ঢাকা ১১:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন দেশ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজ করব : মির্জা আব্বাস ইমান এনে কোনো লাভ নেই, এরা মুনাফিকি করে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে ভোট চাচ্ছে: মির্জা ফখরুল বাড়িভাড়া কত বাড়ানো যাবে, কতদিন পর–নির্ধারণ করে দিল ঢাকা উত্তর সিটি

দুবাই রাজকুমারীকে গুম করা হয়েছে

রাজকুমারী শেখ লতিফা

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ নিখোঁজ রাজকুমারী কোথায় আছেন, তা প্রকাশ করার জন্য দুবাইয়ের শাসকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, কোথায় আছেন তা প্রকাশ না করলে তারা এই ঘটনাকে ‘গুম’ বলেই গণ্য করবে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, রাজকুমারী শেখ লতিফা কোথায় আছেন এবং তার আইনগত অবস্থা কী, সেটা অবশ্যই দুবাই কর্তৃপক্ষের প্রকাশ করা উচিত।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আরও বলেছে, রাজকুমারী কোথায় আছেন এবং কী অবস্থায় আছেন সেটা প্রকাশে ব্যর্থ হলে এটিকে গুম বলেই ধরা হবে। কারণ এমন প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ তাকে আটকে রেখেছে।

দুবাই’র শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুমের কন্যা শেখ লতিফা বিনতে মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুম গত মার্চ থেকে নিখোঁজ রয়েছেন।

গত মার্চে ৩২ বছর বয়সী শেখ লতিফা ইউটিউবে এক ভিডিও পোস্টে জানিয়েছিলেন, তিনি দুবাই থেকে পালাচ্ছেন, কারণ সেখানে তিনি পরিবারের হাতে নানা দুর্ব্যবহারের শিকার এবং তার ওপর নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

ওই ভিডিও পোস্টে শেখ লতিফা জানিয়েছিলেন, তার বাবা হচ্ছেন দুবাইয়ের শাসক মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুম এবং মা আলজিরিয়ান হুরিয়া আহমেদ। তিনি এর আগেও দুবাই থেকে পালানোর চেষ্টা করেছেন।

কিন্তু পরের মাসেই দুবাই সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছিল এই পালিয়ে যাওয়া ‘রাজকুমারী’ দুবাইতে ফিরে

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ একজন সাক্ষীর বরাত দিয়ে বলছে, মার্চের ৪ তারিখে যখন শেখ লতিফা সমুদ্রপথে তৃতীয় একটি দেশে পালাচ্ছিলেন তখন তাকে মাঝপথে আটক করে ফেরত পাঠানো হয়।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি গ্রুপ ‘ডিটেইনড ইন দুবাই’ও রাজকুমারী শেখ লতিফার বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার।

তারা বলছে, শেখ লতিফা যে নৌযানে করে পালাচ্ছিলেন, সেটি ভারত উপকূলের প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে থামানো হয়েছিল। তার সঙ্গে নৌযানে ছিল এক বন্ধু এবং ফিনল্যান্ডের এক নারী।

উল্লেখ্য, এর আগেও খবর বেরিয়েছিল যে, রাজকুমারী লতিফা তার ফিনল্যান্ডের এক বান্ধবী এবং ফরাসি একজন সাবেক গোয়েন্দার সহযোগিতায় একটি ইয়ট বা প্রমোদ তরি ভাড়া করে গোপনে ভারতে রওনা হয়েছিলেন।

তার পরিকল্পনা ছিল, ভারত থেকে তিনি বিমানে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইবেন।

কিন্তু পশ্চিমা মিডিয়া এবং সামাজিকমাধ্যমে খবর হয়, গোয়ার উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতের ন্যাভাল কমান্ডোরা ইয়টটি আটক করে প্রিন্সেস লতিফাসহ অন্য দুজনকে দুবাই কর্তৃপক্ষের আগে তুলে দেয়। ভারতীয় কয়েকটি মিডিয়াতেও এ খবর বের হয়।

ভারত সরকার বা ভারতীয় নৌবাহিনী অবশ্য এ নিয়ে কোনো মুখ খোলেনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুবাই রাজকুমারীকে গুম করা হয়েছে

আপডেট সময় ১১:২৯:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ মে ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ নিখোঁজ রাজকুমারী কোথায় আছেন, তা প্রকাশ করার জন্য দুবাইয়ের শাসকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, কোথায় আছেন তা প্রকাশ না করলে তারা এই ঘটনাকে ‘গুম’ বলেই গণ্য করবে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, রাজকুমারী শেখ লতিফা কোথায় আছেন এবং তার আইনগত অবস্থা কী, সেটা অবশ্যই দুবাই কর্তৃপক্ষের প্রকাশ করা উচিত।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আরও বলেছে, রাজকুমারী কোথায় আছেন এবং কী অবস্থায় আছেন সেটা প্রকাশে ব্যর্থ হলে এটিকে গুম বলেই ধরা হবে। কারণ এমন প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ তাকে আটকে রেখেছে।

দুবাই’র শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুমের কন্যা শেখ লতিফা বিনতে মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুম গত মার্চ থেকে নিখোঁজ রয়েছেন।

গত মার্চে ৩২ বছর বয়সী শেখ লতিফা ইউটিউবে এক ভিডিও পোস্টে জানিয়েছিলেন, তিনি দুবাই থেকে পালাচ্ছেন, কারণ সেখানে তিনি পরিবারের হাতে নানা দুর্ব্যবহারের শিকার এবং তার ওপর নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

ওই ভিডিও পোস্টে শেখ লতিফা জানিয়েছিলেন, তার বাবা হচ্ছেন দুবাইয়ের শাসক মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুম এবং মা আলজিরিয়ান হুরিয়া আহমেদ। তিনি এর আগেও দুবাই থেকে পালানোর চেষ্টা করেছেন।

কিন্তু পরের মাসেই দুবাই সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছিল এই পালিয়ে যাওয়া ‘রাজকুমারী’ দুবাইতে ফিরে

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ একজন সাক্ষীর বরাত দিয়ে বলছে, মার্চের ৪ তারিখে যখন শেখ লতিফা সমুদ্রপথে তৃতীয় একটি দেশে পালাচ্ছিলেন তখন তাকে মাঝপথে আটক করে ফেরত পাঠানো হয়।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি গ্রুপ ‘ডিটেইনড ইন দুবাই’ও রাজকুমারী শেখ লতিফার বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার।

তারা বলছে, শেখ লতিফা যে নৌযানে করে পালাচ্ছিলেন, সেটি ভারত উপকূলের প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে থামানো হয়েছিল। তার সঙ্গে নৌযানে ছিল এক বন্ধু এবং ফিনল্যান্ডের এক নারী।

উল্লেখ্য, এর আগেও খবর বেরিয়েছিল যে, রাজকুমারী লতিফা তার ফিনল্যান্ডের এক বান্ধবী এবং ফরাসি একজন সাবেক গোয়েন্দার সহযোগিতায় একটি ইয়ট বা প্রমোদ তরি ভাড়া করে গোপনে ভারতে রওনা হয়েছিলেন।

তার পরিকল্পনা ছিল, ভারত থেকে তিনি বিমানে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইবেন।

কিন্তু পশ্চিমা মিডিয়া এবং সামাজিকমাধ্যমে খবর হয়, গোয়ার উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতের ন্যাভাল কমান্ডোরা ইয়টটি আটক করে প্রিন্সেস লতিফাসহ অন্য দুজনকে দুবাই কর্তৃপক্ষের আগে তুলে দেয়। ভারতীয় কয়েকটি মিডিয়াতেও এ খবর বের হয়।

ভারত সরকার বা ভারতীয় নৌবাহিনী অবশ্য এ নিয়ে কোনো মুখ খোলেনি।