ঢাকা ১২:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তারেক রহমান বাংলাদেশের জন্য ‘আশার আলো’ : সাইমন ড্যানজাক শৈলকুপায় বিয়ের দাবিতে যুবকের বাড়িতে গৃহবধূর অনশন শাহরাস্তিতে ধর্ষণের শিকার শিশু ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, অভিযুক্ত আটক সংসদে প্রবেশে মাথা ঝোঁকানোতে আপত্তি জামায়াত এমপির বহিষ্কৃত শিবির নেতা জিসান কারাগারে খেলা শেষ হওয়ার ২ ঘণ্টার মধ্যে আমেরিকা ছাড়ার নির্দেশ ইরানকে নিখোঁজের চার দিন পর সাগরতীরে মিলল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর লাশ ভবানীপুরে শুভেন্দুর জয়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মমতা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করলে ইরানে নরক নেমে আসবে: ট্রাম্প বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে চান শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী

জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারী আটক

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর ছুরি নিয়ে হামলা করা যুবক ধরা পড়েছেন। তবে তার পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

শনিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে এই হামলার পরপরই ওই তরুণকে ধরে ফেলা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তরুণকে পিটুনি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-২ এ আটকে রাখা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে এক অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জাফর ইকবালের ওপর হামলা হয় বিকাল পাঁচটার দিকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঞ্চে ওঠার সময় পেছন থেকে ছুরি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন ওই যুবক। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশসহ অন্যরা তাকে আটক করে। কী কারণে ওই তরুণ জাফর ইকবালের উপর হামলা করেছেন, সে বিষয়ে কিছু তাৎক্ষণিকভাবে এখনও জানা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করে সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করা জাফর ইকবাল ১৯৯৪ সালে দেশের টানে আমেরিকা ছেড়ে দেশে ফিরে আসেন। জাফর ইকবাল বাংলাদেশের প্রধান পত্রিকাগুলোতে ‘সাদাসিধে কথা’ নামে নিয়মিত কলাম লিখে থাকেন। তার লেখা কলামগুলোতে তার রাজনৈতিক সচেতনতা এবং দেশপ্রেমের পরিচয় পাওয়া যায়। তার স্বাধীনতা-বিরোধী ও ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে সরাসরি মত প্রকাশ এবং প্রগতিশীল চিন্তাধারার ধারক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সাহিত্য ও সংস্কৃতিসেবী ছাত্র সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে অবস্থান বিভিন্ন সময় প্রতিক্রিয়াশীলদের রোষানলে পড়েছে।

২০১৬ সালের ১২ অক্টোবর জাফর ইকবালের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে বার্তা আসে। সেই বার্তায় লেখা ছিল ‘Hi Unbeliever! We will strangulate you soon’। ২০১৬ সালের এপ্রিলে পুলিশ সদরদপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাফর ইকবালকে সশস্ত্র পুলিশি নিরাপত্তা দেয়া হয়। তখন দিনের বেলায় দুজন এবং রাতে তিনজন সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়। হামলায় আহত হওয়ার পর জাফর ইকবালকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তার অস্ত্রোপচার করা হয়। হামলার পর রক্তক্ষরণ হলেও তিনি কথা বলছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তারেক রহমান বাংলাদেশের জন্য ‘আশার আলো’ : সাইমন ড্যানজাক

জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারী আটক

আপডেট সময় ০৭:২৯:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর ছুরি নিয়ে হামলা করা যুবক ধরা পড়েছেন। তবে তার পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

শনিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে এই হামলার পরপরই ওই তরুণকে ধরে ফেলা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তরুণকে পিটুনি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-২ এ আটকে রাখা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে এক অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জাফর ইকবালের ওপর হামলা হয় বিকাল পাঁচটার দিকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঞ্চে ওঠার সময় পেছন থেকে ছুরি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন ওই যুবক। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশসহ অন্যরা তাকে আটক করে। কী কারণে ওই তরুণ জাফর ইকবালের উপর হামলা করেছেন, সে বিষয়ে কিছু তাৎক্ষণিকভাবে এখনও জানা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করে সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করা জাফর ইকবাল ১৯৯৪ সালে দেশের টানে আমেরিকা ছেড়ে দেশে ফিরে আসেন। জাফর ইকবাল বাংলাদেশের প্রধান পত্রিকাগুলোতে ‘সাদাসিধে কথা’ নামে নিয়মিত কলাম লিখে থাকেন। তার লেখা কলামগুলোতে তার রাজনৈতিক সচেতনতা এবং দেশপ্রেমের পরিচয় পাওয়া যায়। তার স্বাধীনতা-বিরোধী ও ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে সরাসরি মত প্রকাশ এবং প্রগতিশীল চিন্তাধারার ধারক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সাহিত্য ও সংস্কৃতিসেবী ছাত্র সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে অবস্থান বিভিন্ন সময় প্রতিক্রিয়াশীলদের রোষানলে পড়েছে।

২০১৬ সালের ১২ অক্টোবর জাফর ইকবালের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে বার্তা আসে। সেই বার্তায় লেখা ছিল ‘Hi Unbeliever! We will strangulate you soon’। ২০১৬ সালের এপ্রিলে পুলিশ সদরদপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাফর ইকবালকে সশস্ত্র পুলিশি নিরাপত্তা দেয়া হয়। তখন দিনের বেলায় দুজন এবং রাতে তিনজন সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়। হামলায় আহত হওয়ার পর জাফর ইকবালকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তার অস্ত্রোপচার করা হয়। হামলার পর রক্তক্ষরণ হলেও তিনি কথা বলছিলেন।