ঢাকা ১১:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘মৌলিক জ্ঞান না থাকলে কোচিংয়ে আসা উচিত নয়’:তামিম ইকবাল আপসকামিতা নয়, স্বৈরাচারকে প্রতিহত করার ইতিহাস বিএনপির: জাহিদ হোসেন পটিয়া থানার ২শ গজ সামনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল হবিগঞ্জে হামলার ঘটনায় ১১ জনের নামে এনসিপির মামলা বর্তমান সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় মদদে কোনো দুর্নীতি গুম খুন হয়নি হবিগঞ্জে গিয়ে মামলা না করে আমরা ফিরব না: এমপি হাসনাত যুব জামায়াত নেতার কাণ্ড; বিধবা নারীকে ধর্ষণের পর গর্ভপাতের অভিযোগ:দল থেকে সদস্যপদ স্থগিত মানবতার মুক্তিতে ইসলামের আদর্শের বিজয়ের বিকল্প নেই: চরমোনাই পীর সব প্রকল্পের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য:জহির উদ্দিন স্বপন হঠাৎ ৬ মুসলিম দেশের যৌথ সামরিক মহড়া, কী বার্তা দিচ্ছে

বাংলাদেশের মানুষ অসুখী হয়ে উঠছে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সুখী হতে কে না চায়? এই সুখের খোঁজেই মানুষের জীবন অতিবাহিত হয়। কিন্তু তারপরেও সবাই সুখী হতে পারে না। সুখের সংজ্ঞাও একেক জনের কাছে একেক রকম। জাতিসংঘের উদ্যোগে পরিচালিত এক গবেষণায় পৃথিবীর কোন দেশ কতটা সুখী, সেটি দেখানো হয়েছে। সে প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৫৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশর অবস্থান ১১৫তম। সবচেয়ে সুখী দেশ ফিনল্যান্ড। এবং সবচেয়ে কম সুখী আফ্রিকার দেশ বুরুন্ডি।

গতবছর এ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১১০ নম্বরে। কিন্তু এবার সেটি পাঁচ ধাপ নিচে নেমেছে। জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশন নেটওয়ার্ক এ তালিকা তৈরি করেছে। সেখানে বেশ কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা হয়। যেমন- মাথাপিছু আয়, সুস্থভাবে বেঁচে থাকার আয়ু, সামাজিক সহায়তা, উদারতা এবং দুর্নীতি। ২০১২ সাল থেকে জাতিসংঘ এ তালিকা তৈরি করে আসছে। বাংলাদেশের অবস্থান তখন থেকে গত ছয় বছরে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৮ থেকে ১১০-এর মধ্যেই ছিল।

সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, সুখের নির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা নেই। সুখ সম্পর্কে একটা ধারণা করা যেতে মাত্র। তাদের দৃষ্টিতে সুখের দুটি দিক আছে। একটি মানসিক আরেকটি সামাজিক। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশের মানুষ কি আরো অসুখী হয়ে উঠছে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক শাহ এহসান হাবিব মনে করেন, বাংলাদেশের মানুষের চাওয়া এবং পাওয়ার মধ্যে যে একধরনের ফারাক তৈরি হচ্ছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। প্রযুক্তির বিকাশের কারণেই এ অবস্থা তৈরি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

অধ্যাপক হাবিব বলেন, ” প্রযুক্তি বিকাশের কারণে বাংলাদেশের মানুষ এখন নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করতে শিখেছে। ফলে অনেক সময় তাদের মনে একধরনের হতাশারও তৈরি হচ্ছে। তারা জানতে পারছে অন্যরা কী পাচ্ছে আর আমরা কী পাচ্ছি?”

বাংলাদেশের যে কোনো প্রান্তে যে কোনো মানুষকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, ” কেমন আছেন?” অধিকাংশ মানুষ উত্তর দেবে, ” ভালো আছি।”

অধ্যাপক হাবিব মনে করেন, ” এ ভালো মানে আসল ভালো নয়। এটা হচ্ছে সামাজিকভাবে কথা বলার একটি ধরণ। মানুষ সাধারণত নিজের নেতিবাচক বিষয়গুলো সবার সঙ্গে শেয়ার করতে চায় না। সে নিজেকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে চায়। সেজন্য সবাই বলে, ভালো আছি।” এমনিতেই বাংলাদেশের মানুষের সহ্য শক্তি অনেক বেশি বলে মনে করে এই সমাজবিজ্ঞানী।

অধ্যাপক হাবিব বলেন, কিন্তু আর্থিক মানদণ্ডের চেয়েও তাদের কাছে বড় বিষয় হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিক্ষা, চিকিৎসার সুযোগ- এগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে বাক-স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। যার অর্থনৈতিক ভিত্তি ভালো তার কাছে বাক-স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে।

“উচ্চবিত্তের চাহিদা একরকম, মধ্যবিত্তের কিংবা নিম্নবিত্তের চাহিদা আরেক রকম। সুতরাং সুখের একটি শ্রেণি চরিত্র আছে,” বলেন অধ্যাপক হাবিব। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের সুখের চাহিদায় রকমফের হয়। ১০ বছর আগে যে বিষয়গুলো বাংলাদেশের মানুষকে সুখী করতে পারত, এখন হয়তো সেগুলো আর পারছে না। এখন সুখের জন্য আরো নতুন উপকরণ যুক্ত হয়েছে। এমনটাই বলছেন সমাজবিজ্ঞানীরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের মানুষ অসুখী হয়ে উঠছে

আপডেট সময় ০৮:৩৩:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সুখী হতে কে না চায়? এই সুখের খোঁজেই মানুষের জীবন অতিবাহিত হয়। কিন্তু তারপরেও সবাই সুখী হতে পারে না। সুখের সংজ্ঞাও একেক জনের কাছে একেক রকম। জাতিসংঘের উদ্যোগে পরিচালিত এক গবেষণায় পৃথিবীর কোন দেশ কতটা সুখী, সেটি দেখানো হয়েছে। সে প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৫৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশর অবস্থান ১১৫তম। সবচেয়ে সুখী দেশ ফিনল্যান্ড। এবং সবচেয়ে কম সুখী আফ্রিকার দেশ বুরুন্ডি।

গতবছর এ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১১০ নম্বরে। কিন্তু এবার সেটি পাঁচ ধাপ নিচে নেমেছে। জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশন নেটওয়ার্ক এ তালিকা তৈরি করেছে। সেখানে বেশ কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা হয়। যেমন- মাথাপিছু আয়, সুস্থভাবে বেঁচে থাকার আয়ু, সামাজিক সহায়তা, উদারতা এবং দুর্নীতি। ২০১২ সাল থেকে জাতিসংঘ এ তালিকা তৈরি করে আসছে। বাংলাদেশের অবস্থান তখন থেকে গত ছয় বছরে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৮ থেকে ১১০-এর মধ্যেই ছিল।

সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, সুখের নির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা নেই। সুখ সম্পর্কে একটা ধারণা করা যেতে মাত্র। তাদের দৃষ্টিতে সুখের দুটি দিক আছে। একটি মানসিক আরেকটি সামাজিক। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশের মানুষ কি আরো অসুখী হয়ে উঠছে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক শাহ এহসান হাবিব মনে করেন, বাংলাদেশের মানুষের চাওয়া এবং পাওয়ার মধ্যে যে একধরনের ফারাক তৈরি হচ্ছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। প্রযুক্তির বিকাশের কারণেই এ অবস্থা তৈরি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

অধ্যাপক হাবিব বলেন, ” প্রযুক্তি বিকাশের কারণে বাংলাদেশের মানুষ এখন নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করতে শিখেছে। ফলে অনেক সময় তাদের মনে একধরনের হতাশারও তৈরি হচ্ছে। তারা জানতে পারছে অন্যরা কী পাচ্ছে আর আমরা কী পাচ্ছি?”

বাংলাদেশের যে কোনো প্রান্তে যে কোনো মানুষকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, ” কেমন আছেন?” অধিকাংশ মানুষ উত্তর দেবে, ” ভালো আছি।”

অধ্যাপক হাবিব মনে করেন, ” এ ভালো মানে আসল ভালো নয়। এটা হচ্ছে সামাজিকভাবে কথা বলার একটি ধরণ। মানুষ সাধারণত নিজের নেতিবাচক বিষয়গুলো সবার সঙ্গে শেয়ার করতে চায় না। সে নিজেকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে চায়। সেজন্য সবাই বলে, ভালো আছি।” এমনিতেই বাংলাদেশের মানুষের সহ্য শক্তি অনেক বেশি বলে মনে করে এই সমাজবিজ্ঞানী।

অধ্যাপক হাবিব বলেন, কিন্তু আর্থিক মানদণ্ডের চেয়েও তাদের কাছে বড় বিষয় হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিক্ষা, চিকিৎসার সুযোগ- এগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে বাক-স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। যার অর্থনৈতিক ভিত্তি ভালো তার কাছে বাক-স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে।

“উচ্চবিত্তের চাহিদা একরকম, মধ্যবিত্তের কিংবা নিম্নবিত্তের চাহিদা আরেক রকম। সুতরাং সুখের একটি শ্রেণি চরিত্র আছে,” বলেন অধ্যাপক হাবিব। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের সুখের চাহিদায় রকমফের হয়। ১০ বছর আগে যে বিষয়গুলো বাংলাদেশের মানুষকে সুখী করতে পারত, এখন হয়তো সেগুলো আর পারছে না। এখন সুখের জন্য আরো নতুন উপকরণ যুক্ত হয়েছে। এমনটাই বলছেন সমাজবিজ্ঞানীরা।