ঢাকা ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যারা ১৭ বছর দেশের বাইরে ছিল তারাই গুপ্ত: গোলাম পরওয়ার ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রাজপথে নামলে সরকারের পতন ঘটাতে বেশি সময় লাগবে না: ইসহাক সরকার নাটোরে যুবদলের দু’পক্ষে সংঘর্ষ, মোটরসাইকেলে আগুন দোকান ভাঙচুর ধামরাইয়ে ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা এনসিপিতে যোগ দিলেন ইসহাক সরকার, রনি ও কাফি শিবির কি রগকাটা, শিবির কি গুপ্ত: গোলাম পরওয়ার দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: অর্থমন্ত্রী ‘শিক্ষকরা কোনো দলের নেতা নন, রাজনীতি করলে শিক্ষকতা ছেড়ে দিন’:কায়সার কামাল দেশে তেলের সংকট নেই, কিছু মানুষ অনৈতিক ব্যবসা করছে: মির্জা ফখরুল

টাকা ধরিয়ে দিলেই সন্তানের প্রতি দায়িত্ব শেষ হয় না: প্রধানমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অনেক অর্থশালী সন্তানের হাতে একগুচ্ছ টাকা ধরিয়ে দিয়েই পিতা-মাতার দায়িত্ব শেষ করতে চান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এভাবে কিন্তু সন্তান মানুষ করা যায় না। বাবা মাকে খবর রাখতে হবে তার ছেলে-মেয়ে কোথায় যায়।

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে র‌্যাবের ১৪ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে নানা বিষয়ে বলতে গিয়ে জঙ্গিবাদ এবং মাদকে তরুণদের সম্পৃক্ততার কথাও তোলেন প্রধানমন্ত্রী। আর সন্তানদের ওপর নজরদারির বিষয়টিও তোলেন তিনি।

‘আমাদের অনেক অর্থশালী, বিত্তশালী মানুষ আছে, যারা টাকার পেছনে ছুটে বেড়ায়। আর ছেলে মেয়ে কোনও কিছু দাবি করলে হাতে একগুচ্ছ টাকা ধরিয়ে দিয়ে মনে করে সন্তানের প্রতি বিরাট দায়িত্ব পালন করে ফেলল।’

‘কিন্তু সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কী করছে সেদিকে খবর রাখারও তাদের সময় নেই। অর্থ উপার্জনের পথে তারা উন্মাদের মতো ছুটে চলে।’

‘ফলে তাদেরই সন্তান, যাদের চাওয়া পাওয়ার কিছু বাকি নেই, সবই পাচ্ছে, তারপরও তারা সন্ত্রাসের পথে চলে যাচ্ছে। মাদকাসক্ত হচ্ছে, জঙ্গিবাদের পথে চলে যাচ্ছে।’

অভিভাবকদের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সচেতন হওয়ার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।

বলেন, ‘প্রত্যেকটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদেরকেও লক্ষ্য রাখতে হবে কোনো ছেলে মেয়ে যেন কোনো মতে বেশিদিন অনুপস্থিত না থাকে। থাকলে কেন থাকছে, কী কারণে, কোথায় আছে, অসুস্থ কি না, সে খবরটা প্রত্যেকটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে। যাতে করে ছেলে মেয়ে জঙ্গি, সন্ত্রাস, মাদকাসক্ত না হয়, এই বিষয়েও সচেতনতা সৃষ্টি করা একান্ত দরকার।’

‘কোনো পরিবারে যদি মাদকাসক্ত সন্তান থাকে, তাহলে সে পরিবারের কাছে এর থেকে বড় দুঃখের কিন্তু আর কিছু হতে পারে না। কাজেই এর থেকে যেন আমাদের ছেলে মেয়েরা দূরে থাকে, তার ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে নিতে হবে।’

অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব সময় প্রতিরোধ গড়ার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ন্যায় ও সত্যকে সব সময় গুরুত্ব দিতে হবে।’

সরকারও কখনও অন্যায় মেনে নেয় না জানিয়ে শেখ হাসিনা পদ্মাসেতু প্রকল্প নিয়ে বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতি চেষ্টার অভিযোগের প্রসঙ্গ তোলেন। ২০১০ সালে এই সেতুর অর্থায়ন নিয়ে নানা টাকাপড়েন হলেও পরে কানাডা আদালত এই অভিযোগকে ‘গালগপ্প’ বলে উড়িয়ে দেয়। বিচারক বলেন, উড়ো কথার ভিত্তিতে এই অভিযোগ তুলেছিল বিশ্বব্যাংক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেবে, আমরা সেটা করতে রাজি না। সে কারণে আমরা নিজের অর্থায়নে পদ্মাসেতু করে সারা বিশ্বকে দেখালাম, না আমরা নিজেরা পারি, সে সক্ষমতা আমরা অর্জন করেছি।’

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার ঋণকে আগে অনুদান হিসেবে উল্লেখ করা হতো জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি একে অনুদান হিসেবে দেখি না। তারা আমাদের উন্নয়ন সহযোগী। আমরা টাকা ধার নেই, সুদসহ ফেরত দেই। তাহলে অনুদান হবে কেন?’

র‌্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাহিনীটির নানা কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং মাদকের বিরুদ্ধে জঙ্গিবিরোধী অভিযানের মতো কঠোর অভিযানের নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা।

জঙ্গি ও মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ার তাগিদও দেন প্রধানমন্ত্রী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

টাকা ধরিয়ে দিলেই সন্তানের প্রতি দায়িত্ব শেষ হয় না: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৪:৪৭:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অনেক অর্থশালী সন্তানের হাতে একগুচ্ছ টাকা ধরিয়ে দিয়েই পিতা-মাতার দায়িত্ব শেষ করতে চান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এভাবে কিন্তু সন্তান মানুষ করা যায় না। বাবা মাকে খবর রাখতে হবে তার ছেলে-মেয়ে কোথায় যায়।

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে র‌্যাবের ১৪ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে নানা বিষয়ে বলতে গিয়ে জঙ্গিবাদ এবং মাদকে তরুণদের সম্পৃক্ততার কথাও তোলেন প্রধানমন্ত্রী। আর সন্তানদের ওপর নজরদারির বিষয়টিও তোলেন তিনি।

‘আমাদের অনেক অর্থশালী, বিত্তশালী মানুষ আছে, যারা টাকার পেছনে ছুটে বেড়ায়। আর ছেলে মেয়ে কোনও কিছু দাবি করলে হাতে একগুচ্ছ টাকা ধরিয়ে দিয়ে মনে করে সন্তানের প্রতি বিরাট দায়িত্ব পালন করে ফেলল।’

‘কিন্তু সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কী করছে সেদিকে খবর রাখারও তাদের সময় নেই। অর্থ উপার্জনের পথে তারা উন্মাদের মতো ছুটে চলে।’

‘ফলে তাদেরই সন্তান, যাদের চাওয়া পাওয়ার কিছু বাকি নেই, সবই পাচ্ছে, তারপরও তারা সন্ত্রাসের পথে চলে যাচ্ছে। মাদকাসক্ত হচ্ছে, জঙ্গিবাদের পথে চলে যাচ্ছে।’

অভিভাবকদের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সচেতন হওয়ার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।

বলেন, ‘প্রত্যেকটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদেরকেও লক্ষ্য রাখতে হবে কোনো ছেলে মেয়ে যেন কোনো মতে বেশিদিন অনুপস্থিত না থাকে। থাকলে কেন থাকছে, কী কারণে, কোথায় আছে, অসুস্থ কি না, সে খবরটা প্রত্যেকটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে। যাতে করে ছেলে মেয়ে জঙ্গি, সন্ত্রাস, মাদকাসক্ত না হয়, এই বিষয়েও সচেতনতা সৃষ্টি করা একান্ত দরকার।’

‘কোনো পরিবারে যদি মাদকাসক্ত সন্তান থাকে, তাহলে সে পরিবারের কাছে এর থেকে বড় দুঃখের কিন্তু আর কিছু হতে পারে না। কাজেই এর থেকে যেন আমাদের ছেলে মেয়েরা দূরে থাকে, তার ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে নিতে হবে।’

অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব সময় প্রতিরোধ গড়ার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ন্যায় ও সত্যকে সব সময় গুরুত্ব দিতে হবে।’

সরকারও কখনও অন্যায় মেনে নেয় না জানিয়ে শেখ হাসিনা পদ্মাসেতু প্রকল্প নিয়ে বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতি চেষ্টার অভিযোগের প্রসঙ্গ তোলেন। ২০১০ সালে এই সেতুর অর্থায়ন নিয়ে নানা টাকাপড়েন হলেও পরে কানাডা আদালত এই অভিযোগকে ‘গালগপ্প’ বলে উড়িয়ে দেয়। বিচারক বলেন, উড়ো কথার ভিত্তিতে এই অভিযোগ তুলেছিল বিশ্বব্যাংক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেবে, আমরা সেটা করতে রাজি না। সে কারণে আমরা নিজের অর্থায়নে পদ্মাসেতু করে সারা বিশ্বকে দেখালাম, না আমরা নিজেরা পারি, সে সক্ষমতা আমরা অর্জন করেছি।’

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার ঋণকে আগে অনুদান হিসেবে উল্লেখ করা হতো জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি একে অনুদান হিসেবে দেখি না। তারা আমাদের উন্নয়ন সহযোগী। আমরা টাকা ধার নেই, সুদসহ ফেরত দেই। তাহলে অনুদান হবে কেন?’

র‌্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাহিনীটির নানা কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং মাদকের বিরুদ্ধে জঙ্গিবিরোধী অভিযানের মতো কঠোর অভিযানের নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা।

জঙ্গি ও মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ার তাগিদও দেন প্রধানমন্ত্রী।