ঢাকা ১২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে হাসানুল হক ইনুকে শিবির কি শেখ মুজিবের স্থলে ওসমান হাদিকে জাতির পিতা হিসেবে দাঁড় করাতে চায়?প্রশ্ন রাশেদ খানের চট্টগ্রাম-৪ আসনে নতুন করে নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে : অ্যাটর্নি জেনারেল মাদ্রাসাসহ বেতন বঞ্চিত শিক্ষকদের সমস্যার সমাধান শিগগিরই : শিক্ষামন্ত্রী বৃহস্পতিবার শুরু এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শপথ নিতে পারবেন না আসলাম চৌধুরী: আপিল বিভাগ রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ব্রাজিল ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব ভিওন গ্রুপের হরমুজ প্রণালি ঝুঁকিমুক্ত করতে যৌথভাবে মাইন সরাবে ফ্রান্স-ওমান চীনের কাছ থেকে বাংলাদেশ ঋণের আশ্বাস পেয়েছে কি, প্রশ্ন রুমিন ফারহানার

বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত খুঁজে বের করুন: রাষ্ট্রপতি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দেশের শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে হলে বিনিয়োগের নতুন ও সম্ভাবনাময় খাত খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণে বিদেশি বিনিয়োগের একটি চমৎকার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। তিনি এ ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি সরকারের প্রতিও পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার-২০১৬’বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, শিল্পায়নের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে বেসরকারি খাতের বিকাশের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, দেশে বেসরকারি খাত যত বেশি শক্তিশালী হবে, শিল্পায়নের ধারা তত বেশি বেগবান হবে।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ টেকসই ও পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করে বলেন, সরকার দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করছে। এর মাধ্যমে এক কোটি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির লক্ষ্য অর্জনে রপ্তানির পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আবদুল হামিদ বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান ৪০ শতাংশে উন্নীত করা আমাদের লক্ষ্য। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অর্থনৈতিক দর্শন অনুসরণ করে বাংলাদেশ অভীষ্ট লক্ষ্য অজর্নে সক্ষম হবে বলে তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, এ বাস্তবতা বিবেচনা করে সরকার বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দিয়ে আসছে। বিশেষ করে এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের সিঙ্গেল ডিজিট সুদে ঋণ প্রদান এবং এসএমই নারী উদ্যোক্তাদের জামানতবিহীন ঋণ ও অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্লট বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কর রেয়াতসহ বিনিয়োগে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দেয়ায় দেশের শিল্প খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে। বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্রসম্পদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় বিপুল পরিমাণ মৎস্য, সামুদ্রিক, খাদ্য, তেল, গ্যাসসহ প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। এটি দেশে ব্লু-ইকোনমি সম্প্রসারণে ব্যাপক সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টি ও সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনায় দেশের শিল্প খাত সমৃদ্ধ হয়েছে এবং গুণগত পরিবর্তন হয়েছে। মোট জাতীয় উৎপাদনে শিল্প খাতের অবদান ক্রমন্বায়ে বাড়ছে। কর্মসংস্থান, সঞ্চয় ও বিনিয়োগে ইতিবাচক পরিবর্তন সূচিত হয়েছে।

তিনি বলেন, শিল্প খাতে দূরদর্শী ও উদ্যোক্তা-বান্ধব নীতির ফলে দেশে সবুজ শিল্পায়নে ধারা জোরদার হয়েছে। তৈরি পোশাক, চামড়া, ওষুধ, জাহাজ নির্মাণ, বাইসাইকেল, জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া সিরামিক, প্লাস্টিক, ফার্নিচার, ইলেক্ট্রনিকসহ বেশকিছু শিল্প বিশ্বমানে উন্নীত হয়েছে এবং বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি পরে অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে ছয় ক্যাটাগেরিতে ১৩টি শিল্প ইউনিটকে রাষ্ট্রপতি অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী আমীর হোসেন আমু, মন্ত্রনালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ্, পুরস্কার বিজয়ী মনির হোসেন বক্তব্য দেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে হাসানুল হক ইনুকে

বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত খুঁজে বের করুন: রাষ্ট্রপতি

আপডেট সময় ০৭:৩৭:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দেশের শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে হলে বিনিয়োগের নতুন ও সম্ভাবনাময় খাত খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণে বিদেশি বিনিয়োগের একটি চমৎকার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। তিনি এ ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি সরকারের প্রতিও পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার-২০১৬’বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, শিল্পায়নের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে বেসরকারি খাতের বিকাশের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, দেশে বেসরকারি খাত যত বেশি শক্তিশালী হবে, শিল্পায়নের ধারা তত বেশি বেগবান হবে।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ টেকসই ও পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করে বলেন, সরকার দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করছে। এর মাধ্যমে এক কোটি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির লক্ষ্য অর্জনে রপ্তানির পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আবদুল হামিদ বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান ৪০ শতাংশে উন্নীত করা আমাদের লক্ষ্য। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অর্থনৈতিক দর্শন অনুসরণ করে বাংলাদেশ অভীষ্ট লক্ষ্য অজর্নে সক্ষম হবে বলে তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, এ বাস্তবতা বিবেচনা করে সরকার বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দিয়ে আসছে। বিশেষ করে এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের সিঙ্গেল ডিজিট সুদে ঋণ প্রদান এবং এসএমই নারী উদ্যোক্তাদের জামানতবিহীন ঋণ ও অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্লট বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কর রেয়াতসহ বিনিয়োগে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দেয়ায় দেশের শিল্প খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে। বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্রসম্পদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় বিপুল পরিমাণ মৎস্য, সামুদ্রিক, খাদ্য, তেল, গ্যাসসহ প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। এটি দেশে ব্লু-ইকোনমি সম্প্রসারণে ব্যাপক সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টি ও সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনায় দেশের শিল্প খাত সমৃদ্ধ হয়েছে এবং গুণগত পরিবর্তন হয়েছে। মোট জাতীয় উৎপাদনে শিল্প খাতের অবদান ক্রমন্বায়ে বাড়ছে। কর্মসংস্থান, সঞ্চয় ও বিনিয়োগে ইতিবাচক পরিবর্তন সূচিত হয়েছে।

তিনি বলেন, শিল্প খাতে দূরদর্শী ও উদ্যোক্তা-বান্ধব নীতির ফলে দেশে সবুজ শিল্পায়নে ধারা জোরদার হয়েছে। তৈরি পোশাক, চামড়া, ওষুধ, জাহাজ নির্মাণ, বাইসাইকেল, জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া সিরামিক, প্লাস্টিক, ফার্নিচার, ইলেক্ট্রনিকসহ বেশকিছু শিল্প বিশ্বমানে উন্নীত হয়েছে এবং বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি পরে অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে ছয় ক্যাটাগেরিতে ১৩টি শিল্প ইউনিটকে রাষ্ট্রপতি অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী আমীর হোসেন আমু, মন্ত্রনালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ্, পুরস্কার বিজয়ী মনির হোসেন বক্তব্য দেন।