ঢাকা ০৫:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অর্থনৈতিক অঞ্চলকে সবুজ শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ৫০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে শুরু হচ্ছে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’:মাহদী আমিন ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৫৪৪ বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে : হুমায়ুন কবির প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানেই টেকসই জীবিকা নিশ্চিত হবে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এনসিপি নেতাদের শেখ হাসিনার পথ অনুসরণ না করার আহ্বান রিজভীর আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে ৩৮ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল: ইসি সচিব থানার সামনে গিয়ে আত্মহত্যার হুমকি বিএনপি নেতার জামায়াতে গেলে মানুষের হিতাহিতজ্ঞান থাকে না, কর্নেল অলি তার বাস্তব উদাহরণ বিরোধী দলের নেতারা হাসিনার ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছেন : মির্জা ফখরুল

পুরুষদের অনুমতি ছাড়াই ব্যবসা করবেন সৌদির নারীরা

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

কট্টরপন্থী মুসলিম দেশ হিসেবে পরিচিত সৌদি আরবে একের পর এক নিষেদ্ধাজ্ঞা তুলে নেয়া হচ্ছে। দেশটি বেসরকারি খাতকে প্রসারিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। এখন থেকে স্বামী, পিতা বা পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াই ব্যবসা শুরু করতে পারবেন সৌদির নারীরা।

রবিবার এনডিটিভির এক খবরে বলা হয়, সৌদি সরকার গত বৃহস্পতিবার নতুন এই পরিবর্তনের ঘোষণা দেয়। এর মাধ্যমে সৌদিতে গত কয়েক দশক ধরা চলা অভিভাবকত্ব নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসলো। সৌদির বাণিজ্য ও বিনোয়োগ মন্ত্রণালয় তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, নারীরা এখন থেকে নিজেরাই ব্যবসা শুরু করতে পারবেন এবং অভিভাবকের অনুমতিপত্র ছাড়াই সরকারি অনলাইন সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।

সৌদির অভিভাবক পদ্ধতি অনুযায়ী, সরকারি কাজ, ভ্রমণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পুরুষ অভিভাবক যেমন, স্বামী, বাবা বা ভাইয়ের অনুমতিপত্রের প্রয়োজন হতো। সৌদির নারীরা এখনো নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞার শিকার। দেশটির পাবলিক প্রসিকিউটর কার্যালয় চলতি মাসে জানিয়েছে, তারা প্রথম বারের মতো নারী তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দিচ্ছে।

বিমানবন্দর ও সীমান্তে ১৪০ জন নারীকে সম্প্রতি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সৌদি সরকার বলেছে, সৌদির ইতিহাসে এই প্রথম বার চাকরির জন্য এক লাখ সাত হাজার নারী আবেদন করেছেন। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত কয়েক মাসে নারীদের কর্মক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন।

২০১৫ সালের ডিসেম্বরে সৌদি আরব প্রথমবারের মতো দেশটির নারীদের প্রার্থী ও ভোটার হওয়ার সুযোগ করে দেয়। সিনেমা দেখা, ঘরোয়া কনসার্ট, ফুটবল মাঠে নারীর উপস্থিতি, কৌতুক অনুষ্ঠান ও নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে। সৌদি আরবের এসব পদক্ষেপ নারীর অধিকারের ব্যাপারে দেশটির কট্টর নীতিতে কিছুটা হলেও নমনীয়তার আভাস দেয়।

তেল দিয়ে বেশি দিন চলা যাবে না—এটা বোধ করি খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছে সৌদি আরব। এই বোধোদয় থেকেই ২০১৬ সালের এপ্রিলে সৌদি সরকার বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনা অনুমোদন করে। ‘ভিশন ২০৩০’ নামের এই মহাপরিকল্পনার পেছনে আছেন মোহাম্মদ বিন সালমান। মহাপরিকল্পনার লক্ষ্য দেশটির তেলনির্ভর অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনা। তেলের রাজস্বের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো। তেলের বাইরে অন্য খাতে ভালো কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এই সংস্কারের অংশ হিসেবে কর্মক্ষেত্রে সৌদি নারীদের অংশগ্রহণ ২২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে এক তৃতীয়াংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অর্থনৈতিক অঞ্চলকে সবুজ শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

পুরুষদের অনুমতি ছাড়াই ব্যবসা করবেন সৌদির নারীরা

আপডেট সময় ০৮:৫৬:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

কট্টরপন্থী মুসলিম দেশ হিসেবে পরিচিত সৌদি আরবে একের পর এক নিষেদ্ধাজ্ঞা তুলে নেয়া হচ্ছে। দেশটি বেসরকারি খাতকে প্রসারিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। এখন থেকে স্বামী, পিতা বা পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াই ব্যবসা শুরু করতে পারবেন সৌদির নারীরা।

রবিবার এনডিটিভির এক খবরে বলা হয়, সৌদি সরকার গত বৃহস্পতিবার নতুন এই পরিবর্তনের ঘোষণা দেয়। এর মাধ্যমে সৌদিতে গত কয়েক দশক ধরা চলা অভিভাবকত্ব নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসলো। সৌদির বাণিজ্য ও বিনোয়োগ মন্ত্রণালয় তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, নারীরা এখন থেকে নিজেরাই ব্যবসা শুরু করতে পারবেন এবং অভিভাবকের অনুমতিপত্র ছাড়াই সরকারি অনলাইন সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।

সৌদির অভিভাবক পদ্ধতি অনুযায়ী, সরকারি কাজ, ভ্রমণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পুরুষ অভিভাবক যেমন, স্বামী, বাবা বা ভাইয়ের অনুমতিপত্রের প্রয়োজন হতো। সৌদির নারীরা এখনো নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞার শিকার। দেশটির পাবলিক প্রসিকিউটর কার্যালয় চলতি মাসে জানিয়েছে, তারা প্রথম বারের মতো নারী তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দিচ্ছে।

বিমানবন্দর ও সীমান্তে ১৪০ জন নারীকে সম্প্রতি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সৌদি সরকার বলেছে, সৌদির ইতিহাসে এই প্রথম বার চাকরির জন্য এক লাখ সাত হাজার নারী আবেদন করেছেন। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত কয়েক মাসে নারীদের কর্মক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন।

২০১৫ সালের ডিসেম্বরে সৌদি আরব প্রথমবারের মতো দেশটির নারীদের প্রার্থী ও ভোটার হওয়ার সুযোগ করে দেয়। সিনেমা দেখা, ঘরোয়া কনসার্ট, ফুটবল মাঠে নারীর উপস্থিতি, কৌতুক অনুষ্ঠান ও নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে। সৌদি আরবের এসব পদক্ষেপ নারীর অধিকারের ব্যাপারে দেশটির কট্টর নীতিতে কিছুটা হলেও নমনীয়তার আভাস দেয়।

তেল দিয়ে বেশি দিন চলা যাবে না—এটা বোধ করি খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছে সৌদি আরব। এই বোধোদয় থেকেই ২০১৬ সালের এপ্রিলে সৌদি সরকার বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনা অনুমোদন করে। ‘ভিশন ২০৩০’ নামের এই মহাপরিকল্পনার পেছনে আছেন মোহাম্মদ বিন সালমান। মহাপরিকল্পনার লক্ষ্য দেশটির তেলনির্ভর অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনা। তেলের রাজস্বের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো। তেলের বাইরে অন্য খাতে ভালো কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এই সংস্কারের অংশ হিসেবে কর্মক্ষেত্রে সৌদি নারীদের অংশগ্রহণ ২২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে এক তৃতীয়াংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির।