ঢাকা ০৭:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ইন্দোনেশিয়ায় এক পরিবারের সবাই আত্মঘাতী হামলাকারী, ভিডিও

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ইন্দোনেশিয়ার সুরাবায়া শহরে তিনটি গির্জায় চালানো আত্মঘাতী হামলায় কমপক্ষে ১৩ জন মারা গেছে। আহত হয়েছে আরও অনেকে। বালি দ্বীপে ২০০৫ সালের সন্ত্রাসী হামলার পর ইন্দোনেশিয়াতে এটাই এ ধরনের সবচেয়ে বড় হামলা।

তবে এই হামলায় যে বিষয়টি অনেককেই বিস্মিত করছে তা হলো, মাত্র একটি পরিবারের সব সদস্য মিলে সমন্বিতভাবে এই হামলাগুলো চালিয়েছে। দুই বাচ্চাকে নিয়ে মা একটি গির্জায় হামলা চালায়। আর বাবা এবং তিন ছেলে আরও দুটি হামলায় অংশ নেয়।

বলা হচ্ছে, বাবা বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি নিয়ে যান পেন্টেকোস্টাল গির্জার কাছে। তারপর হামলাটি চালানো হয়। পুলিশ বলছে, মায়ের সঙ্গে ছিল তার দুই কন্যা। তাদের বয়স ৯ ও ১২। তারা তাদের শরীরে বোমা বেঁধে আরেকটি গির্জায় গিয়ে নিজেদের উড়িয়ে দেয়।

ছেলেদের বয়স ১৬ এবং ১৮। তারা হামলা চালায় মোটরসাইকেলে করে। ইসলামিক স্টেট (আইএস) এসব হামলায় দায় স্বীকার করেছে। ইন্দোনেশিয়ায় ৯০ শতাংশ জনগণই মুসলিম। তবে সেদেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় হিন্দু, খ্রিস্টান এবং বৌদ্ধ রয়েছে।

সুরাবায়া নামে যে শহরের তিনটি গির্জায় এই আত্মঘাতী হামলা হয়েছে সেটি ইন্দোনেশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। প্রথম হামলাটি হয় স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শহরের সান্তা মারিয়া গির্জায়।

পুলিশ জানিয়েছে, মোটরবাইক ব্যবহার করে ওই হামলা চালানো হয়। দ্বিতীয় হামলাটির লক্ষ্য ছিল পেন্টেকোস্টাল নামে আরেকটি গির্জা।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তৃতীয় গির্জাটিতে হামলা চালিয়েছে বোরকাপরা এক বা একাধিক নারী।

বলা হচ্ছে, শহরের আরো কিছু গির্জায় হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেয়া হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট ইয়োকা উইদোদো আক্রান্ত গির্জাগুলো দেখতে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের নেটওয়ার্ক খুঁজে বরে করে এই সমস্যার মূলোৎপাটনের জন্য তিনি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, সমাজের সব শ্রেণিপেশার মানুষের উচিত সন্ত্রাস এবং কট্টরপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইতে শামিল হওয়া, কারণ ‘এই সন্ত্রাস ধর্মের এবং ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী।’

মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সহনশীল হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার সুনাম রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কট্টর ইসলাম সেখানে মাথাচাড়া দিতে শুরু করেছে। এর আগে ইন্দোনেশিয়ায় বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল ২০০৫ সালে হিন্দু-অধ্যুষিত বালি দ্বীপে। সে সময় মারা গিয়েছিল বিদেশি পর্যটকসহ ২০ জন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ইন্দোনেশিয়ায় এক পরিবারের সবাই আত্মঘাতী হামলাকারী, ভিডিও

আপডেট সময় ১১:০৯:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ মে ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ইন্দোনেশিয়ার সুরাবায়া শহরে তিনটি গির্জায় চালানো আত্মঘাতী হামলায় কমপক্ষে ১৩ জন মারা গেছে। আহত হয়েছে আরও অনেকে। বালি দ্বীপে ২০০৫ সালের সন্ত্রাসী হামলার পর ইন্দোনেশিয়াতে এটাই এ ধরনের সবচেয়ে বড় হামলা।

তবে এই হামলায় যে বিষয়টি অনেককেই বিস্মিত করছে তা হলো, মাত্র একটি পরিবারের সব সদস্য মিলে সমন্বিতভাবে এই হামলাগুলো চালিয়েছে। দুই বাচ্চাকে নিয়ে মা একটি গির্জায় হামলা চালায়। আর বাবা এবং তিন ছেলে আরও দুটি হামলায় অংশ নেয়।

বলা হচ্ছে, বাবা বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি নিয়ে যান পেন্টেকোস্টাল গির্জার কাছে। তারপর হামলাটি চালানো হয়। পুলিশ বলছে, মায়ের সঙ্গে ছিল তার দুই কন্যা। তাদের বয়স ৯ ও ১২। তারা তাদের শরীরে বোমা বেঁধে আরেকটি গির্জায় গিয়ে নিজেদের উড়িয়ে দেয়।

ছেলেদের বয়স ১৬ এবং ১৮। তারা হামলা চালায় মোটরসাইকেলে করে। ইসলামিক স্টেট (আইএস) এসব হামলায় দায় স্বীকার করেছে। ইন্দোনেশিয়ায় ৯০ শতাংশ জনগণই মুসলিম। তবে সেদেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় হিন্দু, খ্রিস্টান এবং বৌদ্ধ রয়েছে।

সুরাবায়া নামে যে শহরের তিনটি গির্জায় এই আত্মঘাতী হামলা হয়েছে সেটি ইন্দোনেশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। প্রথম হামলাটি হয় স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শহরের সান্তা মারিয়া গির্জায়।

পুলিশ জানিয়েছে, মোটরবাইক ব্যবহার করে ওই হামলা চালানো হয়। দ্বিতীয় হামলাটির লক্ষ্য ছিল পেন্টেকোস্টাল নামে আরেকটি গির্জা।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তৃতীয় গির্জাটিতে হামলা চালিয়েছে বোরকাপরা এক বা একাধিক নারী।

বলা হচ্ছে, শহরের আরো কিছু গির্জায় হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেয়া হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট ইয়োকা উইদোদো আক্রান্ত গির্জাগুলো দেখতে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের নেটওয়ার্ক খুঁজে বরে করে এই সমস্যার মূলোৎপাটনের জন্য তিনি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, সমাজের সব শ্রেণিপেশার মানুষের উচিত সন্ত্রাস এবং কট্টরপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইতে শামিল হওয়া, কারণ ‘এই সন্ত্রাস ধর্মের এবং ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী।’

মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সহনশীল হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার সুনাম রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কট্টর ইসলাম সেখানে মাথাচাড়া দিতে শুরু করেছে। এর আগে ইন্দোনেশিয়ায় বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল ২০০৫ সালে হিন্দু-অধ্যুষিত বালি দ্বীপে। সে সময় মারা গিয়েছিল বিদেশি পর্যটকসহ ২০ জন।