ঢাকা ০৬:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মেয়েকে ধর্ষণ সহ ভয়াবহ নির্যাতনের কথা জানালেন বগুড়ার সেই মা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘রিমান্ডে নিয়া মানুষকে যেইভাবে মারে, সেইভাবে একটা ঘরে আটকাইয়া রাইখা ওরা মারছে আমার মেয়েরে এবং আমারে। ক্ষমতার জোরে ওরা আমাদের ওইভাবে মারছে। অনেক মারছে তারপর চুল কাইটা দিছে।’

এভাবেই বিবিসি বাংলার কাছে নির্যাতনের বর্ণনা দিচ্ছিলেন বগুড়ায় শ্রমিক লীগের আহ্বায়কের হাতে ধর্ষণের শিকার হওয়া মেয়েটির মা।পুলিশ জানিয়েছে, এ মাসের ১৭ তারিখে দলীয় ক্যাডার দিয়ে একজন কিশোরীকে তুলে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে বগুড়া শহর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক তুফান সরকার।

পরে, গত শুক্রবার তুফানের স্ত্রী এবং স্ত্রীর বোন যিনি বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর ধর্ষণের শিকার মেয়েটি এবং তার মাকে আবারো ক্যাডার পাঠিয়ে বাড়ি থেকে জোর করে তুলে আনে। বাসায় নিয়ে রড ও লাঠি দিয়ে ব্যাপক মারধরের পর দুইজনেরই মাথা কামিয়ে দেয় তারা।আহত মেয়েটি এবং তার মাকে এরপর বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।মেয়েটির মা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, আসামিদের কয়েকজন গ্রেফতার হওয়ায় এখন তিনি বিচার পাবার আশা করছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, এ মাসের ১৭ তারিখে তুফান ঐ মেয়েটিকে কলেজ ভর্তিতে সাহায্য করার প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে পাঠায়। কিন্তু মেয়েটি তাতে সাড়া না দিলে, দলীয় কয়েকজন ক্যাডার পাঠিয়ে মেয়েটিকে বাড়ি থেকে তুলে আনে তুফান। এরপর মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়। পরে অসুস্থ অবস্থায় মেয়েটিকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে মেয়েটির মা তুফান সরকার এবং তার স্ত্রীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে দুটি মামলা করেছেন। এরপর পুলিশ তুফান সরকার এবং তার তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে। এদের একজন শনিবার ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তবে তুফানের স্ত্রী এবং স্ত্রীর বোন পলাতক রয়েছে।

তুফান সরকারসহ বাকি তিনজনকে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

মেয়েকে ধর্ষণ সহ ভয়াবহ নির্যাতনের কথা জানালেন বগুড়ার সেই মা

আপডেট সময় ০৭:০০:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ জুলাই ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘রিমান্ডে নিয়া মানুষকে যেইভাবে মারে, সেইভাবে একটা ঘরে আটকাইয়া রাইখা ওরা মারছে আমার মেয়েরে এবং আমারে। ক্ষমতার জোরে ওরা আমাদের ওইভাবে মারছে। অনেক মারছে তারপর চুল কাইটা দিছে।’

এভাবেই বিবিসি বাংলার কাছে নির্যাতনের বর্ণনা দিচ্ছিলেন বগুড়ায় শ্রমিক লীগের আহ্বায়কের হাতে ধর্ষণের শিকার হওয়া মেয়েটির মা।পুলিশ জানিয়েছে, এ মাসের ১৭ তারিখে দলীয় ক্যাডার দিয়ে একজন কিশোরীকে তুলে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে বগুড়া শহর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক তুফান সরকার।

পরে, গত শুক্রবার তুফানের স্ত্রী এবং স্ত্রীর বোন যিনি বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর ধর্ষণের শিকার মেয়েটি এবং তার মাকে আবারো ক্যাডার পাঠিয়ে বাড়ি থেকে জোর করে তুলে আনে। বাসায় নিয়ে রড ও লাঠি দিয়ে ব্যাপক মারধরের পর দুইজনেরই মাথা কামিয়ে দেয় তারা।আহত মেয়েটি এবং তার মাকে এরপর বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।মেয়েটির মা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, আসামিদের কয়েকজন গ্রেফতার হওয়ায় এখন তিনি বিচার পাবার আশা করছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, এ মাসের ১৭ তারিখে তুফান ঐ মেয়েটিকে কলেজ ভর্তিতে সাহায্য করার প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে পাঠায়। কিন্তু মেয়েটি তাতে সাড়া না দিলে, দলীয় কয়েকজন ক্যাডার পাঠিয়ে মেয়েটিকে বাড়ি থেকে তুলে আনে তুফান। এরপর মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়। পরে অসুস্থ অবস্থায় মেয়েটিকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে মেয়েটির মা তুফান সরকার এবং তার স্ত্রীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে দুটি মামলা করেছেন। এরপর পুলিশ তুফান সরকার এবং তার তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে। এদের একজন শনিবার ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তবে তুফানের স্ত্রী এবং স্ত্রীর বোন পলাতক রয়েছে।

তুফান সরকারসহ বাকি তিনজনকে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।