অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার স্বীকার করেছেন তাদের দলের বর্তমান মেয়র এই মহানগরে আশানুরুপ কাজ করতে পারেননি। তবে এজন্য সরকারের হস্তক্ষেপকে দায়ী করেছেন মান্নানের বদলে প্রার্থী করা বিএনপি নেতা।
সোমবার বেসরকারি সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন আয়োজিত ‘জনগণের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এক ভোটারের প্রশ্নে এ কথা বলেন হাসান। জেলা শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে হয় এই অনুষ্ঠান।
আগামী ১৫ মের ভোটকে সামনে রেখে নগরীতে মেয়র পদে লড়াই করা সাত প্রার্থীই যোগ দেন এই অনুষ্ঠানে। তাদেরকে ভোটাররা তিনটি করে প্রশ্ন রাখেন আর তারা এর জবাব দেন।
২০১৩ সালের মেয়র নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আজমত উল্লাহ খানকে দেড় লাখেরও বেশি ভোট হারিয়েছিলেন বিএনপি সমর্থিত এম এ মান্নান। এবার দলীয় প্রতীকে প্রথম নির্বাচনে মান্নানের বদলে হাসানকে ধানের শীষ দিয়েছে বিএনপি। তার এবার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলম।
মান্নান তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে তেমন কাজ করতে পারেননি বলে সমালোচনা আছে। আর এ জন্য অবশ্য বিএনপি দায়ী করে থাকে তার বিরুদ্ধে করা নাশকতার মামলা, বারবার বরখাস্ত করা এবং দুই বছরেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালন করতে না পারাকে।
হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, ‘স্থানীয় সরকারে উপর কেন্দ্রীয় সরকার হস্তক্ষেপ করলে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। বর্তমান মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নানকে বিভিন্ন সময়ে কারাগারে রাখা হয়েছে। তাই ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও তিনি আশানুযায়ী উন্নয়ন করতে পারেননি।’
নিজে নির্বাচিত হলে কী করবেন তারও বর্ণনা দেন হাসান। বলেন, ‘গাজীপুর একটি শিল্পসমৃদ্ধ শ্রমিক এলাকা। গাজীপুর সিটিকে উন্নয়ন করতে হলে পরিকল্পিতভাবে প্ল্যানমাফিক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাউন্সিলরদের সহযোগিতা নিয়ে আমি উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করব।’
স্থানীয় উন্নয়নে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ‘১৯৭৪ সনে টঙ্গী পৌর সভার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলাম। সে সময়ে আমি আন্তরিকভাবে পৌরসভার উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করেছি।’

অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে দেয়া ১৩ দফা অঙ্গীকার নামা দর্শকদের সামনে পড়ে শোনান সুজনের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মুর্শিকুলী আহমদ শিমুল। পরে প্রার্থীরা অঙ্গীকারনামায় সই করেন। এরপর প্রার্থীরা দর্শকদের সরাসরি প্রশ্নের জবাব দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান দুই দলের প্রার্থীর প্রশ্নোত্তর পর্ব দেখতে অনুষ্ঠানেস্থলে ব্যাপক লোক সমাগম হয়।
আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলম এক প্রশ্নে জানান, তিনি চীন ও জাপানের সহায়তায় নগরীর ৫৭টি ওয়ার্ডের প্রতিটির জন্য আলাদা মহাপরিকল্পনা করেছেন। মেয়র নির্বাচিত হলে সেগুলো বাস্তবায়নে কাজ করবেন।
অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী ঐক্যজোটের ফজলুর রহমান বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব নয়। তাই তিনি নির্বাচিত হলে বর্তমান শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামী শিক্ষা সংযোজন করবেন।
ইসলামী ফ্রন্টের জালাল উদ্দিন বলেন, আধুনিক ও কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ ও তথ্য প্রযুক্তির নগরী গড়তে আইটি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেবেন। পাশাপাশি যুব সমাজকে মাদকের কবল থেকে রক্ষা করতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুলিশ, প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে একত্রে কাজ করবেন।
ইসলামী আন্দোলনের নাসির উদ্দিন বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে নগরীর গ্যাস সমস্যা সমাধানে উদ্যোগে নেবেন। মাদক উদ্ধারের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি বন্ধে পদক্ষেপ নেবেন, জঙ্গিবাদ রুখবেন।
কমিউনিস্ট পার্টির রুহুর আমীন বলেন, তিনি যানজটমুক্ত, পরিচ্ছন্ন আধুনিক শহর গড়ে তুলবেন। শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও তাদের সুযোগ সুবিধাবৃদ্ধিসহ তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদ আহমদ বলেন, যানজট নিরসন ও নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে সিটি করপোরেশনের সব সড়ক দ্বিগুণ চওড়া ও পর্যাপ্ত নতুন রাস্তা তৈরি করবেন। তিনি দুর্নীতি করবেন না।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুজনের গাজীপুর মহানগর শাখার সভাপতি মনিরুল ইসলাম রাজিব। সুজনের কেন্দ্রীয় সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার এটি সঞ্চালনা করেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















