ঢাকা ১০:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচনে ‘অনিয়ম’ হলেই কেবল জামায়াত ক্ষমতায় আসতে পারবে: হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর এটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন: আসিফ নজরুল ওরা দেশকে ভালোবাসার নামে আমেরিকার সঙ্গে গোপন বৈঠক করে: চরমোনাই পীর বিশ্বকাপে বাংলাদেশে বাদকে দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নিলো আইসিসি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিতে সংলাপ জরুরি : শিক্ষা উপদেষ্টা আমার কোনো প্রতিশ্রুতি নেই, যা প্রয়োজন তাই করব: মির্জা আব্বাস নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ না থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না : সুজন শিশুদের সঠিক শিক্ষা প্রদানের জন্য আমরা প্রাইমারি শিক্ষার ওপর জোর দিতে চাচ্ছি: তারেক রহমান ‘অতীতেও পাশে ছিলাম, এখনো আছি এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকব’:মির্জা ফখরুল দ.আফ্রিকায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে গুলি করে খুন

রাখাইনে ফিরলো প্রথম রোহিঙ্গা পরিবার

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

জাতিসংঘকে উপেক্ষা করে প্রথম রোহিঙ্গা পরিবারকে ফিরিয়ে নিয়েছে মিয়ানমার। প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইন এখনও প্রস্তুত নয় বলে মনে করছে জাতিসংঘ।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার মতো বাস্তবতা সৃষ্টি হয়নি বলে মনে করে। তা সত্ত্বেও শনিবার বাংলাদেশ থেকে ৫ সদস্যের এক রোহিঙ্গা পরিবারকে ফিরিয়ে নিয়েছে মিয়ানমার। মিয়ানমার সরকারের এক বিবৃতিকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।

দুই বছরে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঢাকা-নেপিদো প্রত্যাবাসন চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে মিয়ানমার রাখাইনে দুইটি অভ্যর্থনাকেন্দ্র স্থাপন করেছে। এগুলোকে অস্থায়ী শিবির নামে ডাকছে মিয়ানমার। তবে সেখানে বহুল প্রতীক্ষিত ও বিরল সফর শেষে জাতিসংঘের প্রতিনিধি দল সম্প্রতি জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য এখনও তৈরি নয় রাখাইন।

সরেজমিন বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখে, এবং সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জাতিসংঘের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল উরসুলা মুয়েলার এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছান। ৬ দিনের সফর শেষে উরসুলা মুয়েলার সংবাদমাধ্যমকে জানান, স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতূলতা, নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আর অব্যাহত স্থানচুত্যির ঘটনা ঘটছে ধারাবাহিকভাবে। এই পরিস্থিতি রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়ার জন্য সহায়ক নয়। ভবিষ্যতেও প্রত্যাবাসন আদতে সম্ভব কিনা, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। তবে জাতিসংঘের এই সংশয়কে আমল না নিয়ে মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তির অংশ হিসেবে প্রথম রোহিঙ্গা পরিবারকে ফিরিয়ে নিলো।

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশের জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকার করতে শুরু থেকেই অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে মিয়ানমার। তাদের ‘বাঙালি মুসলমান’ আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশের বাসিন্দা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় নেপিদো।

শনিবার মিয়ানমার সরকারের এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের মুসলিম আখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে, ‘৫ সদস্যের এক মুসলিম পরিবার আজ সকালে রাখাইনের তানজিপিওলেটওয়া অভ্যর্থনাকেন্দ্রে এসেছে।’ ওই সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, অভিবাসন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যাচাইবাছাই শেষে তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে। সমাজ কল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের চাল, মশারি, কম্বল, গেঞ্জি, লুঙ্গি সরবরাহ করা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

প্রসঙ্গত, কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে জাতিগত নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গাদের ওপর গত ২৫ আগস্ট নতুন করে সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরু করলে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। মিয়ানমারে তাদের ওপর নির্যাতন ও গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার বিবরণ দিয়েছে। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি ও রয়টার্সের অনুসন্ধানে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এছাড়াও এর আগে বিভিন্ন সময় নিপীড়নের মুখে প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। সব মিলিয়া প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার বোঝা বহন করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকার চাইলে বিশ্বকাপ বয়কট করবে পাকিস্তান: নাকভি

রাখাইনে ফিরলো প্রথম রোহিঙ্গা পরিবার

আপডেট সময় ১০:১০:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

জাতিসংঘকে উপেক্ষা করে প্রথম রোহিঙ্গা পরিবারকে ফিরিয়ে নিয়েছে মিয়ানমার। প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইন এখনও প্রস্তুত নয় বলে মনে করছে জাতিসংঘ।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার মতো বাস্তবতা সৃষ্টি হয়নি বলে মনে করে। তা সত্ত্বেও শনিবার বাংলাদেশ থেকে ৫ সদস্যের এক রোহিঙ্গা পরিবারকে ফিরিয়ে নিয়েছে মিয়ানমার। মিয়ানমার সরকারের এক বিবৃতিকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।

দুই বছরে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঢাকা-নেপিদো প্রত্যাবাসন চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে মিয়ানমার রাখাইনে দুইটি অভ্যর্থনাকেন্দ্র স্থাপন করেছে। এগুলোকে অস্থায়ী শিবির নামে ডাকছে মিয়ানমার। তবে সেখানে বহুল প্রতীক্ষিত ও বিরল সফর শেষে জাতিসংঘের প্রতিনিধি দল সম্প্রতি জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য এখনও তৈরি নয় রাখাইন।

সরেজমিন বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখে, এবং সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জাতিসংঘের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল উরসুলা মুয়েলার এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছান। ৬ দিনের সফর শেষে উরসুলা মুয়েলার সংবাদমাধ্যমকে জানান, স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতূলতা, নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আর অব্যাহত স্থানচুত্যির ঘটনা ঘটছে ধারাবাহিকভাবে। এই পরিস্থিতি রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়ার জন্য সহায়ক নয়। ভবিষ্যতেও প্রত্যাবাসন আদতে সম্ভব কিনা, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। তবে জাতিসংঘের এই সংশয়কে আমল না নিয়ে মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তির অংশ হিসেবে প্রথম রোহিঙ্গা পরিবারকে ফিরিয়ে নিলো।

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশের জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকার করতে শুরু থেকেই অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে মিয়ানমার। তাদের ‘বাঙালি মুসলমান’ আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশের বাসিন্দা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় নেপিদো।

শনিবার মিয়ানমার সরকারের এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের মুসলিম আখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে, ‘৫ সদস্যের এক মুসলিম পরিবার আজ সকালে রাখাইনের তানজিপিওলেটওয়া অভ্যর্থনাকেন্দ্রে এসেছে।’ ওই সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, অভিবাসন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যাচাইবাছাই শেষে তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে। সমাজ কল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের চাল, মশারি, কম্বল, গেঞ্জি, লুঙ্গি সরবরাহ করা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

প্রসঙ্গত, কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে জাতিগত নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গাদের ওপর গত ২৫ আগস্ট নতুন করে সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরু করলে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। মিয়ানমারে তাদের ওপর নির্যাতন ও গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার বিবরণ দিয়েছে। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি ও রয়টার্সের অনুসন্ধানে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এছাড়াও এর আগে বিভিন্ন সময় নিপীড়নের মুখে প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। সব মিলিয়া প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার বোঝা বহন করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।