ঢাকা ০১:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড নির্বাচনে নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সশস্ত্র বাহিনীকে নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার ‘লাইলাতুল গুজব’ শেষে বিসিবিতেই দেখা গেল বুলবুলকে ঢাকা-১৮ আসনে এনসিপি প্রার্থীর ওপর বিএনপির হামলার অভিযোগ বিএনপি সব সময় নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে : রিজভী জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় বিএনপি জানে : তারেক রহমান গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে: সিইসি গাজীপুরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ২৪ লাখ টাকা ছিনতাই ডাকসু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য জামায়াত নেতার, বিক্ষোভে উত্তাল ঢাবি

লন্ডনে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হলেন হাসিনা-মোদি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২৫তম কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলন (সিএইচওজিএম)-এর সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে কথা বলেন দুই নেতা।

এ বৈঠকের মধ্য দিয়ে প্রায় এক বছর পর দুই নেতা মিলিত হলেন। সর্বশেষ গত বছরের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে মোদি’র সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই আবারও তার ভারত সফরের কথা রয়েছে।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রতিবেশীই প্রথম! প্রতিবেশী একটি ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গঠনমূলক মতবিনিময় করেছেন। কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলন ২০১৮-এর সাইডলাইনে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এই বহুজাতিক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়া ৫৩ সরকারপ্রধানের একজন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এর সাইডলাইনে হাসিনা-মোদি’র বৈঠক দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ।

দুই নেতার বৈঠকের বিষয়ে অবগত একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই নেতার মধ্যে বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অন্যান্য আঞ্চলিক ইস্যুগুলোও রয়েছে।

এ বৈঠকের পর শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরের বিষয়টি আরও এগিয়ে আনার সম্ভাবনার বিষয়টিও চূড়ান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত সফরে ১৩০ কিলোমিটারের একটি পাইপলাইন তৈরির ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রতিবছর ভারত থেকে বাংলাদেশে ১০ লাখ টন তেল পরিবহনের সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্যে ওই চুক্তিতে উপনীত হয় বাংলাদেশ ও ভারত।

যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় বাকিংহাম প্যালেসে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী কমনওয়েলথ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। সম্মেলনে ৫৩টি দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে শেখ হাসিনার উপস্থিতি নজর কেড়েছে।

শীর্ষ সম্মেলন শুরুর আগে ‘কমনওয়েলথ’স রোল ইন প্রমোটিং ট্রেড, ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন’ শীর্ষক এক বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি আন্তঃকমনওয়েলথ ব্যবসা, বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনার উন্নয়নের জন্য সাত দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন। বাণিজ্য প্রশাসনকে আরও উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ করে তুলতে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা অবশ্যই বাণিজ্য প্রশাসন উন্মুক্ত, আইনভিত্তিক, স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করবো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তঃকমনওয়েলথ বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনার লক্ষ্যে দেশগুলোকে অবশ্যই অভিন্ন সুযোগ-সুবিধা জোরদার করতে হবে।

এবার কমনওয়েলথ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘সাধারণ ভবিষ্যতের দিকে’ (টুয়ার্ডস কমন ফিউটার)। এতে বিশেষ মনোযোগ থাকবে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর জন্য উন্নতি, নিরাপত্তা, ন্যায্যতা এবং স্থায়িত্ব অর্জনে।

নিয়ম অনুযায়ী, সিএইচওজিএম বৈঠকের আয়োজক দেশই এর সভাপতিত্ব করে। সম্মেলনে আয়োজক দেশের কাছে কমনওয়েলথ’র সভাপতিত্ব স্থানান্তর করা হবে। মাল্টার প্রধানমন্ত্রী ড. জোসেপ মাসকাটের কাছ থেকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র কাছে এই সভাপতিত্ব স্থানান্তর হবে এবং ২০২০ সালে ২৬তম সিএইচওজিএম বৈঠক পর্যন্ত তিনি এ পদে থাকবেন।

২৫তম সিএইচওজিএম বৈঠকটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ রাষ্ট্র ভানুয়াটুতে ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও দ্বীপ রাষ্ট্রটি ঘূর্ণিঝড় পাম আক্রান্ত হওয়ায় এটি পরে ব্রিটেনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়।

প্রথম সিএইচওজিএম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭১ সালে এবং এ পর্যন্ত এর ২৪টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ বৈঠকটি হয় মাল্টার ভ্যালেটাতে। সাধারণত প্রতি দুই বছর অন্তর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যাদের বাড়ি ভাড়া না হবে, তারা হজ করতে পারবে না

লন্ডনে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হলেন হাসিনা-মোদি

আপডেট সময় ১১:৫৬:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২৫তম কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলন (সিএইচওজিএম)-এর সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে কথা বলেন দুই নেতা।

এ বৈঠকের মধ্য দিয়ে প্রায় এক বছর পর দুই নেতা মিলিত হলেন। সর্বশেষ গত বছরের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে মোদি’র সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই আবারও তার ভারত সফরের কথা রয়েছে।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রতিবেশীই প্রথম! প্রতিবেশী একটি ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গঠনমূলক মতবিনিময় করেছেন। কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলন ২০১৮-এর সাইডলাইনে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এই বহুজাতিক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়া ৫৩ সরকারপ্রধানের একজন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এর সাইডলাইনে হাসিনা-মোদি’র বৈঠক দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ।

দুই নেতার বৈঠকের বিষয়ে অবগত একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই নেতার মধ্যে বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অন্যান্য আঞ্চলিক ইস্যুগুলোও রয়েছে।

এ বৈঠকের পর শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরের বিষয়টি আরও এগিয়ে আনার সম্ভাবনার বিষয়টিও চূড়ান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত সফরে ১৩০ কিলোমিটারের একটি পাইপলাইন তৈরির ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রতিবছর ভারত থেকে বাংলাদেশে ১০ লাখ টন তেল পরিবহনের সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্যে ওই চুক্তিতে উপনীত হয় বাংলাদেশ ও ভারত।

যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় বাকিংহাম প্যালেসে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী কমনওয়েলথ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। সম্মেলনে ৫৩টি দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে শেখ হাসিনার উপস্থিতি নজর কেড়েছে।

শীর্ষ সম্মেলন শুরুর আগে ‘কমনওয়েলথ’স রোল ইন প্রমোটিং ট্রেড, ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন’ শীর্ষক এক বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি আন্তঃকমনওয়েলথ ব্যবসা, বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনার উন্নয়নের জন্য সাত দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন। বাণিজ্য প্রশাসনকে আরও উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ করে তুলতে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা অবশ্যই বাণিজ্য প্রশাসন উন্মুক্ত, আইনভিত্তিক, স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করবো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তঃকমনওয়েলথ বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনার লক্ষ্যে দেশগুলোকে অবশ্যই অভিন্ন সুযোগ-সুবিধা জোরদার করতে হবে।

এবার কমনওয়েলথ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘সাধারণ ভবিষ্যতের দিকে’ (টুয়ার্ডস কমন ফিউটার)। এতে বিশেষ মনোযোগ থাকবে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর জন্য উন্নতি, নিরাপত্তা, ন্যায্যতা এবং স্থায়িত্ব অর্জনে।

নিয়ম অনুযায়ী, সিএইচওজিএম বৈঠকের আয়োজক দেশই এর সভাপতিত্ব করে। সম্মেলনে আয়োজক দেশের কাছে কমনওয়েলথ’র সভাপতিত্ব স্থানান্তর করা হবে। মাল্টার প্রধানমন্ত্রী ড. জোসেপ মাসকাটের কাছ থেকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র কাছে এই সভাপতিত্ব স্থানান্তর হবে এবং ২০২০ সালে ২৬তম সিএইচওজিএম বৈঠক পর্যন্ত তিনি এ পদে থাকবেন।

২৫তম সিএইচওজিএম বৈঠকটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ রাষ্ট্র ভানুয়াটুতে ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও দ্বীপ রাষ্ট্রটি ঘূর্ণিঝড় পাম আক্রান্ত হওয়ায় এটি পরে ব্রিটেনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়।

প্রথম সিএইচওজিএম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭১ সালে এবং এ পর্যন্ত এর ২৪টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ বৈঠকটি হয় মাল্টার ভ্যালেটাতে। সাধারণত প্রতি দুই বছর অন্তর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।