ঢাকা ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ইবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সায়েমুজ্জামান খান সায়েম (২০) নামে এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যার করেছে।

নিহত ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ক্যাম্পাসের পাশে শেখপাড়া বাজার সংলগ্ন ‘মা মঞ্জিল’ নামে পাঁচতলা বিশিষ্ট ভবনের নিচ তলার কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

সায়েম ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের আজিয়া গ্রামের আজম খানের ছেলে বলে জানা গেছে।

ভবনের মালিক রবিউল ইসলাম জানান, ভবনের নিচতলার ওই কক্ষে একাই ভাড়া থাকত সায়েম। দুপুরে তার সঙ্গে ভবন মালিকের শেষ কথা হয়। বিকেলে সায়েসকে তার আত্মীয় সম্পর্কীয় মামা খোঁজ করতে ওই ভবনে আসেন।

এসময় সায়েমের কক্ষের দরজা ভিতর থেকে আটকানো দেখে তিনি ঘুমিয়েছেন ভেবে ডাকাডাকি না করেই ভবন মালিকের সঙ্গে কথা বলে চলে যান।

এদিকে রাত হয়ে গেলেও সায়েমকে দরজা খুলতে না দেখে সন্দেহ হয়। এসময় কক্ষের দরজার নিচ দিয়ে সায়েমের পা মেঝেতে ঝুলে থাকতে দেখা যায়। এঘটনা শৈলকুপা থানায় জানানো হয়। রাত সাড়ে নয় টার দিকে শৈলকুপা থানার ওসি আলমগীর হোসেন ঘটনাস্থলে আসেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমানের উপস্থিতিতে দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। এসময় ফ্যানের সঙ্গে সায়েমের মরদেহ ঝুলতে দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তার খাটের ওপর একটি ডায়েরি পড়ে থাকতে দেখা যায়। ডায়েরিতে চার পাতার চিরকুট লেখা আছে। এক পৃষ্ঠায় রক্ত দিয়ে লেখা থাকলেও তাতে কারো নাম উল্ল্যেখ করা নেই।

এদিকে গত ১৩ এপ্রিল তার ফেসবুকে পেছন থেকে তোলা একটি মেয়ের ছবি কভার ফটো হিসেবে আপলোড করতে দেখা গেছে। তবে সার্বিক বিষয় দেখে পুলিশের ধারণা প্রেম ঘটিত কারণে আত্মহত্যা করতে পারে ওই ছাত্র।

তার সহপাঠীদের ভাষ্য মতে, প্রতিদিনের মতো সায়েম মঙ্গলবারও ক্লাসে উপস্থিত ছিলো। দুপুর ১২টার দিকে সে ক্যাম্পাস থেকে চলে যায়।

তবে প্রায় সময়ই তাকে আনমনা থাকতে দেখা যেতো। বিভাগে তার কোন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলনা বলেও জানান সহপাঠীরা।

তার সহপাঠীরা আরো জানান, সায়েম প্রায় সময়ই লেখাপড়া নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকত। গত সর্বশেষ ক্লাস টিউটোরিয়াল পরীক্ষা শেষে সায়েস তার বন্ধুদেরকে বলে, তার কাছে বিভাগের লেখাপড়া কঠিন মনে হচ্ছে। এবার বড়িতে গিয়ে আর ফিরবে না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে।

এবিষয়ে শৈলকুপা থানার ওসি আলমগীর হোসেন দৈনিক আকাশকে বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল থেকে ঝুলান্ত মরদেহ উদ্ধার করেছি। বিকেল তিনটা থেকে ৪টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটতে পারে। সার্বিক বিষয় দেখে মনে হয়েছে প্রেমঘটিত কারণে আত্মহত্যা করেছে ওই ছাত্র। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। রিপোর্ট পেলে নিশ্চিত করে বলা যাবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ইবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

আপডেট সময় ১১:৫৪:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সায়েমুজ্জামান খান সায়েম (২০) নামে এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যার করেছে।

নিহত ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ক্যাম্পাসের পাশে শেখপাড়া বাজার সংলগ্ন ‘মা মঞ্জিল’ নামে পাঁচতলা বিশিষ্ট ভবনের নিচ তলার কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

সায়েম ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের আজিয়া গ্রামের আজম খানের ছেলে বলে জানা গেছে।

ভবনের মালিক রবিউল ইসলাম জানান, ভবনের নিচতলার ওই কক্ষে একাই ভাড়া থাকত সায়েম। দুপুরে তার সঙ্গে ভবন মালিকের শেষ কথা হয়। বিকেলে সায়েসকে তার আত্মীয় সম্পর্কীয় মামা খোঁজ করতে ওই ভবনে আসেন।

এসময় সায়েমের কক্ষের দরজা ভিতর থেকে আটকানো দেখে তিনি ঘুমিয়েছেন ভেবে ডাকাডাকি না করেই ভবন মালিকের সঙ্গে কথা বলে চলে যান।

এদিকে রাত হয়ে গেলেও সায়েমকে দরজা খুলতে না দেখে সন্দেহ হয়। এসময় কক্ষের দরজার নিচ দিয়ে সায়েমের পা মেঝেতে ঝুলে থাকতে দেখা যায়। এঘটনা শৈলকুপা থানায় জানানো হয়। রাত সাড়ে নয় টার দিকে শৈলকুপা থানার ওসি আলমগীর হোসেন ঘটনাস্থলে আসেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমানের উপস্থিতিতে দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। এসময় ফ্যানের সঙ্গে সায়েমের মরদেহ ঝুলতে দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তার খাটের ওপর একটি ডায়েরি পড়ে থাকতে দেখা যায়। ডায়েরিতে চার পাতার চিরকুট লেখা আছে। এক পৃষ্ঠায় রক্ত দিয়ে লেখা থাকলেও তাতে কারো নাম উল্ল্যেখ করা নেই।

এদিকে গত ১৩ এপ্রিল তার ফেসবুকে পেছন থেকে তোলা একটি মেয়ের ছবি কভার ফটো হিসেবে আপলোড করতে দেখা গেছে। তবে সার্বিক বিষয় দেখে পুলিশের ধারণা প্রেম ঘটিত কারণে আত্মহত্যা করতে পারে ওই ছাত্র।

তার সহপাঠীদের ভাষ্য মতে, প্রতিদিনের মতো সায়েম মঙ্গলবারও ক্লাসে উপস্থিত ছিলো। দুপুর ১২টার দিকে সে ক্যাম্পাস থেকে চলে যায়।

তবে প্রায় সময়ই তাকে আনমনা থাকতে দেখা যেতো। বিভাগে তার কোন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলনা বলেও জানান সহপাঠীরা।

তার সহপাঠীরা আরো জানান, সায়েম প্রায় সময়ই লেখাপড়া নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকত। গত সর্বশেষ ক্লাস টিউটোরিয়াল পরীক্ষা শেষে সায়েস তার বন্ধুদেরকে বলে, তার কাছে বিভাগের লেখাপড়া কঠিন মনে হচ্ছে। এবার বড়িতে গিয়ে আর ফিরবে না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে।

এবিষয়ে শৈলকুপা থানার ওসি আলমগীর হোসেন দৈনিক আকাশকে বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল থেকে ঝুলান্ত মরদেহ উদ্ধার করেছি। বিকেল তিনটা থেকে ৪টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটতে পারে। সার্বিক বিষয় দেখে মনে হয়েছে প্রেমঘটিত কারণে আত্মহত্যা করেছে ওই ছাত্র। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। রিপোর্ট পেলে নিশ্চিত করে বলা যাবে।