ঢাকা ০৯:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা নির্যাতনের শিকারদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনে সংসদীয় বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী মালদ্বীপে বাংলাদেশি যুবকের আত্মহত্যা এবার ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্প মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা বিদেশ পাচার হয়েছে: মঈন খান দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডির ৭ বছরের কারাদণ্ড এক রাতে ৬৬০ ড্রোন দিয়ে রাশিয়ায় নজিরবিহীন হামলা ইউক্রেনের প্রমাণ ছাড়া প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়ালে তাৎক্ষণিক গ্রেফতার: শিক্ষামন্ত্রী

প্রেসের জ্যাকেট পরা সাংবাদিকদেরও ছাড় দেয়নি ইসরাইল

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

গাজা উপত্যকায় দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো শুক্রবারের বিক্ষোভের সময় কর্তব্যরত সাংবাদিকদেরও রেহাই দেয়নি দখলদার ইসরাইলি সেনাবাহিনী।

প্রেস লেখা সুরক্ষা জ্যাকেট পরা থাকা সত্ত্বেও সাংবাদিকদের ওপর নির্বিচার গুলি চালিয়েছে তারা। ওই দিন ফিলিস্তিনিদের ঘরে ফেরার বিক্ষোভে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর গুলিতে ১০ বিক্ষোভকারী নিহত হন।

তাদের মধ্যে একজন ছিলেন স্থানীয় আইন মিডিয়ার আলোকচিত্র সাংবাদিক ইয়াসের মুরতজা। খবর এএফপি ও রয়টার্সের। ফিলিস্তিনি জার্নালিস্ট সিন্ডিকেট জানিয়েছে, মুরতজা ছাড়াও আরও পাঁচ সাংবাদিক গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। যদিও তাদের গায়ে প্রেস লেখা সুরক্ষা জ্যাকেট ছিল।

প্যারিসভিত্তিক রিপোর্টাস উইদাউট বার্ডারসের সেক্রেটারি ক্রিস্টোফার ডেলিওর বলেছেন, মুরতজাকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

ইসরাইলের সাংবাদিক ইউনিয়ন মুরতজা হত্যাকাণ্ডের ব্যাখ্যা দাবি করে বলেছে, একটি গণতান্ত্রিক দেশের সেনাবাহিনী কখনও দায়িত্বপালনরত সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করতে পারে না।

মুরতজার ভাই সাংবাদিক মুতাজেম বলেন, যখন তার শরীরে গুলি লাগে, তখন আমি তার পাশেই ছিলাম। সাংবাদিকদের লক্ষ্য করেই ইসরাইলি বাহিনী গুলি ছুড়েছিল।

ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক আশরাফ আবু ওমর বলেন, তিনিও মুরতজার পাশে ছিলেন। সেখানে তারা দুজনেই হেলমেট ও সুরক্ষা জ্যাকেট পরে ছিলেন।

তিনি বলেন, আমাদের জ্যাকেটে বড় বড় অক্ষরে প্রেস লেখা ছিল। সীমান্ত থেকে প্রায় আড়াইশ মিটার দূরে আমরা বিক্ষোভকারীদের টায়ার পোড়ানো ছবি তুলছিলাম।

তখন ইসরাইলিরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করলে আমরা দৌড় দিই। হঠাৎ সে মাটিতে পড়ে যায়। আমি চিৎকার করে বলি, মুরতজা তুমি ঠিক আছ? তার কাছ থেকে কোনো জবাব আসেনি।

তার শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছিল বলে জানান সাংবাদিক আশরাফ আবু ওমর। শনিবার মুরতজার জানাজায় শত শত ফিলিস্তিনিকে অংশ নিতে দেখা গেছে। এ সময় তার মরদেহ দেশটির জাতীয় পতাকায় মোড়ানো ছিল। আর তার বুকের ওপর ছিল প্রেস লেখা একটা সুরক্ষা জ্যাকেট।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেসের জ্যাকেট পরা সাংবাদিকদেরও ছাড় দেয়নি ইসরাইল

আপডেট সময় ০২:১৮:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

গাজা উপত্যকায় দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো শুক্রবারের বিক্ষোভের সময় কর্তব্যরত সাংবাদিকদেরও রেহাই দেয়নি দখলদার ইসরাইলি সেনাবাহিনী।

প্রেস লেখা সুরক্ষা জ্যাকেট পরা থাকা সত্ত্বেও সাংবাদিকদের ওপর নির্বিচার গুলি চালিয়েছে তারা। ওই দিন ফিলিস্তিনিদের ঘরে ফেরার বিক্ষোভে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর গুলিতে ১০ বিক্ষোভকারী নিহত হন।

তাদের মধ্যে একজন ছিলেন স্থানীয় আইন মিডিয়ার আলোকচিত্র সাংবাদিক ইয়াসের মুরতজা। খবর এএফপি ও রয়টার্সের। ফিলিস্তিনি জার্নালিস্ট সিন্ডিকেট জানিয়েছে, মুরতজা ছাড়াও আরও পাঁচ সাংবাদিক গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। যদিও তাদের গায়ে প্রেস লেখা সুরক্ষা জ্যাকেট ছিল।

প্যারিসভিত্তিক রিপোর্টাস উইদাউট বার্ডারসের সেক্রেটারি ক্রিস্টোফার ডেলিওর বলেছেন, মুরতজাকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

ইসরাইলের সাংবাদিক ইউনিয়ন মুরতজা হত্যাকাণ্ডের ব্যাখ্যা দাবি করে বলেছে, একটি গণতান্ত্রিক দেশের সেনাবাহিনী কখনও দায়িত্বপালনরত সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করতে পারে না।

মুরতজার ভাই সাংবাদিক মুতাজেম বলেন, যখন তার শরীরে গুলি লাগে, তখন আমি তার পাশেই ছিলাম। সাংবাদিকদের লক্ষ্য করেই ইসরাইলি বাহিনী গুলি ছুড়েছিল।

ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক আশরাফ আবু ওমর বলেন, তিনিও মুরতজার পাশে ছিলেন। সেখানে তারা দুজনেই হেলমেট ও সুরক্ষা জ্যাকেট পরে ছিলেন।

তিনি বলেন, আমাদের জ্যাকেটে বড় বড় অক্ষরে প্রেস লেখা ছিল। সীমান্ত থেকে প্রায় আড়াইশ মিটার দূরে আমরা বিক্ষোভকারীদের টায়ার পোড়ানো ছবি তুলছিলাম।

তখন ইসরাইলিরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করলে আমরা দৌড় দিই। হঠাৎ সে মাটিতে পড়ে যায়। আমি চিৎকার করে বলি, মুরতজা তুমি ঠিক আছ? তার কাছ থেকে কোনো জবাব আসেনি।

তার শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছিল বলে জানান সাংবাদিক আশরাফ আবু ওমর। শনিবার মুরতজার জানাজায় শত শত ফিলিস্তিনিকে অংশ নিতে দেখা গেছে। এ সময় তার মরদেহ দেশটির জাতীয় পতাকায় মোড়ানো ছিল। আর তার বুকের ওপর ছিল প্রেস লেখা একটা সুরক্ষা জ্যাকেট।