অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বাংলাদেশে হাসপাতালে সেবার মান নিয়ে ভীষণ অসন্তুষ্ট পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি মনে করেন, হাসপাতালে সেবার মানে উন্নতি হয়নি বাংলাদেশে।
মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেকের বৈঠকে শেষে সাংবাদিদের এ কথা বলেন মন্ত্রী। হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা না থাকা, নার্সের অভাব এবং চিকিৎসকের কম সময় দেয়ার বিষয়ে আক্ষেপের কথা বলেন মন্ত্রী।
মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বিদেশে হাসপাতালে ঢুকলে রোগীর মন ভালো হয়ে যায়, এতে অর্ধেক রোগ এমনিইতেই ভাল হয়ে যায়। আমাদের যায়গা সংকুলন না হওয়ার কারণে এখনও প্রতিটি হাসপাতালের করিডরে (বারান্দা) গিয়ে রোগীদের ঘুমিয়ে পড়তে হয়।’
মন্ত্রী নিজের এলাকার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আমি কয়েকদিন আগে কুমিল্লায় গিয়েছিলাম কুমিল্লায়ও একই অবস্থা। হাসপাতালের সেবা কিন্তু আমাদের উন্নত হয়নি।’
অনুমোদিত প্রকল্প নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতালের সঙ্গে নার্সিংও যুক্ত করেছি। কারণ নার্সিং উন্নতি না হলে সেবার মান বড়বে না। আসলে একটা হাসপাতালের স্বাস্থ সেবার প্রাণ হলো নার্সিং।’
‘সিঙ্গাপুরে জখন আমরা ডাক্তারের কাছে যাই। আমাদের ডাক্তার দেখে ১০ থেকে ১৫ মিনিট। বেশিরভাগ সময় নার্সরাই আমাদের সেবা দেন। তারা আমদের বলেন কীভাবে কী করতে হবে। টোটাল ব্যাবস্থাপনা বলে দেয়।’
‘স্বাস্থসেবার দুইটি অংশ। একটি হলো কীভাবে আপনার চিকিৎসা হবে। আরেকটা হলো ম্যানেজমেন্ট, এই ম্যানেজমেন্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
নার্স তৈরির জন্য প্রতি জেলায় নার্সিং ইনিস্টিটিউট করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এর জন্য বেসরকারি সেক্টরকে সঙ্গে নেব।’
‘বিদেশে নার্সের অনেক ডিমান্ড। কারণ মানুষ যখন বয়স্ক হয়ে য়ায় তাদের দেখাশুনা করার জন্য নার্সের প্রয়োজন হয়। হাসপাতালেও নার্সদের বেশি প্রয়োজন।’
এরপর একনেকে অনুমোদিত ‘শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ, মেডিকেল হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ স্থাপন, গোপালগঞ্জ (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্প সম্পর্কে বলেন পরিকল্পনামন্ত্রী।
এ প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৭০৫ কোটি চাল লাখ টাকা। এর পুরো টাকাই সরকার দেবে। এটি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আওতায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বাস্তবান করবে।
প্রকল্পটি ২০১২ সালের মার্চে এনেকে ৫০৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় অনুমোদিত হয়। সেসময় কথা ছিল এটি ২০১৯ সারে শেষ হবে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ায় ২য় সংশোধিত প্রকল্প হিসেবে আবার অনুমোদন দেয়া হয়। আর প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে জুন ২০২০ করা হয়েছে।
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে চিকিৎসা শিক্ষার জন্য অবকাঠামো নির্মাণ, চিকিৎসা শিক্ষার জন্য হাসপাতালকে ব্যবহার করা, বেশি চিকিৎসক তৈরির মাধ্যমে ডাক্তার-জনসংখ্যার অনুপাত যৌক্তিককরণ; মোডিকেল শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষার জন্য হাসপাতালকে ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে।
এর বাইরে গোপালগঞ্জ ও এর আশেপাশের জেলার জনগণের জন্য আধুনিক ও ব্যয়সাশ্রয়ী চিকিৎসা সেবা প্রদান; আধুনিক চিকিৎসা সুবিধার মাধ্যমে জীবন মানের উন্নয়ন; মা ও শিশু মৃত্যুহার হ্রাস করাও এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য।
পাশাপাশি ডাক্তার, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য পেশার লোকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাও এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















