ঢাকা ০৫:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ট্রাম্প-ম্যাকরনের লাগানো ঐতিহাসিক গাছটি উধাও

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্যে একটি উপহার নিয়ে গিয়েছিলেন। সেই উপহারটি ছিল একটি গাছের চারা। তারপর সেটি লাগানো হয়েছিল হোয়াইট হাউসের সামনের লনে।

ট্রাম্প এবং ম্যাকরন দু’জনেই খুব ঘটা করে গাছটি লাগিয়েছিলেন। সেসময় তাদের স্ত্রীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু লাগানোর ক’দিন পরেই গাছের চারাটি সেখান থেকে উধাও হয়ে গেছে।

এই গাছটি জন্মেছিল উত্তর-পূর্ব ফ্রান্সের এমন একটি জায়গায় যেখানে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের একটি লড়াই হয়েছিল। ফরাসী প্রেসিডেন্ট ম্যাকরন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মধ্যে যে গভীর সম্পর্ক সেটি মনে করিয়ে দিতেই তিনি এই গাছের চারাটিকে উপহার হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।

ম্যাকরন তার এক টুইট বার্তায় লিখেন, ‘১০০ বছর আগে, মার্কিন সৈন্যরা ফ্রান্সের বিলুতে যুদ্ধ করেছিল আমাদের স্বাধীনতাকে রক্ষা করার জন্যে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যে উপহার হিসেবে নিয়ে যাওয়া আমার এই ওক গাছটি হোয়াইট হাউসে আমাদের সম্পর্কের একটি স্মৃতি হয়ে থাকবে।’

কিন্তু বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একজন ফটোগ্রাফার শনিবার যে জায়গাটিতে গাছের চারাটি লাগানো হয়েছিলো সেখানকার একটি ছবি তুলেছেন। দেখা যাচ্ছে গাছটি সেখান থেকে উধাও। সেখানে শুধু এক চিলতে হলুদ ঘাস দেখা যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ফরাসী রাষ্ট্রদূত পরে টুইট করে বলেছেন, রোগসংক্রমণ প্রতিরোধকল্পে গাছের চারাটিকে আলাদা করে রাখা হয়েছে।

গাছটি ইউরোপীয় সেসিল ওক। ব্যাটল অব বিলু উডে তার জন্ম। সেখানে ১৯১৮ সালে বড় রকমের একটি যুদ্ধ হয়েছিল। প্যারিসের উত্তর-পূবে এই বিলুর যুদ্ধে নিহত হয়েছিল প্রায় ২,০০০ আমেরিকান সৈন্য।

সেখান থেকে গাছটিকে নিয়ে যাওয়া হয় আমেরিকায়। লাগানো হয় মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও দপ্তর হোয়াইট হাউসের সবুজ বাগানে। লাগিয়েছিলেন খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট ম্যাকরন। কিন্তু লাগানোর চারদিন পরই গাছটি সেখান থেকে নেই হয়ে গেছে।

গাছের চারাটিকে ঘিরে এই যে রহস্য সে ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোন ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি এখনও। কিন্তু চারাটি উধাও হয়ে যাওয়ার পর থেকে অনলাইনে তা নিয়ে নানা রকম জল্পন-কল্পনা শুরু হয়ে যায়।

বাগান করা সংক্রান্ত একটি ওয়েবসাইটকে উদ্ধৃত করে ফরাসী একটি রেডিও নেটওয়ার্ক বলছে, ওক গাছ লাগানোর সবচেয়ে ভালো সময় অটাম (হেমন্ত) এর ফলে গাছটির শেকড় মাটির খুব গভীরে যেতে পারে। ফলে পরের গ্রীষ্মে যে পানির অভাব হয় সেটি সে মোকাবেলা করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে ফরাসী রাষ্ট্রদূত বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে যখন কোন গাছপালা কিম্বা প্রাণী নিয়ে যাওয়া হয় তখন সেটিকে আলাদা করে রাখা বাধ্যতামূলক। গাছটিকে পরে আবার লাগানো হবে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, গাছের শেকড়গুলো প্লাস্টিক দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ও সীমান্ত রক্ষা ওয়েবসাইট বলছে, বিদেশি কোন গাছ নিয়ে আসতে হলে সেটি আগেই পরীক্ষা করে দেখতে হয়।

এই খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে সোশাল মিডিয়াতে অনেকেই এই রহস্য নিয়ে কথাবার্তা বলতে শুরু করেন। এটি পরিণত হয় ইন্টারনেট সেনসেশনে। শাবল হাতে দুই প্রেসিডেন্টের ছবিও ভাইরাল হয়ে পড়ে।

অনেকেই আশা করছেন যে গাছটি হয়তো আগামী অক্টোবর মাসে আবার হোয়াইট হাউজের বাগানে ফিরে আসতে পারে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ট্রাম্প-ম্যাকরনের লাগানো ঐতিহাসিক গাছটি উধাও

আপডেট সময় ০৬:২৪:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্যে একটি উপহার নিয়ে গিয়েছিলেন। সেই উপহারটি ছিল একটি গাছের চারা। তারপর সেটি লাগানো হয়েছিল হোয়াইট হাউসের সামনের লনে।

ট্রাম্প এবং ম্যাকরন দু’জনেই খুব ঘটা করে গাছটি লাগিয়েছিলেন। সেসময় তাদের স্ত্রীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু লাগানোর ক’দিন পরেই গাছের চারাটি সেখান থেকে উধাও হয়ে গেছে।

এই গাছটি জন্মেছিল উত্তর-পূর্ব ফ্রান্সের এমন একটি জায়গায় যেখানে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের একটি লড়াই হয়েছিল। ফরাসী প্রেসিডেন্ট ম্যাকরন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মধ্যে যে গভীর সম্পর্ক সেটি মনে করিয়ে দিতেই তিনি এই গাছের চারাটিকে উপহার হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।

ম্যাকরন তার এক টুইট বার্তায় লিখেন, ‘১০০ বছর আগে, মার্কিন সৈন্যরা ফ্রান্সের বিলুতে যুদ্ধ করেছিল আমাদের স্বাধীনতাকে রক্ষা করার জন্যে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যে উপহার হিসেবে নিয়ে যাওয়া আমার এই ওক গাছটি হোয়াইট হাউসে আমাদের সম্পর্কের একটি স্মৃতি হয়ে থাকবে।’

কিন্তু বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একজন ফটোগ্রাফার শনিবার যে জায়গাটিতে গাছের চারাটি লাগানো হয়েছিলো সেখানকার একটি ছবি তুলেছেন। দেখা যাচ্ছে গাছটি সেখান থেকে উধাও। সেখানে শুধু এক চিলতে হলুদ ঘাস দেখা যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ফরাসী রাষ্ট্রদূত পরে টুইট করে বলেছেন, রোগসংক্রমণ প্রতিরোধকল্পে গাছের চারাটিকে আলাদা করে রাখা হয়েছে।

গাছটি ইউরোপীয় সেসিল ওক। ব্যাটল অব বিলু উডে তার জন্ম। সেখানে ১৯১৮ সালে বড় রকমের একটি যুদ্ধ হয়েছিল। প্যারিসের উত্তর-পূবে এই বিলুর যুদ্ধে নিহত হয়েছিল প্রায় ২,০০০ আমেরিকান সৈন্য।

সেখান থেকে গাছটিকে নিয়ে যাওয়া হয় আমেরিকায়। লাগানো হয় মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও দপ্তর হোয়াইট হাউসের সবুজ বাগানে। লাগিয়েছিলেন খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট ম্যাকরন। কিন্তু লাগানোর চারদিন পরই গাছটি সেখান থেকে নেই হয়ে গেছে।

গাছের চারাটিকে ঘিরে এই যে রহস্য সে ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোন ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি এখনও। কিন্তু চারাটি উধাও হয়ে যাওয়ার পর থেকে অনলাইনে তা নিয়ে নানা রকম জল্পন-কল্পনা শুরু হয়ে যায়।

বাগান করা সংক্রান্ত একটি ওয়েবসাইটকে উদ্ধৃত করে ফরাসী একটি রেডিও নেটওয়ার্ক বলছে, ওক গাছ লাগানোর সবচেয়ে ভালো সময় অটাম (হেমন্ত) এর ফলে গাছটির শেকড় মাটির খুব গভীরে যেতে পারে। ফলে পরের গ্রীষ্মে যে পানির অভাব হয় সেটি সে মোকাবেলা করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে ফরাসী রাষ্ট্রদূত বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে যখন কোন গাছপালা কিম্বা প্রাণী নিয়ে যাওয়া হয় তখন সেটিকে আলাদা করে রাখা বাধ্যতামূলক। গাছটিকে পরে আবার লাগানো হবে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, গাছের শেকড়গুলো প্লাস্টিক দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ও সীমান্ত রক্ষা ওয়েবসাইট বলছে, বিদেশি কোন গাছ নিয়ে আসতে হলে সেটি আগেই পরীক্ষা করে দেখতে হয়।

এই খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে সোশাল মিডিয়াতে অনেকেই এই রহস্য নিয়ে কথাবার্তা বলতে শুরু করেন। এটি পরিণত হয় ইন্টারনেট সেনসেশনে। শাবল হাতে দুই প্রেসিডেন্টের ছবিও ভাইরাল হয়ে পড়ে।

অনেকেই আশা করছেন যে গাছটি হয়তো আগামী অক্টোবর মাসে আবার হোয়াইট হাউজের বাগানে ফিরে আসতে পারে।