এবং মাঠ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করে তাদের কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদসহ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ও পূর্বাঞ্চলের আংশিক এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। রোববার একদিনের ব্যবধানে সর্বগ্রাসী বন্যা আরও ১০ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের ২৪ জেলার লাখ লাখ মানুষ এখন পানিবন্দি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবোর) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের ৯০টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ৭৭টিতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকার খবর পাওয়া গেছে। আর ২৫টি পয়েন্টে নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নদ-নদীর পানি বাড়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। হুমকির মুখে পড়েছে তিস্তা ব্যারাজ। ডালিয়া পয়েন্টে জারি করা হয়েছে রেড অ্যালার্ট।