ঢাকা ০১:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত: প্রধানমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ আজকে সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার জন্য তিনি বিশ্বের বন্ধুরাষ্ট্র ও উন্নয়ন সহযোগীদের সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেন।

আজ বুধবার দুদিনব্যাপী বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের (বিডিএফ) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। বিডিএফের এবারের প্রতিপাদ্য ‘উন্নয়নের জন্য অংশীদারিত্ব’ বা ‘পার্টনারশিপ ফর ডেভেপলমেন্ট’।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) আয়োজনে এবং অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে এই উদ্বোধন অনুষ্ঠান হয়। এটি বিডিএফের তৃতীয়বারের মতো আয়োজন। এর আগে ২০০৯ সালে প্রথম ও ২০১৫ সালে দ্বিতীয়বার এ জাতীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ আর্থসামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছে। টেকসই অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সরকারের উন্নয়ন ভাবনা ও যথাযথ বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশ আজকে সমগ্র বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে।’

রূপকল্প অনুযায়ী, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এ জন্য সবার পরামর্শ ও সহযোগিতা চান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৯১ সালে আমাদের দেশে যেখানে দারিদ্র্যের হার ছিল ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ, আমরা সেই দারিদ্র্যের হার ২২ দশমিক ৪ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। অতিদারিদ্র্যের হার ৭ দশমিক ৯ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দারিদ্র্যের হার ১৪ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

গত এক দশকে জিডিপির গড় প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত বছর এই হার ৭ দশমিক ২৮ শতাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে রপ্তানি ও বিদেশ থেকে আসা রেমিট্যান্স তিন গুণ বেড়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নয় গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘জিডিপির ভিত্তিতে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের ৪৪তম অর্থনীতির দেশ আর ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে ৩২তম।
আন্তর্জাতিক আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০৩০ ও ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ জিডিপি ও ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে বিশ্বের যথাক্রমে ২৮ ও ২৩তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে স্থান করে নিতে সক্ষম হবে।’

ফোরামে ২০৩০ সালের মধ্যে সফলভাবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের লক্ষ্যে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাংলাদেশের অতিরিক্ত ৯২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রাপ্তির বিষয়টিও আলোচিত হয়।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ওএফআইডি) মহাপরিচালক সুলেইমান জাসির আল-হার্বিশ, বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যানিত্তি ডিক্সন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েনসাই জাং, জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমহাপরিচালক মিনোরু মাসুজিমা এবং অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০১:৩৯:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ আজকে সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার জন্য তিনি বিশ্বের বন্ধুরাষ্ট্র ও উন্নয়ন সহযোগীদের সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেন।

আজ বুধবার দুদিনব্যাপী বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের (বিডিএফ) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। বিডিএফের এবারের প্রতিপাদ্য ‘উন্নয়নের জন্য অংশীদারিত্ব’ বা ‘পার্টনারশিপ ফর ডেভেপলমেন্ট’।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) আয়োজনে এবং অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে এই উদ্বোধন অনুষ্ঠান হয়। এটি বিডিএফের তৃতীয়বারের মতো আয়োজন। এর আগে ২০০৯ সালে প্রথম ও ২০১৫ সালে দ্বিতীয়বার এ জাতীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ আর্থসামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছে। টেকসই অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সরকারের উন্নয়ন ভাবনা ও যথাযথ বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশ আজকে সমগ্র বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে।’

রূপকল্প অনুযায়ী, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এ জন্য সবার পরামর্শ ও সহযোগিতা চান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৯১ সালে আমাদের দেশে যেখানে দারিদ্র্যের হার ছিল ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ, আমরা সেই দারিদ্র্যের হার ২২ দশমিক ৪ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। অতিদারিদ্র্যের হার ৭ দশমিক ৯ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দারিদ্র্যের হার ১৪ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

গত এক দশকে জিডিপির গড় প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত বছর এই হার ৭ দশমিক ২৮ শতাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে রপ্তানি ও বিদেশ থেকে আসা রেমিট্যান্স তিন গুণ বেড়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নয় গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘জিডিপির ভিত্তিতে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের ৪৪তম অর্থনীতির দেশ আর ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে ৩২তম।
আন্তর্জাতিক আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০৩০ ও ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ জিডিপি ও ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে বিশ্বের যথাক্রমে ২৮ ও ২৩তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে স্থান করে নিতে সক্ষম হবে।’

ফোরামে ২০৩০ সালের মধ্যে সফলভাবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের লক্ষ্যে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাংলাদেশের অতিরিক্ত ৯২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রাপ্তির বিষয়টিও আলোচিত হয়।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ওএফআইডি) মহাপরিচালক সুলেইমান জাসির আল-হার্বিশ, বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যানিত্তি ডিক্সন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েনসাই জাং, জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমহাপরিচালক মিনোরু মাসুজিমা এবং অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।