ঢাকা ০৯:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাংবাদিক আনিসের বিরুদ্ধে মামলা আসন সমঝোতা হলেও জোটের রাজনৈতিক গুরুত্ব আছে: নাহিদ ইসলাম স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত বিপিএল এসএসসি পরীক্ষা শুরু ২১ এপ্রিল, সময়সূচি প্রকাশ গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায়মুক্তি নির্ধারণ আইন অনুমোদন হয়েছে : আসিফ নজরুল বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের ঘরে ঘরে নারীদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে: দুলু জামায়াত জোটের আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত, রাতে প্রার্থী ঘোষণা শহীদ হাদি হত্যা মামলায় নতুন মোড়, পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত নির্বাচন ঘিরে একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তি তৈরি করতে চাইছে,সতর্ক থাকার আহ্বান : মির্জা আব্বাস

এয়ার ট্রাফিকের বিভ্রান্তিতেই বিধ্বস্ত ইউএস বাংলা, অডিও সহ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম (এটিসি) থেকে পাইলটকে দেয়া ভুল নিদের্শনার কারণেই ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সটি বিধ্বস্ত হয় বলে। এটিসির দু’রকম নির্দেশনার ফলেই বিভ্রান্ত হন বিএস২১১ ফ্লাইটের পাইলট। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার আগ মুহূর্তে বিমানের পাইলটের সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ কথোপকথনে এমনই আভাস মিলেছে।

বিমান দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরেই কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে পাইলটের সর্বশেষ কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড পায় নেপালের ইংরেজি দৈনিক নেপালি টাইমস। নেপালি ওই দৈনিকটি বলছে, কন্ট্রোল রুম থেকে ভুল বার্তা দেয়ার কারণেই ককপিটে দ্বিধায় পড়েন পাইলট। বিএস ২১১ এর ককপিটে শেষ মুহূর্তে কী ঘটেছিল- নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও পাইলটের কথোপকথন থেকে তা বোঝার চেষ্টা করেছেন নেপালি টাইমসের সাংবাদিক কনক মনি দিক্ষিত।

পত্রিকাটির এক প্রতিবেদনে কনক মল্লিক লিখেছেন, ওই চার মিনিটের কথা শুনলে মনে হয়, কোন দিক দিয়ে রানওয়েতে নামতে হবে তা নিয়ে পাইলটের মধ্যে হয়ত বিভ্রান্তি কাজ করছিল।

ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে দক্ষিণ অংশের নাম রানওয়ে ০২; আর উত্তর অংশকে বলা হয় রানওয়ে ২০।

“বমবার্ডিয়ার উড়োজাহাজটি যখন এগিয়ে যাচ্ছিল, অন্য উড়োজাহাজের নেপালি পাইলটরা শুনতে পান, এটিসি থেকে ইউএস বাংলার পাইলটকে হুঁশিয়ার করা হচ্ছে যে, তাকে কিছুটা বিভ্রান্ত মনে হচ্ছে এবং তার উচিত রাডার অনুসরণ করা। ”

কনক মনি দিক্ষিত লিখেছেন, দুর্ঘটনার মিনিট চারেক আগে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে ওই অডিওতে বলতে শোনা যায়, সে যেন রানওয়ে ২০ এর দিকে না যায়। পরে তাকে বলা হয়, সে যেন অবতরণ না করে, কারণ আরেকটি উড়োজাহাজ নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিএস ২১১ ডান দিকে ঘুরতে শুরু করলে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ পাইলটের কাছে জানতে চায়, তিনি কোন দিক দিয়ে নামতে চান- রানওয়ে ০২, না রানওয়ে ২০।

পাইলট তখন বলেন, তিনি রানওয়ে ২০ ধরতে চান। তখন তাকে অনুমতি দেওয়া হয়।

নিয়ন্ত্রণ কক্ষ এরপর জানতে চায়, পাইলট রানওয়ে ঠিকমত দেখতে পাচ্ছেন কি না। তিনি ‘নেগেটিভ’ বললে তাকে ডান দিকে ঘোরার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে পাইলট বলেন- ‘অ্যাফারমেটিভ’, অর্থাৎ তিনি রানওয়ে দেখতে পাচ্ছেন।

কনক মনি দিক্ষিত লিখেছেন, ওই সময়ে পাইলট বলে ওঠেন তিনি রানওয়ে ০২ এ নামতে যাচ্ছেন, যদিও এর আগে তিনি উল্টো দিকে নামার অনুমতি চেয়ে আসছিলেন।

নিয়ন্ত্রণ কক্ষ এরপর তাকে রানওয়ে ০২ এ নামার অনুমতি দেয়। একই সময়ে দশ কিলোমিটার দূরে থাকা একটি সামরিক বিমানকে এটিসি থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশি উড়োজাহাজটি রানওয়ে ২০ এ নামতে যাচ্ছে।

ওই রেকর্ডে ইউএস-বাংলার পাইলটের শেষ বাক্য ছিল- “আমরা কি নামার অনুমতি পেয়েছি?”

কিছু সময় নীরবতার পর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে উদ্বিগ্ন চিৎকার শোনা যায়- ‘আমি আবার বলছি, ঘোরাও…।

কনক মনি দিক্ষিত লিখেছেন, এরপর আরও কিছুক্ষণ নীরবতা পেরিয়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে অগ্নি সংকেত বাজতে শুরু করে। এর মানে হল, উড়োজাহাজটি দুর্ঘটনায় পড়েছে এবং বিমানবন্দরের অগ্নি নির্বাপণী সংকেত চালু হয়েছে।

এরপর একজন নেপালি পাইলট জানতে চান, রানওয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কি না। নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানায়, রানওয়ে বন্ধ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এয়ার ট্রাফিকের বিভ্রান্তিতেই বিধ্বস্ত ইউএস বাংলা, অডিও সহ

আপডেট সময় ০৯:৪৭:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম (এটিসি) থেকে পাইলটকে দেয়া ভুল নিদের্শনার কারণেই ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সটি বিধ্বস্ত হয় বলে। এটিসির দু’রকম নির্দেশনার ফলেই বিভ্রান্ত হন বিএস২১১ ফ্লাইটের পাইলট। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার আগ মুহূর্তে বিমানের পাইলটের সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ কথোপকথনে এমনই আভাস মিলেছে।

বিমান দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরেই কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে পাইলটের সর্বশেষ কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড পায় নেপালের ইংরেজি দৈনিক নেপালি টাইমস। নেপালি ওই দৈনিকটি বলছে, কন্ট্রোল রুম থেকে ভুল বার্তা দেয়ার কারণেই ককপিটে দ্বিধায় পড়েন পাইলট। বিএস ২১১ এর ককপিটে শেষ মুহূর্তে কী ঘটেছিল- নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও পাইলটের কথোপকথন থেকে তা বোঝার চেষ্টা করেছেন নেপালি টাইমসের সাংবাদিক কনক মনি দিক্ষিত।

পত্রিকাটির এক প্রতিবেদনে কনক মল্লিক লিখেছেন, ওই চার মিনিটের কথা শুনলে মনে হয়, কোন দিক দিয়ে রানওয়েতে নামতে হবে তা নিয়ে পাইলটের মধ্যে হয়ত বিভ্রান্তি কাজ করছিল।

ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে দক্ষিণ অংশের নাম রানওয়ে ০২; আর উত্তর অংশকে বলা হয় রানওয়ে ২০।

“বমবার্ডিয়ার উড়োজাহাজটি যখন এগিয়ে যাচ্ছিল, অন্য উড়োজাহাজের নেপালি পাইলটরা শুনতে পান, এটিসি থেকে ইউএস বাংলার পাইলটকে হুঁশিয়ার করা হচ্ছে যে, তাকে কিছুটা বিভ্রান্ত মনে হচ্ছে এবং তার উচিত রাডার অনুসরণ করা। ”

কনক মনি দিক্ষিত লিখেছেন, দুর্ঘটনার মিনিট চারেক আগে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে ওই অডিওতে বলতে শোনা যায়, সে যেন রানওয়ে ২০ এর দিকে না যায়। পরে তাকে বলা হয়, সে যেন অবতরণ না করে, কারণ আরেকটি উড়োজাহাজ নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিএস ২১১ ডান দিকে ঘুরতে শুরু করলে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ পাইলটের কাছে জানতে চায়, তিনি কোন দিক দিয়ে নামতে চান- রানওয়ে ০২, না রানওয়ে ২০।

পাইলট তখন বলেন, তিনি রানওয়ে ২০ ধরতে চান। তখন তাকে অনুমতি দেওয়া হয়।

নিয়ন্ত্রণ কক্ষ এরপর জানতে চায়, পাইলট রানওয়ে ঠিকমত দেখতে পাচ্ছেন কি না। তিনি ‘নেগেটিভ’ বললে তাকে ডান দিকে ঘোরার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে পাইলট বলেন- ‘অ্যাফারমেটিভ’, অর্থাৎ তিনি রানওয়ে দেখতে পাচ্ছেন।

কনক মনি দিক্ষিত লিখেছেন, ওই সময়ে পাইলট বলে ওঠেন তিনি রানওয়ে ০২ এ নামতে যাচ্ছেন, যদিও এর আগে তিনি উল্টো দিকে নামার অনুমতি চেয়ে আসছিলেন।

নিয়ন্ত্রণ কক্ষ এরপর তাকে রানওয়ে ০২ এ নামার অনুমতি দেয়। একই সময়ে দশ কিলোমিটার দূরে থাকা একটি সামরিক বিমানকে এটিসি থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশি উড়োজাহাজটি রানওয়ে ২০ এ নামতে যাচ্ছে।

ওই রেকর্ডে ইউএস-বাংলার পাইলটের শেষ বাক্য ছিল- “আমরা কি নামার অনুমতি পেয়েছি?”

কিছু সময় নীরবতার পর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে উদ্বিগ্ন চিৎকার শোনা যায়- ‘আমি আবার বলছি, ঘোরাও…।

কনক মনি দিক্ষিত লিখেছেন, এরপর আরও কিছুক্ষণ নীরবতা পেরিয়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে অগ্নি সংকেত বাজতে শুরু করে। এর মানে হল, উড়োজাহাজটি দুর্ঘটনায় পড়েছে এবং বিমানবন্দরের অগ্নি নির্বাপণী সংকেত চালু হয়েছে।

এরপর একজন নেপালি পাইলট জানতে চান, রানওয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কি না। নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানায়, রানওয়ে বন্ধ।