ঢাকা ১২:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

দুই শিক্ষকের যৌন নির্যাতনে কিশোরীর আত্মহত্যা, ভিডিও

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ঘণ্টা দুয়েকের জন্য বাড়ির বাইরে গিয়েছিলেন মা-বাবা। বাড়িতে সে সময় একাই ছিল কিশোরী মেয়ে। ফিরে এসে তারা দেখেন, সিলিং ফ্যানে ঝুলছে মেয়ের দেহ। মঙ্গলবার ভারতের উত্তর প্রদেশের নয়ডাতে ঘটে এ ঘটনা।

মৃতের পরিবারের অভিযোগ, স্কুলের দুই শিক্ষকের কাছে যৌন হেনস্থার শিকার তাদের মেয়ে। এমনকী, ইচ্ছাকৃতভাবেই তাকে পরীক্ষায় পাশ করতে দিতেন না অভিযুক্তরা। ওই শিক্ষকদের ‘অতিরিক্ত চাপেই’ আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য করেছে তাদের মেয়েকে। যদিও যৌন হেনস্থার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।

নয়ডার এসপি অরুণ কে সিং জানিয়েছেন, স্কুলের এসএসটি টিচার রাজিব সহগল এবং নীরজ আনন্দের বিরুদ্ধেই যৌন হেনস্থার অভিযোগ করেছে তার মা-বাবা। ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়া ছাড়াও পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নয়ডার বাসিন্দা ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরীর নাম ইকিশা রাঘব শাহ। ময়ূর বিহারের একটি বেসরকারি স্কুলের ক্লাস নাইনের ছাত্রী ছিল সে।

মৃতের পরিবারের এক আত্মীয় জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বিকালে ইকিশাকে বাড়িতে রেখে ছেলেকে নিয়ে বাইরে গিয়েছিলেন তার মা-বাবা। ঘন্টা দুয়েক পরে সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ বাড়িতে ফিরে আসেন তারা। সে সময় ইকিশার ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করা ছিল। অনেক ক্ষণ ডাকাডাকির পরেও কোনও সাড়া না মেলায় দরজা ভেঙে ফেলেন তারা। দরজা ভেঙে দেখেন, সিলিং ফ্যানে ঝুলছে ইকিশার দেহ। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ইকিশাকে নিয়ে যান তারা। সেখানেই তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। সে রাতেই রাজিব সহগল এবং নিরজ আনন্দ নামে ইকিশার স্কুলের দু্ই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন তারা।

পুলিশের কাছে বয়ানে ইকিশার বাবার দাবি, ‘মেয়ে আমাকে বলেছিল, এএসটি টিচারেরা আমাকে অযাচিতভাবে ছুঁতেন। মেয়েকে বলেছিলাম, আমিও তো শিক্ষক, তারা এমনটা করতে পারেন না।’

ইকিশার বাবার আক্ষেপ, ‘সেটাই আমার ভুল হয়েছিল। কেননা, মেয়ে বলেছিল, ওই শিক্ষকদের ভয় পেত সে। পরীক্ষায় যত ভালো করেই লিখুক না কেন, মেয়েকে ইচ্ছে করে ফেল করিয়ে দিতেন তারা।’

ইকিশার মায়ের দাবি, পড়াশোনা নিয়ে প্রায়শই মেয়েকে বকাঝকা করতেন ওই দুজন। তাদের ভয়ে স্কুলেও যেতে চাইত না সে। যৌন হেনস্থাসহ পরীক্ষায় ইচ্ছাকৃতভাবে ফেল করিয়ে দেয়ার অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছেন স্কুলের প্রিন্সিপাল। তার কথায়, ‘এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। পরিষ্কার করে জানিয়ে দিচ্ছি, ইশিকাকে ফেল করেনি। বরং ফের পরীক্ষা নেয়ার কথা ছিল।’

পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে কোনও সুইসাইড নোট মেলেনি। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, আত্মহত্যাই করেছে ইকিশা। তবে ময়নাতদন্তের পরই তা নিশ্চিতভাবে জানা যাবে বলে জানিয়েছে তারা। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, কিছু দিন আগেই স্কুলের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি ইকিশা। তার জেরেই সে এই পথ বেছে নিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

https://www.youtube.com/watch?v=p9C8dzNn4Tc

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

দুই শিক্ষকের যৌন নির্যাতনে কিশোরীর আত্মহত্যা, ভিডিও

আপডেট সময় ০৯:২০:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ মার্চ ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

ঘণ্টা দুয়েকের জন্য বাড়ির বাইরে গিয়েছিলেন মা-বাবা। বাড়িতে সে সময় একাই ছিল কিশোরী মেয়ে। ফিরে এসে তারা দেখেন, সিলিং ফ্যানে ঝুলছে মেয়ের দেহ। মঙ্গলবার ভারতের উত্তর প্রদেশের নয়ডাতে ঘটে এ ঘটনা।

মৃতের পরিবারের অভিযোগ, স্কুলের দুই শিক্ষকের কাছে যৌন হেনস্থার শিকার তাদের মেয়ে। এমনকী, ইচ্ছাকৃতভাবেই তাকে পরীক্ষায় পাশ করতে দিতেন না অভিযুক্তরা। ওই শিক্ষকদের ‘অতিরিক্ত চাপেই’ আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য করেছে তাদের মেয়েকে। যদিও যৌন হেনস্থার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।

নয়ডার এসপি অরুণ কে সিং জানিয়েছেন, স্কুলের এসএসটি টিচার রাজিব সহগল এবং নীরজ আনন্দের বিরুদ্ধেই যৌন হেনস্থার অভিযোগ করেছে তার মা-বাবা। ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়া ছাড়াও পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নয়ডার বাসিন্দা ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরীর নাম ইকিশা রাঘব শাহ। ময়ূর বিহারের একটি বেসরকারি স্কুলের ক্লাস নাইনের ছাত্রী ছিল সে।

মৃতের পরিবারের এক আত্মীয় জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বিকালে ইকিশাকে বাড়িতে রেখে ছেলেকে নিয়ে বাইরে গিয়েছিলেন তার মা-বাবা। ঘন্টা দুয়েক পরে সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ বাড়িতে ফিরে আসেন তারা। সে সময় ইকিশার ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করা ছিল। অনেক ক্ষণ ডাকাডাকির পরেও কোনও সাড়া না মেলায় দরজা ভেঙে ফেলেন তারা। দরজা ভেঙে দেখেন, সিলিং ফ্যানে ঝুলছে ইকিশার দেহ। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ইকিশাকে নিয়ে যান তারা। সেখানেই তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। সে রাতেই রাজিব সহগল এবং নিরজ আনন্দ নামে ইকিশার স্কুলের দু্ই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন তারা।

পুলিশের কাছে বয়ানে ইকিশার বাবার দাবি, ‘মেয়ে আমাকে বলেছিল, এএসটি টিচারেরা আমাকে অযাচিতভাবে ছুঁতেন। মেয়েকে বলেছিলাম, আমিও তো শিক্ষক, তারা এমনটা করতে পারেন না।’

ইকিশার বাবার আক্ষেপ, ‘সেটাই আমার ভুল হয়েছিল। কেননা, মেয়ে বলেছিল, ওই শিক্ষকদের ভয় পেত সে। পরীক্ষায় যত ভালো করেই লিখুক না কেন, মেয়েকে ইচ্ছে করে ফেল করিয়ে দিতেন তারা।’

ইকিশার মায়ের দাবি, পড়াশোনা নিয়ে প্রায়শই মেয়েকে বকাঝকা করতেন ওই দুজন। তাদের ভয়ে স্কুলেও যেতে চাইত না সে। যৌন হেনস্থাসহ পরীক্ষায় ইচ্ছাকৃতভাবে ফেল করিয়ে দেয়ার অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছেন স্কুলের প্রিন্সিপাল। তার কথায়, ‘এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। পরিষ্কার করে জানিয়ে দিচ্ছি, ইশিকাকে ফেল করেনি। বরং ফের পরীক্ষা নেয়ার কথা ছিল।’

পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে কোনও সুইসাইড নোট মেলেনি। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, আত্মহত্যাই করেছে ইকিশা। তবে ময়নাতদন্তের পরই তা নিশ্চিতভাবে জানা যাবে বলে জানিয়েছে তারা। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, কিছু দিন আগেই স্কুলের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি ইকিশা। তার জেরেই সে এই পথ বেছে নিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

https://www.youtube.com/watch?v=p9C8dzNn4Tc