ঢাকা ০১:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড নির্বাচনে নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সশস্ত্র বাহিনীকে নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার ‘লাইলাতুল গুজব’ শেষে বিসিবিতেই দেখা গেল বুলবুলকে ঢাকা-১৮ আসনে এনসিপি প্রার্থীর ওপর বিএনপির হামলার অভিযোগ বিএনপি সব সময় নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে : রিজভী জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় বিএনপি জানে : তারেক রহমান গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে: সিইসি গাজীপুরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ২৪ লাখ টাকা ছিনতাই ডাকসু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য জামায়াত নেতার, বিক্ষোভে উত্তাল ঢাবি

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কাজ করে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: ব্রাউনব্যাক

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের ‍মুখে দেশটি থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা সফরে আসা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ দূত স্যাম ব্রাউনব্যাক।

বৃহস্পতিবার ঢাকাস্থ আমেরিকান সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট।

স্যাম ব্রাউনব্যাক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ ভূমিতে প্রত্যাবাসনে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে। এ ছাড়া ওরা যেন ওখানে গিয়ে নিরাপদে বসবাস করতে পারে সে দিকটি নিয়েও কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র।’

রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সরকারের নির্যাতনকে জাতিগত নিধন উল্লেখ করে ট্রাম্পের এই দূত বলেন, ‘পৃথিবীতে অন্য যেকোনো ভয়াবহ সমস্যাগুলোর মধ্যে রোহিঙ্গা সংকট একটি। এটা রীতিমতো জাতিগত নিধন। এজন্যই যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের বিষয়ে বেশকিছু নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর আরও কিছু নতুন নিষেধাজ্ঞা দেবে।’

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকেই এগিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেন ব্রাউনব্যাক। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার সরকারকে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে। লুণ্ঠিত বাড়ি-ঘর, ধন-সম্পদ ফিরিয়ে দিতে হবে। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’

‘এসব সুবিধা দেওয়া হলে রোহিঙ্গারা স্বদিচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরে যাবে।’ মিয়ানমার সেনাবাহিনী পরিকল্পিতভাবেই রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে বলে মনে করেন ট্রাম্পের এই বিশেষ দূত।

এর আগে বুধবার বাংলাদেশ সফরে এসে ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ দূত স্যাম ব্রাউনব্যাক কক্সবাজারের উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। সেখানে রোহিঙ্গাদের মুখেই তাদের ওপর মিয়ানমার সরকারের নির্যাতনের কথা শুনেন। সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী উইন মিয়াত আয়ে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। তবে কবে ফেরত নেওয়া হবে সে বিষয়ে তিনি কিছুই বলেননি।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রথমবারের মতো মিয়ানমারের কাছে আট হাজার ৩২ রোহিঙ্গার তালিকা হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ। এই তালিকা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ যাচাইয়ের পরই প্রত্যাবাসন শুরু হবে। তবে কোন তারিখ থেকে ফেরত পাঠানো শুরু হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার পর সেনা অভিযানের মুখে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নাগরিক। এদেরকে ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে ফিজিক্যাল অ্যারাঞ্জমেন্ট চু্ক্তি হয়েছে জানুয়ারিতে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যাদের বাড়ি ভাড়া না হবে, তারা হজ করতে পারবে না

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কাজ করে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: ব্রাউনব্যাক

আপডেট সময় ১১:৩৬:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের ‍মুখে দেশটি থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা সফরে আসা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ দূত স্যাম ব্রাউনব্যাক।

বৃহস্পতিবার ঢাকাস্থ আমেরিকান সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট।

স্যাম ব্রাউনব্যাক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ ভূমিতে প্রত্যাবাসনে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে। এ ছাড়া ওরা যেন ওখানে গিয়ে নিরাপদে বসবাস করতে পারে সে দিকটি নিয়েও কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র।’

রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সরকারের নির্যাতনকে জাতিগত নিধন উল্লেখ করে ট্রাম্পের এই দূত বলেন, ‘পৃথিবীতে অন্য যেকোনো ভয়াবহ সমস্যাগুলোর মধ্যে রোহিঙ্গা সংকট একটি। এটা রীতিমতো জাতিগত নিধন। এজন্যই যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের বিষয়ে বেশকিছু নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর আরও কিছু নতুন নিষেধাজ্ঞা দেবে।’

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকেই এগিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেন ব্রাউনব্যাক। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার সরকারকে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে। লুণ্ঠিত বাড়ি-ঘর, ধন-সম্পদ ফিরিয়ে দিতে হবে। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’

‘এসব সুবিধা দেওয়া হলে রোহিঙ্গারা স্বদিচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরে যাবে।’ মিয়ানমার সেনাবাহিনী পরিকল্পিতভাবেই রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে বলে মনে করেন ট্রাম্পের এই বিশেষ দূত।

এর আগে বুধবার বাংলাদেশ সফরে এসে ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ দূত স্যাম ব্রাউনব্যাক কক্সবাজারের উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। সেখানে রোহিঙ্গাদের মুখেই তাদের ওপর মিয়ানমার সরকারের নির্যাতনের কথা শুনেন। সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী উইন মিয়াত আয়ে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। তবে কবে ফেরত নেওয়া হবে সে বিষয়ে তিনি কিছুই বলেননি।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রথমবারের মতো মিয়ানমারের কাছে আট হাজার ৩২ রোহিঙ্গার তালিকা হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ। এই তালিকা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ যাচাইয়ের পরই প্রত্যাবাসন শুরু হবে। তবে কোন তারিখ থেকে ফেরত পাঠানো শুরু হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার পর সেনা অভিযানের মুখে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নাগরিক। এদেরকে ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে ফিজিক্যাল অ্যারাঞ্জমেন্ট চু্ক্তি হয়েছে জানুয়ারিতে।