ঢাকা ০৭:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি

বিপদগ্রস্ত ছাত্রদল কর্মীদের দায়িত্ব নিলেন তারেক রহমান

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে হামলা, মামলায় জর্জরিত ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের আইনি ও চিকিৎসা সহায়তা দেবেন এক দশক ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারি স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। কারা হেফাজতে ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন মিলনের মৃত্যুর তিন দিন পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন।

গত ৬ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে গ্রেপ্তার হন ঢাকা উত্তর মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি মিলন। এরপর একটি মামলায় রিমান্ড শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ১২ মার্চ কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতাল পাঠানো হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিএনপির অভিযোগ, এই মৃত্যু কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। পুলিশ নির্যাতন করে মিলনকে হত্যা করেছে। আগামী রবিবার সারাদেশে বিএনপি বিক্ষোভের ডাকও দিয়েছে।

ছাত্রদলের বিজ্ঞপ্তিতে আইনি এবং চিকিৎসার জন্য সাহায্য প্রত্যাশীদেরকে নিজ ইউনিটের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মাধ্যমে বিষয়টি ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং দপ্তর সম্পাদককে জানানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যেসব জায়গায় সাংগঠনিক কমিটি নেই তারা নিজেদের যোগাযোগ করতে পারবেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ থেকে চলতি বছরের ৭ মার্চ পর্যন্ত করা প্রায় ৭৮ হাজার মামলায় নামে-বেনামে আসামি প্রায় ১৮ লাখ নেতাকর্মী। এ সময়ের মধ্যে ৭৭৩ জনকে হত্যা এবং কমপক্ষে ৭২ জনকে গুম করার অভিযোগও করছে বিএনপি।

ছাত্রদলের সূত্রে জানা গেছে, শুধু কাশিমপুর এবং কেরানীগঞ্জ কারাগারে ছাত্রদলের চারশর বেশি নেতাকর্মী গ্রেপ্তার আছে। সারাদেশে এই সংখ্যা কমপক্ষে পাঁচ হাজার হবে।

ছাত্রদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও বর্তমান সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘যেসব মামলায় বিএনপি নেতারা আসামি, ওই মামলায় ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মী আসামি। সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল। তবে আমাদের অন্তত সারাদেশে ৫ লাখের বেশি নেতাকর্মী বিভিন্ন মামলায় আসামি আছে। এদের মধ্যে অনেকেরেই মামলা পরিচালনার মতো অর্থ নেই।’

এই উদ্যোগে সারাদেশের নেতাকর্মীরা আলোর দিশা পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ছাত্রদলের এই নেতা। তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান আগেও নেতাকর্মীদের খোঁজখবর রাখতেন সাধ্যমত। কিন্তু কেউ জানতো কেউ জানতো না। এবার তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে পাশে থাকার কথা বলেছেন। বড় কোনো ঘটনা ঘটলে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলছেন এতে সবাই অনুপ্রেরিত হচ্ছে।’

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সাজা হওয়ার পর তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন করে বিএনপি। তবে খালেদা জিয়া যে মামলায় সাজা পেয়েছে, সেটিতে তারেকের সাজা হয়েছে ১০ বছর।

এর আগেও বিদেশে অর্থপাচারের এক মামলায় তারেক রহমানের সাত বছর কারাদণ্ড এবং ২০ কোটি টাকা জরিমানা করেছে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেপ্তার তারেক রহমান চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে ২০০৮ সালে যুক্তরাজ্যে যান। এখন পর্যন্ত তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। ২০০৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে যেদিন খালেদা জিয়া চেয়ারপারসন হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হন, সেদিন তারেক রহমানও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন।

তবে দণ্ডিত তারেক রহমানের কোনো বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচারে নিষেধাজ্ঞা আছে হাইকোর্টের।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

যান্ত্রিক ত্রুটিতে জাপানে আটকে প্রধানমন্ত্রীর বিমান, নামলেন প্রতিনিধিদল

বিপদগ্রস্ত ছাত্রদল কর্মীদের দায়িত্ব নিলেন তারেক রহমান

আপডেট সময় ০৯:১১:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে হামলা, মামলায় জর্জরিত ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের আইনি ও চিকিৎসা সহায়তা দেবেন এক দশক ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারি স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। কারা হেফাজতে ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন মিলনের মৃত্যুর তিন দিন পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন।

গত ৬ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে গ্রেপ্তার হন ঢাকা উত্তর মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি মিলন। এরপর একটি মামলায় রিমান্ড শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ১২ মার্চ কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতাল পাঠানো হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিএনপির অভিযোগ, এই মৃত্যু কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। পুলিশ নির্যাতন করে মিলনকে হত্যা করেছে। আগামী রবিবার সারাদেশে বিএনপি বিক্ষোভের ডাকও দিয়েছে।

ছাত্রদলের বিজ্ঞপ্তিতে আইনি এবং চিকিৎসার জন্য সাহায্য প্রত্যাশীদেরকে নিজ ইউনিটের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মাধ্যমে বিষয়টি ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং দপ্তর সম্পাদককে জানানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যেসব জায়গায় সাংগঠনিক কমিটি নেই তারা নিজেদের যোগাযোগ করতে পারবেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ থেকে চলতি বছরের ৭ মার্চ পর্যন্ত করা প্রায় ৭৮ হাজার মামলায় নামে-বেনামে আসামি প্রায় ১৮ লাখ নেতাকর্মী। এ সময়ের মধ্যে ৭৭৩ জনকে হত্যা এবং কমপক্ষে ৭২ জনকে গুম করার অভিযোগও করছে বিএনপি।

ছাত্রদলের সূত্রে জানা গেছে, শুধু কাশিমপুর এবং কেরানীগঞ্জ কারাগারে ছাত্রদলের চারশর বেশি নেতাকর্মী গ্রেপ্তার আছে। সারাদেশে এই সংখ্যা কমপক্ষে পাঁচ হাজার হবে।

ছাত্রদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও বর্তমান সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘যেসব মামলায় বিএনপি নেতারা আসামি, ওই মামলায় ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মী আসামি। সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল। তবে আমাদের অন্তত সারাদেশে ৫ লাখের বেশি নেতাকর্মী বিভিন্ন মামলায় আসামি আছে। এদের মধ্যে অনেকেরেই মামলা পরিচালনার মতো অর্থ নেই।’

এই উদ্যোগে সারাদেশের নেতাকর্মীরা আলোর দিশা পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ছাত্রদলের এই নেতা। তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান আগেও নেতাকর্মীদের খোঁজখবর রাখতেন সাধ্যমত। কিন্তু কেউ জানতো কেউ জানতো না। এবার তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে পাশে থাকার কথা বলেছেন। বড় কোনো ঘটনা ঘটলে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলছেন এতে সবাই অনুপ্রেরিত হচ্ছে।’

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সাজা হওয়ার পর তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন করে বিএনপি। তবে খালেদা জিয়া যে মামলায় সাজা পেয়েছে, সেটিতে তারেকের সাজা হয়েছে ১০ বছর।

এর আগেও বিদেশে অর্থপাচারের এক মামলায় তারেক রহমানের সাত বছর কারাদণ্ড এবং ২০ কোটি টাকা জরিমানা করেছে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেপ্তার তারেক রহমান চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে ২০০৮ সালে যুক্তরাজ্যে যান। এখন পর্যন্ত তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। ২০০৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে যেদিন খালেদা জিয়া চেয়ারপারসন হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হন, সেদিন তারেক রহমানও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন।

তবে দণ্ডিত তারেক রহমানের কোনো বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচারে নিষেধাজ্ঞা আছে হাইকোর্টের।