ঢাকা ০৩:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা, পরিস্থিতি অশান্ত

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

উত্তর রাখাইনের মংডু এলাকায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর উপর ফের চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়েছে রোহিঙ্গা মুসলিমদের জঙ্গি সংগঠন ‘আরসা’। শুক্রবার এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানালেও, এই আক্রমণের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে নি জঙ্গিরা। হামলায় মোট তিনজন আহত হয়েছে বলে জানাচ্ছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা- বিবিসি।

আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা আরসা বলছে, বর্মী সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখায় সামরিক বাহিনীর উপর তারা সবশেষ এই আক্রমণটি চালিয়েছে। আরসা আরো বলছে, দেশটির নেত্রী অং সান সু চি রাখাইনে সামরিক অভিযান বন্ধের আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের উপর সেনাবাহিনীর নিপীড়ন নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে।

আজ রবিবার আরসার এক বিবৃতিতে এই হামলার দাবি করে জঙ্গি দলটি সেনাবাহিনীর উপর আরো হামলা চালানোরও ঘোষণা দিয়েছে। রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এধরনের হামলা চালানো ছাড়া তাদের কাছে আর কোনো বিকল্প নেই। রাষ্ট্রীয় সমর্থনে রোহিঙ্গাদের উপর যে সন্ত্রাস চলছে তার বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।

এর ফলে রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর তৎপরতা আরো বাড়বে এবং মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এই পরিস্থিতিতে চেষ্টা করবে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমগুলো যেন সেখানে যেতে না পারে। পরিণতিতে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বদেশে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা আরো কঠিন হয়ে উঠলো।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই জঙ্গি বাহিনীর তৎপরতা সম্পর্কে খুব কমই শোনা যাচ্ছিলো। আগস্ট মাসে নিরাপত্তার বাহিনীর উপর বেশ কয়েকটি হামলার পর এই বিদ্রোহীরা খুব একটা তৎপর ছিলো না। আগস্টের পর রাখাইন রাজ্যের অধিকাংশ রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে আসার কারণে আরসা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তখনই তাদের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়া হয়।

তবে গত শুক্রবার সেনাদের বহনকারী গাড়িতে হামলা চালানোর ঘটনা প্রমাণ করছে যে এখনও কিছু রোহিঙ্গা জঙ্গি সেখানে রয়ে গেছে। আরসার পক্ষ থেকে এব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। তবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, একদল সশস্ত্র জঙ্গি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রোগীদের বহনকারী সেনাবাহিনীর একটি গাড়িতে হামলা চালায়।

এতে দু’জন সেনা এবং একজন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়। মিয়ানমার সরকারের তরফ থেকে এদেরকে সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করা হলেও দেশটির সেনাবাহিনী তাদেরকে আরসা বলে উল্লেখ করেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বড় নিয়োগ দিচ্ছে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র

রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা, পরিস্থিতি অশান্ত

আপডেট সময় ১১:৪৩:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

উত্তর রাখাইনের মংডু এলাকায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর উপর ফের চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়েছে রোহিঙ্গা মুসলিমদের জঙ্গি সংগঠন ‘আরসা’। শুক্রবার এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানালেও, এই আক্রমণের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে নি জঙ্গিরা। হামলায় মোট তিনজন আহত হয়েছে বলে জানাচ্ছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা- বিবিসি।

আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা আরসা বলছে, বর্মী সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখায় সামরিক বাহিনীর উপর তারা সবশেষ এই আক্রমণটি চালিয়েছে। আরসা আরো বলছে, দেশটির নেত্রী অং সান সু চি রাখাইনে সামরিক অভিযান বন্ধের আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের উপর সেনাবাহিনীর নিপীড়ন নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে।

আজ রবিবার আরসার এক বিবৃতিতে এই হামলার দাবি করে জঙ্গি দলটি সেনাবাহিনীর উপর আরো হামলা চালানোরও ঘোষণা দিয়েছে। রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এধরনের হামলা চালানো ছাড়া তাদের কাছে আর কোনো বিকল্প নেই। রাষ্ট্রীয় সমর্থনে রোহিঙ্গাদের উপর যে সন্ত্রাস চলছে তার বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।

এর ফলে রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর তৎপরতা আরো বাড়বে এবং মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এই পরিস্থিতিতে চেষ্টা করবে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমগুলো যেন সেখানে যেতে না পারে। পরিণতিতে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বদেশে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা আরো কঠিন হয়ে উঠলো।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই জঙ্গি বাহিনীর তৎপরতা সম্পর্কে খুব কমই শোনা যাচ্ছিলো। আগস্ট মাসে নিরাপত্তার বাহিনীর উপর বেশ কয়েকটি হামলার পর এই বিদ্রোহীরা খুব একটা তৎপর ছিলো না। আগস্টের পর রাখাইন রাজ্যের অধিকাংশ রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে আসার কারণে আরসা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তখনই তাদের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়া হয়।

তবে গত শুক্রবার সেনাদের বহনকারী গাড়িতে হামলা চালানোর ঘটনা প্রমাণ করছে যে এখনও কিছু রোহিঙ্গা জঙ্গি সেখানে রয়ে গেছে। আরসার পক্ষ থেকে এব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। তবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, একদল সশস্ত্র জঙ্গি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রোগীদের বহনকারী সেনাবাহিনীর একটি গাড়িতে হামলা চালায়।

এতে দু’জন সেনা এবং একজন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়। মিয়ানমার সরকারের তরফ থেকে এদেরকে সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করা হলেও দেশটির সেনাবাহিনী তাদেরকে আরসা বলে উল্লেখ করেছে।