ঢাকা ০৭:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

একমাত্র সু চিই পারেন সেনাবাহিনীকে থামাতে: রিচার্ডসন

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মার্কিন কূটনীতিক বিল রিচার্ডসন বলেছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে দোষ দেয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। তবে অং সান সু চিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি সেনাবাহিনীকে অবস্থান বদলে বাধ্য করতে পারেন। তার উচিত সেই কাজটি শুরু করা।

মিয়ানমারের নেত্রীর সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে রোহিঙ্গাবিষয়ক আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্যানেল থেকে সরে যাওয়ার পর রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এক কথা বলেন। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে সু চির গঠিত ১০ সদস্যের আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্যানেল থেকে গত বুধবার পদত্যাগ করেন রিচার্ডসন।

তবে সু চির দফতরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, রিচার্ডসনের মধ্যে নিজের এজেন্ডা বাস্তবায়নের অভিপ্রায় দেখা যাওয়ায় তাকে সরে যেতে বলা হয়েছে।

রিচার্ডসন বলেন, মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ক্ষমতাবলয়ের মধ্যে বেসামরিক নেতা হিসেবে স্টেট কাউন্সেলর পদে আসার পর থেকে সু চির মধ্যে এক ধরনের ‘আত্মরক্ষামূলক মানসিকতা’ তৈরি হয়েছে। এর পরও পশ্চিমা সরকারগুলোর উচিত সু চির পাশে থাকা।

যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গিয়ে নিউ মেক্সিকো রাজ্যের এই সাবেক গভর্নর টেলিফোনে রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাকারে সু চিকে ‘দীর্ঘদিনের বন্ধু’ বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পশ্চিমা দেশ, মানবাধিকার সংগঠন, জাতিসংঘ আর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর সঙ্গে মিয়ানমারের সম্পর্ক খুব খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

‘আমার মনে হয়, সু চি এটি নিজের গায়ে টেনে এনেছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যে সমালোচনা, আমি মনি করি তা তার জন্য ভালো হতে পারত; কিন্তু তিনি নিজেকে গুটিয়ে নিলেন। তিনি দেশের ভেতরেও খুব একটা কোথাও যান না। আমার মনে হয়, তিনি নিজের চারপাশে একটি বলয় গড়ে তুলেছেন।’ বলেন রিচার্ডসন।

তিনি সংকট নিরসনে সু চির নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং আন্তর্জাতিক ওই পরামর্শক প্যানেলকে বলেন ‘লোক দেখানো’, সরকারের ‘চিয়ারলিডিং স্কোয়াড’।

রয়টার্সকে তিনি বলেন, ১৯৮০ সালের পর থেকে তিনি সু চিকে চেনেন। মিয়ানমারের নেত্রীকে তিনি শ্রদ্ধাই করতেন। কিন্তু রোহিঙ্গা সংকট ও রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে সু চির ‘নৈতিক অবস্থানে’ তিনি সততা দেখতে পাননি। তার ভাষায়, পরামর্শক প্যানেলের ‘কোনো ভালো পরামর্শ’ সু চি শুনতে চাননি।

মিয়ানমারের রাখাইনে গত ২৫ আগস্ট নতুন করে সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরুর পর প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে।

গত সপ্তাহে ওই প্যানেলের সদস্যদের সঙ্গে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর সু চির বৈঠক ছিল। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে খবর সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে গ্রেফতার করে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইনে বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়টি রিচার্ডসন সেখানে তুললে সু চির সঙ্গে তার বাদানুবাদ হয়।

রয়টার্সের সাংবাদিক ওয়া লোন ও কিয়া সো ও রোহিঙ্গা সংকটের খবর সংগ্রহের দায়িত্বে ছিলেন। ইয়াঙ্গুনে পুলিশ কর্মকর্তাদের এক ডিনারের আমন্ত্রণে যাওয়ার পর গত ১২ ডিসেম্বর তাদের গ্রেফতার করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গোপন নথিপত্র ছিল তাদের কাছে।

রিচার্ডসন রয়টার্সকে বলেন, ওই প্রসঙ্গ তোলায় সু চি ক্ষেপে ওঠেন এবং সাফ জানিয়ে দেন, সাংবাদিকদের নিয়ে ওই ঘটনা পরামর্শক প্যানেলের দেখার বিষয় নয়।

মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্যানেলের সদস্যদের তিন দিনের বৈঠকে আন্তর্জাতিক মিডিয়া, জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যেভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, তাও পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেন এই মার্কিন কূটনীতিক।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

একমাত্র সু চিই পারেন সেনাবাহিনীকে থামাতে: রিচার্ডসন

আপডেট সময় ০১:৩৭:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মার্কিন কূটনীতিক বিল রিচার্ডসন বলেছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে দোষ দেয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। তবে অং সান সু চিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি সেনাবাহিনীকে অবস্থান বদলে বাধ্য করতে পারেন। তার উচিত সেই কাজটি শুরু করা।

মিয়ানমারের নেত্রীর সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে রোহিঙ্গাবিষয়ক আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্যানেল থেকে সরে যাওয়ার পর রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এক কথা বলেন। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে সু চির গঠিত ১০ সদস্যের আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্যানেল থেকে গত বুধবার পদত্যাগ করেন রিচার্ডসন।

তবে সু চির দফতরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, রিচার্ডসনের মধ্যে নিজের এজেন্ডা বাস্তবায়নের অভিপ্রায় দেখা যাওয়ায় তাকে সরে যেতে বলা হয়েছে।

রিচার্ডসন বলেন, মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ক্ষমতাবলয়ের মধ্যে বেসামরিক নেতা হিসেবে স্টেট কাউন্সেলর পদে আসার পর থেকে সু চির মধ্যে এক ধরনের ‘আত্মরক্ষামূলক মানসিকতা’ তৈরি হয়েছে। এর পরও পশ্চিমা সরকারগুলোর উচিত সু চির পাশে থাকা।

যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গিয়ে নিউ মেক্সিকো রাজ্যের এই সাবেক গভর্নর টেলিফোনে রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাকারে সু চিকে ‘দীর্ঘদিনের বন্ধু’ বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পশ্চিমা দেশ, মানবাধিকার সংগঠন, জাতিসংঘ আর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর সঙ্গে মিয়ানমারের সম্পর্ক খুব খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

‘আমার মনে হয়, সু চি এটি নিজের গায়ে টেনে এনেছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যে সমালোচনা, আমি মনি করি তা তার জন্য ভালো হতে পারত; কিন্তু তিনি নিজেকে গুটিয়ে নিলেন। তিনি দেশের ভেতরেও খুব একটা কোথাও যান না। আমার মনে হয়, তিনি নিজের চারপাশে একটি বলয় গড়ে তুলেছেন।’ বলেন রিচার্ডসন।

তিনি সংকট নিরসনে সু চির নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং আন্তর্জাতিক ওই পরামর্শক প্যানেলকে বলেন ‘লোক দেখানো’, সরকারের ‘চিয়ারলিডিং স্কোয়াড’।

রয়টার্সকে তিনি বলেন, ১৯৮০ সালের পর থেকে তিনি সু চিকে চেনেন। মিয়ানমারের নেত্রীকে তিনি শ্রদ্ধাই করতেন। কিন্তু রোহিঙ্গা সংকট ও রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে সু চির ‘নৈতিক অবস্থানে’ তিনি সততা দেখতে পাননি। তার ভাষায়, পরামর্শক প্যানেলের ‘কোনো ভালো পরামর্শ’ সু চি শুনতে চাননি।

মিয়ানমারের রাখাইনে গত ২৫ আগস্ট নতুন করে সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরুর পর প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে।

গত সপ্তাহে ওই প্যানেলের সদস্যদের সঙ্গে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর সু চির বৈঠক ছিল। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে খবর সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে গ্রেফতার করে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইনে বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়টি রিচার্ডসন সেখানে তুললে সু চির সঙ্গে তার বাদানুবাদ হয়।

রয়টার্সের সাংবাদিক ওয়া লোন ও কিয়া সো ও রোহিঙ্গা সংকটের খবর সংগ্রহের দায়িত্বে ছিলেন। ইয়াঙ্গুনে পুলিশ কর্মকর্তাদের এক ডিনারের আমন্ত্রণে যাওয়ার পর গত ১২ ডিসেম্বর তাদের গ্রেফতার করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গোপন নথিপত্র ছিল তাদের কাছে।

রিচার্ডসন রয়টার্সকে বলেন, ওই প্রসঙ্গ তোলায় সু চি ক্ষেপে ওঠেন এবং সাফ জানিয়ে দেন, সাংবাদিকদের নিয়ে ওই ঘটনা পরামর্শক প্যানেলের দেখার বিষয় নয়।

মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্যানেলের সদস্যদের তিন দিনের বৈঠকে আন্তর্জাতিক মিডিয়া, জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যেভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, তাও পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেন এই মার্কিন কূটনীতিক।