ঢাকা ০৬:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ছোটবেলা থেকেই তাজিনের শ্বাসকষ্ট ছিল: দিলারা জামান

অভিনেত্রী দিলারা জামান

আকাশ বিনোদন ডেস্ক:

ছোটবেলা থেকেই অভিনেত্রী তাজিন আহমেদের শ্বাসকষ্ট ছিল বলে জানিয়েছেন তার ফুপু ও বাংলাদেশের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী দিলারা জামান। মঙ্গলবার তাজিন মারা যাওয়ার পর এভাবেই স্মরণ করছিলেন অভিনেত্রী দিলারা জামান।

তাজিনকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমার বড় মেয়ে আর তাজিন একই বয়সের। আমার ছোট ভাইয়ের বিয়েতে তাজিনসহ আমরা সবাই মজা করছিলাম, বিয়ের অনুষ্ঠানে হঠাৎ করেই তাজিন অসুস্থ হয়ে পড়েছিল, তাড়াতাড়ি তাকে আমরা হাসপাতালে নিয়ে যাই, সেখানে আমরা চার দিন ছিলাম, বিয়ের সব অনুষ্ঠান বাতিল করা হলো। পরিবারের সবাই হাসপাতালে চলে আসি। তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল, এই শ্বাসকষ্ট তার ছোটবেলা থেকেই ছিল। তখন তার পাশে বসে সেবা করার সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু যখন একেবারেই চলে গেল, একটু শেষ কথাও বলে গেল না।’

দিলারা জামান আরও বলেন, ‘প্রচণ্ড স্বাধীনচেতা মানুষ ছিল তাজিন, কখনো কাউকে নিজের কষ্ট বুঝতে দেয়নি। কারো বিরুদ্ধে কখনো কোনো অভিযোগ করেনি। এমনকি নিজের কষ্টও কাউকে বুঝতে দেয়নি। কারো সঙ্গে কষ্ট ভাগ করেনি। নীরবে নিভৃতে অভিমান নিয়ে চলে গেছে। তার জ্বালা যন্ত্রণা কষ্ট কাউকে বুঝতে দেয়নি। সারাজীবন নীরবে নিভৃতে কষ্ট সহ্য করেছে।’

মঙ্গলবার তাজিনের খবর দিলারা জামান যখন পান তখন তিনি শুটিং করছিলেন। বলেন, ‘আমি সকালে মধুমতি মডেল টাউনে শুটিং করছিলাম। দুপুরের দিকে ফোন পেলাম তাজিন খুব অসুস্থ। তখন সবাইকে বলি আমাকে তাড়াতাড়ি ছেড়ে দাও, শুটিং শেষ করে তাজিনকে দেখতে যাব। তারপর আবারও শুটিং করছিলাম, কিন্তু আমার মন মানছিল না, বারবারই তাজিনের কথা মনে হচ্ছে। আমি বুঝতে পেরেছিলাম কিছু একটা হয়েছে। একসময় দেখলাম সবাই কেমন যেন কানাঘুষা করছে, আমার মনটা কেমন যেন করতে লাগল। আমি কারো কোনো কথা না শুনে হাসপাতালে চলে আসি। রাস্তায় শুনতে পাই তাজিন নেই।’

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে মারা যান অভিনেত্রী তাজিন আহমেদ। তার বয়স হয়েছিল ৪২ বছর।

ছোটপর্দার একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ছিলেন তাজিন আহমেদ। অভিনয়ের পাশাপাশি উপস্থাপনা করেও জনপ্রিয়তা পান তিনি। নাট্যজগতে কাজের শুরুর দিকে তিনি আরণ্যক নাট্যদলের মাধ্যমে মঞ্চনাটকে অভিনয় করেন। পরে টেলিভিশন নাটক করে খ্যাতি অর্জন করেন।

তবে গত কয়েক বছর টেলিভিশন নাটকে অনিয়মিত ছিলেন তাজিন। কিছুদিন আগে মঞ্চে আরণ্যকের ‘ময়ূর সিংহাসন’ নাটকে অভিনয় করেন তাজিন।

গত বছর নতুন রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে (এনডিএম) যোগ দিয়েছিলেন তাজিন আহমেদ। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদ পেয়েছিলেন তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

ছোটবেলা থেকেই তাজিনের শ্বাসকষ্ট ছিল: দিলারা জামান

আপডেট সময় ০৯:৩৭:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ মে ২০১৮

আকাশ বিনোদন ডেস্ক:

ছোটবেলা থেকেই অভিনেত্রী তাজিন আহমেদের শ্বাসকষ্ট ছিল বলে জানিয়েছেন তার ফুপু ও বাংলাদেশের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী দিলারা জামান। মঙ্গলবার তাজিন মারা যাওয়ার পর এভাবেই স্মরণ করছিলেন অভিনেত্রী দিলারা জামান।

তাজিনকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমার বড় মেয়ে আর তাজিন একই বয়সের। আমার ছোট ভাইয়ের বিয়েতে তাজিনসহ আমরা সবাই মজা করছিলাম, বিয়ের অনুষ্ঠানে হঠাৎ করেই তাজিন অসুস্থ হয়ে পড়েছিল, তাড়াতাড়ি তাকে আমরা হাসপাতালে নিয়ে যাই, সেখানে আমরা চার দিন ছিলাম, বিয়ের সব অনুষ্ঠান বাতিল করা হলো। পরিবারের সবাই হাসপাতালে চলে আসি। তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল, এই শ্বাসকষ্ট তার ছোটবেলা থেকেই ছিল। তখন তার পাশে বসে সেবা করার সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু যখন একেবারেই চলে গেল, একটু শেষ কথাও বলে গেল না।’

দিলারা জামান আরও বলেন, ‘প্রচণ্ড স্বাধীনচেতা মানুষ ছিল তাজিন, কখনো কাউকে নিজের কষ্ট বুঝতে দেয়নি। কারো বিরুদ্ধে কখনো কোনো অভিযোগ করেনি। এমনকি নিজের কষ্টও কাউকে বুঝতে দেয়নি। কারো সঙ্গে কষ্ট ভাগ করেনি। নীরবে নিভৃতে অভিমান নিয়ে চলে গেছে। তার জ্বালা যন্ত্রণা কষ্ট কাউকে বুঝতে দেয়নি। সারাজীবন নীরবে নিভৃতে কষ্ট সহ্য করেছে।’

মঙ্গলবার তাজিনের খবর দিলারা জামান যখন পান তখন তিনি শুটিং করছিলেন। বলেন, ‘আমি সকালে মধুমতি মডেল টাউনে শুটিং করছিলাম। দুপুরের দিকে ফোন পেলাম তাজিন খুব অসুস্থ। তখন সবাইকে বলি আমাকে তাড়াতাড়ি ছেড়ে দাও, শুটিং শেষ করে তাজিনকে দেখতে যাব। তারপর আবারও শুটিং করছিলাম, কিন্তু আমার মন মানছিল না, বারবারই তাজিনের কথা মনে হচ্ছে। আমি বুঝতে পেরেছিলাম কিছু একটা হয়েছে। একসময় দেখলাম সবাই কেমন যেন কানাঘুষা করছে, আমার মনটা কেমন যেন করতে লাগল। আমি কারো কোনো কথা না শুনে হাসপাতালে চলে আসি। রাস্তায় শুনতে পাই তাজিন নেই।’

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে মারা যান অভিনেত্রী তাজিন আহমেদ। তার বয়স হয়েছিল ৪২ বছর।

ছোটপর্দার একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ছিলেন তাজিন আহমেদ। অভিনয়ের পাশাপাশি উপস্থাপনা করেও জনপ্রিয়তা পান তিনি। নাট্যজগতে কাজের শুরুর দিকে তিনি আরণ্যক নাট্যদলের মাধ্যমে মঞ্চনাটকে অভিনয় করেন। পরে টেলিভিশন নাটক করে খ্যাতি অর্জন করেন।

তবে গত কয়েক বছর টেলিভিশন নাটকে অনিয়মিত ছিলেন তাজিন। কিছুদিন আগে মঞ্চে আরণ্যকের ‘ময়ূর সিংহাসন’ নাটকে অভিনয় করেন তাজিন।

গত বছর নতুন রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে (এনডিএম) যোগ দিয়েছিলেন তাজিন আহমেদ। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদ পেয়েছিলেন তিনি।