ঢাকা ০৯:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

৭০ বছর ধরে উ. কোরিয়াকে গোলাম বানিয়ে রেখেছে কিম পরিবার

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

হুকুমের বাইরে যাওয়া যাবে না। সরকারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নিজের পরিবারেও কিছু করা যাবে না। বিশ্বের অন্য কারও সঙ্গেও যোগাযোগ নিষিদ্ধ।

বিদেশি পর্যটকরাও থাকেন কড়া নিরাপত্তায়। সরকারের সমালোচনা করলে বা বিরোধী কোনো মনভাব প্রকাশ করলেই মৃত্যুদণ্ড বা কারাদণ্ডের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। পান থেকে চুন খসলেই নেমে আসে অকথ্য নির্যাতন।

সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করায় শীর্ষ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে নিজের আত্মীয়দেরও ছাড় দেয় না। খ্রিস্টানদের জন্য জলন্ত কারাগার। দেশের কোথাও খ্রিস্টান পাওয়া গেলেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

বাকস্বাধীনতা দূরের কথা জনগণের মৌলিক চাহিদাও এই পরিবারের মুঠোবন্দি। ১৯৪৫ সালে জাপানের কাছ থেকে স্বাধীনতার পর থেকে তিন পুরুষ ধরে উ. কোরিয়ায় একনায়কতন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে কিম পরিবার। আর এই সাত বছর ধরেই উত্তর কোরিয়াকে গোলাম বানিয়ে রেখেছে তারা। বিগত কয়েক দশক থেকেই উত্তর কোরিয়ায় চলছে পারিবারিক স্বৈরশাসন। কিমের পরিবারের তিন প্রজন্মের কাছেই যুগের পর যুগ ধরে দেশটির সর্বোচ্চ ক্ষমতা গচ্ছিত আছে।

১৯৪৮ সালে উত্তর কোরিয়ার প্রথম ও ‘চিরন্তন’ প্রেসিডেন্ট কিম ইল-সুং (কিমের দাদা) ক্ষমতায় আসেন। দেশটির সরকারি বর্ষপঞ্জির শুরু কিম ইলের জন্মবর্ষ ১৯১২ সাল থেকে।

১৯৫৩ সালে কোরিয়া যুদ্ধের পর দশকের পর দশক ধরে দেশ শাসন করেছেন ইল। ১৯৮০ সালের পার্টি কংগ্রেসে তিনি ঘোষণা করেন, পুত্র কিম জং-ইল (কিমের বাবা) তার উত্তরাধিকারী হবেন। ২০১১ সালের ১৭ ডিসেম্বর বাবার মৃত্যুর পর ক্ষমতায় বসেন কিম জং উন।

উত্তর কোরিয়া বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই দেশটিকে পরমাণু শক্তিধর করে তুলেছেন কিম। অন্য শক্তিশালী দেশগুলোর হুমকিকে তোয়াক্কা না করে একের পর এক অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছেন তিনি। বাপ-দাদার কিছু রীতি ভেঙে ক্ষমতায়নে নারীদের সামনে এনেছেন কিম। প্রথমবারের মতো নিজের স্ত্রী রি সোল জুকে ফার্স্টলেডির মর্যাদা দিয়েছেন।

ছোট বোন কিম ইয়ো জংকে দলের কার্যনির্বাহী পরিষদ পলিটব্যুরোর সদস্য পদে বসান। উত্তর কোরিয়ার নাগরিকদের কাছে কিম জং উন ভগবানতুল্য। তবে সেটা বাধ্য হয়ে ও ভয়ের কারণে। সরকারের সমালোচকদের কখনও ক্ষুধার্ত কুকুরের মুখে ঠেলে দিয়ে। কখনও কামানের তোপ।

আবার কখনও সামনে থেকে গুলি করে দণ্ড দেয়ার একাধিক নজির রয়েছে কিমের। ‘নৃশংস’ এ শাসক অন্তত তিন শতাধিক অভিজাত লোককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল রি ইয়ং গিলকে কামানের গোলায় উড়িয়ে দেন তিনি।

২০১৪ সালে সরকারবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে ক্ষুধার্ত কুকুরের পালে ছেড়ে হত্যা করেন নিজ চাচা জং সাং থায়েককে। জ্যাংয়ের রক্ত সম্পর্কের কাউকে বাঁচিয়ে রাখেননি কিম। রেহাই পায়নি নিরপরাধ শিশুরাও।

সামরিক বাহিনীর এক অনুষ্ঠানে ঘুমিয়ে পড়ার কারণে বিমানবিধ্বংসী কামানের গোলায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিওন ইয়ং চলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেন কিম।

মৃত্যু ও কারাভোগের হুমকি উপেক্ষা করে সম্প্রতি বিবিসির ভিক্টোরিয়া দার্বিশায়ার প্রোগ্রামে কথা বলেছেন উত্তর কোরিয়ার দু’জন নাগরিক।

ব্যবসায়িক সুন হুই (ছদ্মনাম) বলেন, ‘অধিকাংশ নাগরিক কিমকে একজন পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী মনে করেন। তিনি মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেন। রক্তচোষার মতো অর্থ ছিনিয়ে নিতে কিম তার মাথাকে পুরোপুরি কাজে লাগান।’

জাতিসংঘের ত্রাণ সহযোগিতা সংস্থা (ওসিএইচএ) জানায়, দেশটির ৭০ শতাংশ নাগরিক সরকারের খাদ্য প্রোগ্রামের ওপর নির্ভরশীল। দৈনিক তিন বেলার জন্য ৩০০ গ্রাম করে খাবার পান তারা।

ওসিএইচএ জানায়, উত্তর কোরিয়ার ৪১ শতাংশ নাগরিক অপুষ্টিতে ভুগেন। প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ নাগরিক খাদ্য নিরাপত্তায় রয়েছেন। উত্তর কোরিয়ায় কারও নাম ‘কিম জং-উন’ রাখা যাবে না বলে নতুন নির্দেশনা দেন কিম।

যাদের এ নাম আছে, তাদেরও তা বদলে ফেলতে নির্দেশ দেয়া হয়। দাদা ইল-সাংয়ের নামের ক্ষেত্রেও একই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। এমনকি কিমের বাবা ও দাদার জন্মদিনে কেউ জন্মদিন পালন করতে পারেন না।

দেশের স্কুল-কলেজের পুরো পাঠ্যবইজুড়ে রয়েছে কিম পরিবারের কেচ্ছাকাহিনী। রয়েছে ‘বিস্ময়বালক’ কিম জং উনের মাহাত্ম্যের বর্ণনা। ভয়ের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মকে প্রশ্নহীন আনুগত্য তৈরি করাই এর উদ্দেশ্য।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

৭০ বছর ধরে উ. কোরিয়াকে গোলাম বানিয়ে রেখেছে কিম পরিবার

আপডেট সময় ০৯:০০:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ জুন ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

হুকুমের বাইরে যাওয়া যাবে না। সরকারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নিজের পরিবারেও কিছু করা যাবে না। বিশ্বের অন্য কারও সঙ্গেও যোগাযোগ নিষিদ্ধ।

বিদেশি পর্যটকরাও থাকেন কড়া নিরাপত্তায়। সরকারের সমালোচনা করলে বা বিরোধী কোনো মনভাব প্রকাশ করলেই মৃত্যুদণ্ড বা কারাদণ্ডের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। পান থেকে চুন খসলেই নেমে আসে অকথ্য নির্যাতন।

সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করায় শীর্ষ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে নিজের আত্মীয়দেরও ছাড় দেয় না। খ্রিস্টানদের জন্য জলন্ত কারাগার। দেশের কোথাও খ্রিস্টান পাওয়া গেলেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

বাকস্বাধীনতা দূরের কথা জনগণের মৌলিক চাহিদাও এই পরিবারের মুঠোবন্দি। ১৯৪৫ সালে জাপানের কাছ থেকে স্বাধীনতার পর থেকে তিন পুরুষ ধরে উ. কোরিয়ায় একনায়কতন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে কিম পরিবার। আর এই সাত বছর ধরেই উত্তর কোরিয়াকে গোলাম বানিয়ে রেখেছে তারা। বিগত কয়েক দশক থেকেই উত্তর কোরিয়ায় চলছে পারিবারিক স্বৈরশাসন। কিমের পরিবারের তিন প্রজন্মের কাছেই যুগের পর যুগ ধরে দেশটির সর্বোচ্চ ক্ষমতা গচ্ছিত আছে।

১৯৪৮ সালে উত্তর কোরিয়ার প্রথম ও ‘চিরন্তন’ প্রেসিডেন্ট কিম ইল-সুং (কিমের দাদা) ক্ষমতায় আসেন। দেশটির সরকারি বর্ষপঞ্জির শুরু কিম ইলের জন্মবর্ষ ১৯১২ সাল থেকে।

১৯৫৩ সালে কোরিয়া যুদ্ধের পর দশকের পর দশক ধরে দেশ শাসন করেছেন ইল। ১৯৮০ সালের পার্টি কংগ্রেসে তিনি ঘোষণা করেন, পুত্র কিম জং-ইল (কিমের বাবা) তার উত্তরাধিকারী হবেন। ২০১১ সালের ১৭ ডিসেম্বর বাবার মৃত্যুর পর ক্ষমতায় বসেন কিম জং উন।

উত্তর কোরিয়া বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই দেশটিকে পরমাণু শক্তিধর করে তুলেছেন কিম। অন্য শক্তিশালী দেশগুলোর হুমকিকে তোয়াক্কা না করে একের পর এক অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছেন তিনি। বাপ-দাদার কিছু রীতি ভেঙে ক্ষমতায়নে নারীদের সামনে এনেছেন কিম। প্রথমবারের মতো নিজের স্ত্রী রি সোল জুকে ফার্স্টলেডির মর্যাদা দিয়েছেন।

ছোট বোন কিম ইয়ো জংকে দলের কার্যনির্বাহী পরিষদ পলিটব্যুরোর সদস্য পদে বসান। উত্তর কোরিয়ার নাগরিকদের কাছে কিম জং উন ভগবানতুল্য। তবে সেটা বাধ্য হয়ে ও ভয়ের কারণে। সরকারের সমালোচকদের কখনও ক্ষুধার্ত কুকুরের মুখে ঠেলে দিয়ে। কখনও কামানের তোপ।

আবার কখনও সামনে থেকে গুলি করে দণ্ড দেয়ার একাধিক নজির রয়েছে কিমের। ‘নৃশংস’ এ শাসক অন্তত তিন শতাধিক অভিজাত লোককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল রি ইয়ং গিলকে কামানের গোলায় উড়িয়ে দেন তিনি।

২০১৪ সালে সরকারবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে ক্ষুধার্ত কুকুরের পালে ছেড়ে হত্যা করেন নিজ চাচা জং সাং থায়েককে। জ্যাংয়ের রক্ত সম্পর্কের কাউকে বাঁচিয়ে রাখেননি কিম। রেহাই পায়নি নিরপরাধ শিশুরাও।

সামরিক বাহিনীর এক অনুষ্ঠানে ঘুমিয়ে পড়ার কারণে বিমানবিধ্বংসী কামানের গোলায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিওন ইয়ং চলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেন কিম।

মৃত্যু ও কারাভোগের হুমকি উপেক্ষা করে সম্প্রতি বিবিসির ভিক্টোরিয়া দার্বিশায়ার প্রোগ্রামে কথা বলেছেন উত্তর কোরিয়ার দু’জন নাগরিক।

ব্যবসায়িক সুন হুই (ছদ্মনাম) বলেন, ‘অধিকাংশ নাগরিক কিমকে একজন পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী মনে করেন। তিনি মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেন। রক্তচোষার মতো অর্থ ছিনিয়ে নিতে কিম তার মাথাকে পুরোপুরি কাজে লাগান।’

জাতিসংঘের ত্রাণ সহযোগিতা সংস্থা (ওসিএইচএ) জানায়, দেশটির ৭০ শতাংশ নাগরিক সরকারের খাদ্য প্রোগ্রামের ওপর নির্ভরশীল। দৈনিক তিন বেলার জন্য ৩০০ গ্রাম করে খাবার পান তারা।

ওসিএইচএ জানায়, উত্তর কোরিয়ার ৪১ শতাংশ নাগরিক অপুষ্টিতে ভুগেন। প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ নাগরিক খাদ্য নিরাপত্তায় রয়েছেন। উত্তর কোরিয়ায় কারও নাম ‘কিম জং-উন’ রাখা যাবে না বলে নতুন নির্দেশনা দেন কিম।

যাদের এ নাম আছে, তাদেরও তা বদলে ফেলতে নির্দেশ দেয়া হয়। দাদা ইল-সাংয়ের নামের ক্ষেত্রেও একই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। এমনকি কিমের বাবা ও দাদার জন্মদিনে কেউ জন্মদিন পালন করতে পারেন না।

দেশের স্কুল-কলেজের পুরো পাঠ্যবইজুড়ে রয়েছে কিম পরিবারের কেচ্ছাকাহিনী। রয়েছে ‘বিস্ময়বালক’ কিম জং উনের মাহাত্ম্যের বর্ণনা। ভয়ের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মকে প্রশ্নহীন আনুগত্য তৈরি করাই এর উদ্দেশ্য।